করোনায় বিশ্বব্যাপী মৃতের সংখ্যা ২ লাখ ছাড়ালো

করোনা ভাইরাস কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। প্রতিদিনই লম্বা হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। বিশ্বের ২১০টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দুই লাখের বেশি মানুষ মারা গিয়েছে। শনিবার রাতে জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটির প্রাপ্ত পরিসংখ্যান দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

সমীক্ষায় দেখা গেছে, করোনা ভাইরাসে ২.৮ মিলিয়নেরও বেশি আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে মারাত্মক প্রকোপ সহ্য হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রকে। এ নিয়ে দেশটিতে ৯ লাখ ৪৫ হাজার ২৪৯ জনের শরীরে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে। এ সময় মারা গেছেন ৫৩ হাজার ২৪৩ জন মানুষ।

মৃতের সংখ্যায় আমেরিকার পরেই রয়েছে ইউরোপের দেশ ইতালি। নতুন ৪১৫ জনসহ দেশটিতে মারা গেছেন ২৬ হাজার ৩৮৪ জনের। দেশটিতে নতুন করে শনাক্ত হয়েছে দুই হাজার ৩৫৭ জন।

মৃতের দিক থেকে তৃতীয় স্থানে থাকা স্পেনে অবশ্য ইতালির চেয়েও বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। সেখানে আক্রান্ত হয়েছেন দুই লাখ ২৩ হাজার ৭৫৯ জন। আর মারা গেছেন ২২ হাজার ৯০২ জন। এছাড়া, ফ্রান্সে ২২ হাজার ৬১৪ জন, ব্রিটেনে ২০ হাজার ৩১৯, জার্মানিতে ৫ হাজার ৮০৫ মৃত্যুবরণ করেছেন।

টোকিও’তে “স্টে হোম” বা বাড়িতে থাকার সময় শুরু

করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে সহায়তা করার জন্য শনিবার থেকে আগামী মাসের ৬ তারিখ পর্যন্ত লোকজনকে বাড়ির অভ্যন্তরে থাকার আহ্বান জানাচ্ছে টোকিও মেট্রোপলিটন সরকার।

কর্তৃপক্ষ জাপানের “গোল্ডেন উইক” বা “সোনালী সপ্তাহ” নামে পরিচিত বসন্তকালীন ছুটি অন্তর্ভুক্ত থাকা এই ১২ দিন সময়কে “বাড়িতে থাকার সপ্তাহ” বলে নির্ধারণ করেছে।

শুক্রবার টোকিও গভর্নর কোইকে ইউরিকো বলেন, লোকজনের পারস্পরিক সংযোগ ৮০ শতাংশ কমানোর কেন্দ্রীয় সরকার নির্ধারিত লক্ষ্যের বিচারে এই সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, লোকজনের কার্যক্রমের ফলাফল এর দু’সপ্তাহ পরের করোনাভাইরাস সংক্রমণের সংখ্যায় প্রতিফলিত হবে।

উল্লেখ্য, এই সময়কালের মধ্যে সপ্তাহান্ত এবং জাতীয় ছুটির দিনে বিপণী সড়কগুলোর স্বপ্রণোদিতভাবে বন্ধ রাখা দোকানগুলোকে প্রায় ৩৭ হাজার ডলার পর্যন্ত নগদ অনুদানের সুযোগ দিচ্ছে মেট্রোপলিটন সরকার।

এছাড়া, অতিরিক্ত ভিড় এড়াতে প্রায় প্রতি তিনদিনে একবারের বেশি নিত্য প্রয়োজনীয় বাজার না করার জন্যও লোকজনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে কর্মকর্তারা।