Untitled Post

Posted by admin on August 8
Posted in Uncategorized 

তাইওয়ান প্রণালীতে শান্তি বজায় রাখতে যৌথভাবে কাজ করতে সম্মত কিশিদা,পেলোসি

ক্রমবর্ধমান উত্তেজনাপূর্ণ তাইওয়ান প্রণালীতে শান্তি বজায় রাখতে এক সঙ্গে কাজ করতে সম্মত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা এবং মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি। চীনের সামরিক মহড়া ও জাপানের অর্থনৈতিক অঞ্চলে পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের একদিন পর আজ শুক্রবার এ কথা জানাল সরকার।

আজ সকালে প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদার সঙ্গে তার সরকারী বাসভবনে সাক্ষাৎ করেন ন্যান্সি পেলোসি। এ সময় কিশিদা বলেন, জাপান-যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ান প্রণালীতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এক সঙ্গে কাজ করবে।

কিশিদা আরও বলেন,”আমি স্পিকার পেলোসিকে জানিয়েছি যে, চীনের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইইজেড-সহ জাপানের জলসীমায় আঘাত করায় আমাদের জাতীয় সুরক্ষাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। জাপান এ ধরনের পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা করেছে।”

এদিকে, ন্যান্সি পেলোসির এ সফর ছিল গত ২৫ বছরের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের কোনও মার্কিন কর্মকর্তা হিসেবে তাইওয়ান আগমণ। তাঁর তাইওয়ান সফরের একদিনের মাথায় স্বশাসিত দ্বীপটি ঘিরে থাকা জলসীমায় বড় ধরনের সামরিক মহড়া শুরু করেছে চীন।

চীনের টানা হুমকি অগ্রাহ্য করে ৮২ বছরের এই মার্কিন রাজনীতিক বুধবার তাইওয়ানের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তিনি বলেছেন, তাঁর এই সফর স্পষ্ট করেছে যে, গণতান্ত্রিক তাইওয়ানকে পরিত্যাগ করবে না যুক্তরাষ্ট্র।

প্রধানমন্ত্রী কিশিদা ছাড়াও পেলোসি আজ শুক্রবার হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভের স্পিকার হিরোয়ুকি হোসোদার সাথেও দেখা করেছেন। ২০১৫ সালের পর পেলোসির এটি প্রথম জাপান সফর। বৃহস্পতিবার তিনি দক্ষিণ কোরিয়া থেকে জাপান পৌঁছান।

মন্ত্রিসভায় রদবদলে স্থলাভিষিক্ত হতে পারে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী কিশির

জাপানের মন্ত্রিসভায় রদবদলে স্থলাভিষিক্ত হতে পারেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী নোবুও কিশির।আজ শনিবার এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা।

প্রশাসনের সিনিয়র সূত্র জানায়,কিশিদা বুধবার তার মন্ত্রিসভা এবং তার ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির কার্যনির্বাহী লাইনআপ পুনর্গঠন করার পরিকল্পনা করছেন। এলডিপির নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন জোট ১০ জুলাই কাউন্সিলর পরিষদের নির্বাচনে ব্যাপক বিজয় অর্জনের পর মন্ত্রিসভায় এটিই হবে প্রথম পরিবর্তন।

কিশিদা বলেন, নতুন মন্ত্রিসভার সমস্ত মন্ত্রীদের ইউনিফিকেশন চার্চের সাথে তাদের সম্ভাব্য সম্পর্ক পর্যালোচনা করার নির্দেশ দেবেন, যা প্রায় এক মাস আগে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের হত্যার পরে জনসাধারণের তদন্তের আওতায় এসেছে।

কিশিদা তার মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের যেমন অর্থমন্ত্রী শুনিচি সুজুকি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োশিমাসা হায়াশি এবং ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির জুনিয়র কোয়ালিশন পার্টনার কোমেইটোর সদস্য ভূমিমন্ত্রী তেতসুও সাইতোকে ধরে রাখবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রশাসনের সূত্র থেকে জানায়, কিশিদার নতুন মন্ত্রিসভায় উপদল থেকে কতজন অংশ নেবেন সেদিকে মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে। প্রধান মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিরোকাজু মাতসুনো যিনি পূর্বে আবের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর অন্তর্গত, তিনি থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এলডিপির বৃহত্তম উপদলের নেতৃত্ব ছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন,রদবদলের পরে এপ্রিল থেকে আগামী অর্থবছরের জন্য একটি রাজ্য বাজেট তৈরির কাজ শুরু হবে।সরকারের আরেকটি অগ্রাধিকার হচ্ছে দেশের নিরাপত্তা জোরদার করা এবং প্রতিরক্ষা ব্যয় কতটা বাড়ানো হবে তা নির্ধারণ করা।

পশ্চিম জাপানের শহরটিতে মার্কিন পারমাণবিক বোমা হামলার ৭৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানে যোগদানের পর হিরোশিমায় একটি সংবাদ সম্মেলনে কিশিদা বলেন, “আমি সবসময় নতুন সদস্যদের নিয়ে নতুন করে শুরু করার কথা ভাবছি।আমি এখন এই পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

শহর পরিচালনার উপায় নিয়ে আলোচনাকে উৎসাহিত করেছে ওসাকার ভোটঃ জাপানি প্রধানমন্ত্রী

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সুগা ইয়োশিহেদে বলেছেন, ওসাকায় অনুষ্ঠিত এক গণভোট বড় শহরগুলো কিভাবে পরিচালনা করা উচিত, সেই আলোচনায় উৎসাহ যুগিয়েছে।

রবিবার পশ্চিম জাপানের শহরটিতে ভোটাররা, শহরটিকে বিলুপ্ত করে টোকিওর মত চারটি বিশেষ ওয়ার্ড প্রতিষ্ঠার একটি পরিকল্পনা প্রত্যাখান করেন।

পাঁচ বছর আগে অনুষ্ঠিত অপর এক গণভোটেও অনুরূপ একটি পরিকল্পনাকে প্রত্যাখ্যান করা হয়।

সুগা সাংবাদিকদের বলেন, দুই গণভোটেই সমর্থক ও বিরোধীদের সংখ্যার মধ্যে ফারাক ছিল খুব কম। তিনি বলেন, স্থানীয় অধিবাসীদের নিশ্চয়ই এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বেগ পেতে হয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী গণভোটের ফলাফল নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, স্থানীয় অধিবাসীরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সুগা বলেন, জাপানের অর্থনীতির উন্নয়নের লক্ষ্যে আঞ্চলিক এলাকাগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করার নানা উপায় নিয়ে আলোচনা হওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

টোকিওতে আজ নতুন করে ৮৭ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত

টোকিও মহানগর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার জাপানের রাজধানীতে নতুন করে ৮৭টি সংক্রমণের ঘটনা নিশ্চিত করা হয়েছে।

দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রথমবারের মত ১০০-র নিচে নেমে এসেছে।

কর্মকর্তারা জুলাই এবং অক্টোবরে আক্রান্ত হওয়ার খবর জানানো লোকের সংখ্যাও সংশোধন করে নিয়েছেন। তারা বলেন, পুনরায় পরীক্ষা করার পরে দেখা গেছে যে ৬ জনের ফলাফল ভুল করে ইতিবাচক এসেছিল।

বর্তমানে টোকিও’তে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩১ হাজার ২৯৩-এ।

ট্রাম্পের ১৮টি র‍্যালি থেকে ৩০ হাজারের বেশি করোনায় আক্রান্ত!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১৮ টি নির্বাচনী র‍্যালি থেকে প্রায় ৩০ হাজারের বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এই র‍্যালিগুলোতে অংশ নিয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৭০০ জনের বেশি মানুষ। মার্কিন স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির ‘দ্য এফেক্টস অব লার্জ গ্রুপ মিটিং অন দ্য স্প্রেড অব কোভিড-১৯ঃ দ্য কেস অব ট্রাম্প র‍্যালিস’ শীর্ষক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।

গবেষণাটিতে জুনের ২০ তারিখ থেকে সেপ্টেম্বরের ২২ তারিখ পর্যন্ত হওয়া ট্রাম্পের ১৮টি নির্বাচনী র‍্যালি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।

এই গবেষণা দলের সদস্যরা বলেন, বড়ো জনসমাবেশে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের যে সতর্ক বার্তা এবং শঙ্কা ছিল আমাদের বিশ্লেষণও দৃঢ়ভাবে সেটিকে সমর্থন করছে। ট্রাম্পের র‍্যালিগুলো যে সব কমিউনিটিতে হয়েছে সেখানকার মানুষদের কে চরম মূল্য দিতে হয়েছে।

এদিকে এই গবেষণার কথা উল্লেখ করে একটি টুইট বার্তায় ডেমোক্রেটিক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেন বলেছেন যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আপনাদের কথা ভাবেন না। এমনকি সে তার নিজের সমর্থকদের কথাও ভাবেন না।

করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর দিক দিয়ে বিশ্ব তালিকায় শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক জরিপকারী সংস্থা ওয়ার্ল্ডওমিটারের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে এ পর্যন্ত ৯৪ লাখ ২ হাজার ৫৯০ জন করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। দেশটিতে এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭২ জন।

ভূমিকম্প দূর্গত তুরস্কে রাতব্যাপী উদ্ধার কর্মকাণ্ড অব্যাহত

তুরস্ক ও গ্রীসের মধ্যবর্তী আজিয়ান সাগরে ভূমিকম্প ও সুনামির আঘাতে উভয় দেশে অন্তত ২৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। তুরস্কে, উদ্ধারকারীরা ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনের ভেতরে আটকে পড়া লোকজনের সন্ধানে সারা রাত ধরে উদ্ধার কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন।

গতকাল অপরাহ্নে, ৭ মাত্রার এই শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এই ভূমিকম্পের ফলে সুনামি ঢেউয়েরও সৃষ্টি হয়।

তুরস্ক ও গ্রীসের কর্তৃপক্ষগুলো, ভূমিকম্পের আঘাতে মোট প্রায় ৮শ ১২ জন আহত হয়েছেন বলে জানায়।

প্রায় ৪ হাজার উদ্ধারকর্মী, সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত পশ্চিম তুরস্কের ইযমির প্রদেশে গিয়ে পৌঁছেছেন।

স্থানীয় টেলিভিশন, এপর্যন্ত প্রায় ৭০ ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানায়।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে, ভূমিকম্প পরবর্তী কম্পন অব্যাহত রয়েছে। তুরস্কের সরকার, ভেঙ্গে পড়ার সম্ভাবনা থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোতে প্রবেশ না করতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করছে।

করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে নতুন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার পরীক্ষা চালাচ্ছে জাপান

জাপান সরকার, অর্থনীতিকে সমর্থন দেয়ার পাশাপাশি ভাইরাসের বিস্তার রোধে নানা ধরণের পদক্ষেপ পরীক্ষা করে দেখছে। সম্প্রতি নতুন সংক্রমণের দৈনিক সংখ্যা কিছুটা হ্রাস পাওয়ার মাঝে এই পদক্ষেপ নেয়া হল।

উল্লেখ্য, গত দু’মাস ধরে দৈনিক ১ হাজারেরও কম সংক্রমণের খবর জানা যাচ্ছে, যা গ্রীষ্মের মাঝামাঝি সময়ে সংক্রমণ চূড়ায় ওঠা থেকে কম।

তবে, সাম্প্রতিক এই সংখ্যা মে মাসের শেষের দিকে সারা দেশ থেকে জরুরি অবস্থা তুলে নেয়ার সময় থেকে এখনও অনেক বেশি।

এপর্যন্ত সর্বমোট ১ লক্ষ ১ হাজার ব্যক্তি ইতিমধ্যে সংক্রমিত হয়েছেন। আর মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ৭শ’র বেশি।

এর আগে গতকাল সরকার, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ মোট নয়টি দেশ ও অঞ্চল থেকে আসা ভ্রমণকারীদের জন্য জাপানে প্রবেশের বিধিনিষেধ শিথিল করার সিদ্ধান্ত নেয়।

এছাড়া, তারা, ফেরত আসা জাপানের বাসিন্দাদের জন্যও কোয়ারেন্টাইন বা সঙ্গনিরোধ কার্যক্রমও শিথিল করছে।

প্রধানমন্ত্রী সুগা ইয়োশিহিদে বলেন, “করোনাভাইরাসকে মোকাবিলার জন্য যে বৈজ্ঞানিক জ্ঞান অর্জন করা হয়েছে, তা ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং সামাজিক কার্যক্রমের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করব।”

জাপানে বিনোদনকারীদের জন্য পরামর্শ দানের সেবা চালু করা হবে

জাপান অ্যাকটরস্‌ ইউনিয়ন, তাকেউচি ইউকো এবং মিউরা হারুমা’র মত অভিনেতাদের আপাতদৃষ্টে আত্মহত্যা করার ধারাবাহিক ঘটনা’র পর, বিনোদন শিল্পের সাথে জড়িত লোকজনকে উপদেশ পরামর্শ দেওয়ার জন্য একটি পরিসেবা চালু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

প্রায় ২ হাজার ৬শো অভিনেতা ও কণ্ঠ অভিনেতা এই ইউনিয়নের সদস্য। বিনোদন জগতের লোকেদের পক্ষে যেহেতু সাধারণ মানুষের জন্য দেওয়া পরিসেবা ব্যবহার করতে অসুবিধা হয়, তাই ইউনিয়ন এদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা আশা করছে এবছরের শেষ দিকের মধ্যে পরিসেবাটি চালু করা সম্ভব হবে।

ইউনিয়ন বলছে এই পরিসেবায় একটি ব্যবস্থায় বিনোদন জগতের লোকেরা, কর্মক্ষেত্র বা ব্যক্তিগত জীবন নির্বিশেষে যেকোনো ব্যাপারে আবেগজনিত মানসিক কষ্টের বিষয়ে ক্লিনিক্যাল মনস্তত্ত্ববিদের কাছ থেকে ইমেইল মারফত উপদেশ-পরামর্শ নিতে পারবেন।

অন্যান্য ব্যবস্থার মধ্যে থাকবে যৌন হয়রানী সংক্রান্ত ব্যাপারে বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে পরামর্শ নেওয়া এবং চুক্তি সংক্রান্ত বিষয়ের মত বিভিন্ন ক্ষেত্রে আইনজীবিদের কাছ থেকে পরামর্শ পাওয়ার সুবিধা।

টোকিও’তে শুক্রবার নতুন করে ২০৪ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত

টোকিও মহানগর কর্তৃপক্ষ জাপানের রাজধানীতে শুক্রবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত নতুন করে ২০৪ জনের করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কথা নিশ্চিত করেছে।

নতুন করে সংক্রমিত হওয়া লোকের সংখ্যা পর পর দু’দিন ২০০’র উপরে রয়েছে এবং পর পর ১১ দিন ১০০’র উপরে রয়েছে।

টোকিও’তে ভাইরাসের পরীক্ষায় ফলাফল পজেটিভ হওয়া লোকের মোট সংখ্যা এখন ৩০ হাজার ৮৮১।

করোনা: ছয় মাসের মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু দেখলো ফ্রান্স

ফ্রান্সের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার জানিয়েছে যে দেশটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫২৩ জন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এটি ফ্রান্সে গত ছয় মাসের মধ্যে করোনায় একদিনে সর্বোচ্চ প্রাণহানির রেকর্ড।

ফ্রান্সের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আরো জানিয়েছে যে গত একদিনে দেশটিতে নতুন করে ৩৩ হাজার ৪১৭ জন করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। যা আগের দিনের চেয়ে প্রায় ৬ হাজার ৬৪৬ জন বেশি। ফ্রান্সে এ পর্যন্ত ১১ লাখ ৯৯ হাজার করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। দেশটিতে এ পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৩৫ হাজার ৫৪১ জন।

করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসসহ আরো আট শহরে কারফিউ জারি করা হয়েছে। রাত ৯টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত বলবৎ থাকছে এই কারফিউ।

এদিকে করোনার সংক্রমণ বাড়ায় বুধবার জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ । ধারণা করা হচ্ছে, করোনার সংক্রমণ রোধে কারফিউয়ের সময়সীমা বাড়ানোর ঘোষণা দিতে পারেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট।

সংক্রমণের পুনরুত্থানের মাঝে করোনাভাইরাস-রোধী পদক্ষেপ জোরদার করছে ইউরোপ

ইউরোপীয় দেশগুলো করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নতুন করে বেড়ে চলার মাঝে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের উপর তাদের বিধিনিষেধ আরও কঠোর করে নিচ্ছে।

ইতালি কেবল অক্টোবর মাসেই ২ লক্ষেরও বেশি নতুন সংক্রমণের খবর নিশ্চিত করে। ফলে সেদেশে মোট সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়ায় ৫ লক্ষ ৪০ হাজারের উপরে। ইতালীয় সরকার সোমবার থেকে শুরু করে রেস্তোরাঁগুলোকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ করে দেয়ার নির্দেশ দেয়।

রাজধানী রোমে, এক রেস্তোরাঁ মালিক এই বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে, নতুন বিধিনিষেধ প্রচুর ক্ষতি বয়ে আনতে পারে যা পুনরুদ্ধার করা হয়তো সম্ভব হবে না।

রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীদের একটি সমিতি অনুমান করছে, রেস্তোরাঁ শিল্প এই নতুন ভাইরাস-রোধী পদক্ষেপসমূহ থেকে ২৭০ কোটি ইউরো বা প্রায় ৩১০ কোটি মার্কিন ডলারের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

জার্মানি গত সপ্তাহ থেকে কোভিড-১৯’এর দৈনিক সংক্রমণের সংখ্যা ১০ হাজারেরও বেশি হয়েছে বলে জানায়।

সংক্রমণের এই পুনরুত্থান নুরেমবার্গ’এর বিশ্ববিখ্যাত ক্রিসমাস বাজারের কর্তৃপক্ষকে চলতি মৌসুমের জন্য এর কার্যক্রম বাতিল করে দিতে বাধ্য করে।

জার্মানির অন্যান্য ক্রিসমাস বাজারগুলোও হয় বাতিল করা হয়েছে, নতুবা ছোট পরিসরে আয়োজিত হচ্ছে।

ইউরোপ জুড়ে এই উদ্বেগ বেড়ে চলেছে যে, কঠোর বিধিনিষেধ অর্থনীতির উপর আরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

জাপানের লোকালয়ে ৫ বছরের মধ্যে রেকর্ড সংখ্যক ভালুক দেখতে পাওয়া গেছে

জাপান সরকারের কর্মকর্তারা ৫ বছরের মধ্যে সারা দেশের বিভিন্ন লোকালয়ে রেকর্ড সংখ্যক ভালুক দেখতে পাওয়ার পরে এক জরুরি বৈঠকের আয়োজন করেছেন।

এনএইচকে জানতে পেরেছে যে, ১লা সেপ্টেম্বর থেকে ২৩শে অক্টোবরের মধ্যে ভালুকের আক্রমণে কমপক্ষে ৬৩ ব্যক্তি আহত হয়েছেন এবং এদের মধ্যে দু’জন পরে মারা যান।

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় পুলিশ এজেন্সির কর্মকর্তারা লোকালয়ে চলে আসা এবং লোকজনকে আক্রমণ করা ভালুক সামাল দেয়ার উপায় নিয়ে আলোচনার জন্য সোমবার এক বৈঠক করেন।

পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের নাকাও ফুমিকো বলেন, এ ব্যাপারে জনগণের আগ্রহ বেড়ে চলেছে। তিনি সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতি আরও আক্রমণ রোধের জন্য ঘনিষ্ঠভাবে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।

বৈঠকে অংশগ্রহণকারীদের বলা হয়, এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৩ হাজার ৬৭০টি ভালুককে লোকালয়ে দেখতে পাওয়ার খবর পাওয়া গেছে যা গত ৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।

তারা এও জানতে পারেন যে, ভালুকের খাদ্য ওক গাছের ফল এবং অন্যান্য খাবার তাদের প্রাকৃতিক আবাসভূমিতে দুষ্প্রাপ্য হয়ে পড়েছে।

কর্মকর্তারা ভালুক নিয়ে তথ্য ভাগাভাগির জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষসমূহকে আহ্বান জানানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর নিজেদের মধ্যে তথ্য ভাগাভাগির উপায় নিয়ে আলোচনা করতে সম্মত হয়েছেন।

জাপানে কোম্পানিগুলোর বাড়ি থেকে কাজ করা কর্মীর সংখ্যা ২০ শতাংশেরও কম

এক নতুন জরিপে দেখা গেছে, জাপানে শুধুমাত্র স্বল্প সংখ্যক লোকজন বাড়ি থেকে কাজ করার নিরাপত্তা সুবিধা পাচ্ছেন। এতে দেখা গেছে যে করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে এরকম আহ্বান জানানো সত্ত্বেও ২০ শতাংশেরও কম লোকজন টেলিকমিউটিং বা বাড়িতে থেকে কাজ করছেন।

বেসরকারি “জাপান উৎপাদনশীলতা কেন্দ্র” চলতি মাসের পূর্বভাগে কোম্পানি কর্মীদের নিয়ে একটি জরিপ চালায়। তারা এটি খুঁজে পেতে চেয়েছিল যে বৈশ্বিক মহামারী বাস্তবক্ষেত্রে জাপানের লোকজনের কাজের ধরনে কোন পরিবর্তন ঘটিয়েছে কিনা।

ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, ১ হাজার ১শ জন উত্তরদাতার মধ্যে মাত্র ১৮ শতাংশ অক্টোবর মাস পর্যন্ত সপ্তাহে অন্তত একদিন বাড়িতে থেকে কাজ করেছেন।

এই কেন্দ্রের কর্মকর্তারা বলেন, আঞ্চলিক শহর এবং ছোট কোম্পানিগুলোর সম্ভবত টেলিওয়ার্ক অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রযুক্তি-ব্যবস্থা নেই।

টেলিকমিউটিং এর উৎপাদনশীলতা নিয়ে বাড়িতে থেকে কাজ করা ব্যক্তিদের মধ্যে কমবেশি বিভক্তি রয়েছে। ৫০ শতাংশ বলেছেন, তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ৪৯ শতাংশ বলেছেন, হ্রাস পেয়েছে।

 
 

করোনা মহামারির বিপজ্জনক পথে কিছু দেশ: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, বিশ্ব এখন করোনা মহামারির জটিল সন্ধিক্ষণে রয়েছে এবং বিশ্বের কয়েকটি দেশ বিপজ্জনক পথে রয়েছে। আগামী কয়েক মাস খুবই কঠিন হবে ।

শুক্রবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রেয়াসুস এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে গেব্রেয়াসুস বলেন, আমরা করোনা মহামারির জটিল সন্ধিক্ষণে রয়েছে, বিশেষ করে উত্তর গোলার্ধে। আগামী কয়েক মাস খুবই কঠিন হতে যাচ্ছে এবং কিছু দেশ বিপজ্জনক পথে রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, অপ্রয়োজনীয় মৃত্যু ঠেকাতে আমরা নেতাদের দ্রুত পদক্ষেপ নিতে, প্রয়োজনী স্বাস্থ্যসেবায় ধস বন্ধে এবং স্কুলগুলো আবারও বন্ধ হওয়া ঠেকানোর আহ্বান জানাচ্ছি। আমি ফেব্রুয়ারিতে যেমনটা বলেছিলাম, সেটি আবারও বলছি। এটি মহড়া নয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান বলেন, ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের জন্য দেশগুলোকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। পরীক্ষা বাড়ানোর মাধ্যমে করোনা রোগী শনাক্ত করে তাদের আইসোলেশনে পাঠালে দেশগুলোকে আর লকডাউন জারি করতে হবে না।

টোকিও অলিম্পিকের টিকিট ফেরতযোগ্য হবে

এনএইচকে জানতে পেরেছে যে, টোকিও অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিকের আয়োজক কমিটি জাপানে বিক্রিত টিকিটের অর্থ ফেরত দেয়ার পরিকল্পনা করছে। খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

করোনাভাইরাস বৈশ্বিক মহামারীর কারণে চলতি বছর স্থগিত হওয়ার পর আগামী বছর এই ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানের সূচি নির্ধারিত আছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রসমূহ বলছে, স্থগিতকরণের কারণে লোকজন সম্ভবত এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না বিবেচনায় টিকিটের মূল্য ফেরত দেয়ার পরিকল্পনা করছে কমিটি।

তারা বলছেন, নভেম্বরের ১০ তারিখ নাগাদ থেকে অলিম্পিক এবং ডিসেম্বরে প্যারালিম্পিকের জন্য কেনা টিকিট প্রায় ২০ দিন ধরে ফেরত দেয়া গৃহীত হবে।

উল্লেখ্য, জাপানে প্রায় ৪৪ লক্ষ ৮০ হাজার অলিম্পিক টিকিট এবং প্রায় ৯ লক্ষ ৭০ হাজার প্যরালিম্পিক টিকিট বিক্রি হয়েছে। কমিটি বলেছে, স্থগিতকরণের পরও সেগুলো এখনও বৈধ কারণ ক্রীড়ার সময় সূচি একই রয়েছে।