জাপানের অদূরে বিশাল ভূমিকম্প থেকে দেখা দেয়া সুনামির প্রচণ্ডতার নতুন হিসাব

জাপান সরকারের একটি প্যানেল ভূমিকম্প এবং সমুদ্র তলদেশের জাপান ট্রেঞ্চ অথবা চিশিমা ট্রেঞ্চের যে কোন এক অংশে এর থেকে দেখা দেয়া সুনামির ঢেউয়ের সম্ভাব্য মাত্রা পরীক্ষা করে দেখছে।

চিশিমা ট্রেঞ্চের লক্ষ্য ধরে নেয়া জায়গা কুরিল দ্বীপমালা থেকে হোক্কাইদো পর্যন্ত বিস্তৃত এবং অন্যদিকে জাপান ট্রেঞ্চের বিস্তৃতি হচ্ছে হোক্কাইদো থেকে ইওয়াতে জেলা পর্যন্ত। উত্তর-পূর্ব জাপানে আঘাত হানা ২০১১ সালের দুর্যোগের পর এই গবেষণা শুরু হয়।

প্যানেলের সর্বশেষ হিসাবে বলা হয়েছে চিশিমা ট্রেঞ্চ বরাবর আঘাত হানা ভূমিকম্পের প্রচণ্ডতা হবে ৯.৩।

হোক্কাইদোর পূর্বাঞ্চলের অংশ বিশেষের উপর জাপানি পরিমাপকে শূন্য থেকে সাত মাত্রা পর্যন্ত হিসাবে ছয়ের চাইতে বেশি থেকে সাত মাত্রার প্রচণ্ডতার ভূমিকম্প আঘাত হানবে। হোক্কাইদোর পূর্বাঞ্চলের বিস্তৃত এলাকা জুড়ে ২০ মিটারের বেশি উচ্চতার সুনামি দেখা যেতে পারে।

জাপান ট্রেঞ্চ বরাবর আঘাত হানা ভূমিকম্পের প্রচণ্ডতা হবে ৯.১। আওমোরি এবং ইওয়াতে জেলার অংশ বিশেষে ছয় মাত্রার বেশি প্রচণ্ডতার ভূকম্পন অনুভব করা যেতে পারে।

উত্তর-পূর্ব জাপানে সুনামির ঢেউ ১০ মিটারের বেশি উঁচু হবে। ইওয়াতে জেলার মিইয়াকো শহরে ২৯.৭ মিটার পর্যন্ত উচ্চতার সুনামি আঘাত হানতে পারে। কোন কোন এলাকায় আঘাত হানা ঢেউয়ের উচ্চতা ২০১১ সালের উচ্চতার চাইতে বেশি হতে পারে।

এসব এলাকায় অতীতে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানায় প্যানেল বলছে বিশাল আকারের সুনামি যে কোন সময় আঘাত হানতে পারে। নতুন এসব হিসাবের উপর ভিত্তি করে ক্যাবিনেট অফিস আগামী বছর মার্চ মাসের মধ্যে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা পরিমাপ করে দেখা এবং দুর্যোগ নিয়ন্ত্রণ পদক্ষেপ ঠিক করে নেয়ার পরিকল্পনা করছে।

আরও ১০টির বেশি দেশকে প্রবেশ নিষেধ তালিকায় যুক্ত করছে জাপান

করোনাভাইরাস সংক্রমণের বিস্তার হ্রাসে সাহায্য করার জন্য জাপান দশটির বেশি দেশের নাগরিকদের জাপানে প্রবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা করছে। এই সংযোজন হচ্ছে ইতিমধ্যে নিষেধাজ্ঞা আরোপিত ৭৩টি দেশ ও ভূখণ্ডের বাইরে।

এনএইচকে জানতে পেরেছে যে জাপানে পৌঁছার আগে ১৪ দিনের মধ্যে যেসব বিদেশী নাগরিক রাশিয়া, বেলারুশ, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও অন্য কয়েকটি দেশে গিয়েছিলেন, জাপান সরকার তাদের প্রবেশ অনুমতি না দেয়ার পরিকল্পনা করছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেইসব দেশের বেলায় সংক্রামক রোগের সতর্কতা তৃতীয় মাত্রায় উন্নীত করে নেবে, যার অর্থ হল জাপানি নাগরিকদের সেসব দেশ ভ্রমণে না যাওয়ার সুপারিশ করা।

অন্যান্য অঞ্চলের বেলায় ইতিমধ্যে প্রদান করা ভিসা সরকার বাতিল করে দিয়েছে।

চলতি মাসে শেষ হতে যাওয়া এসব পদক্ষেপের মেয়াদ বাড়িয়ে নেয়ার পরিকল্পনা সরকার করছে।