সেবা গ্রহণ হ্রাসে বয়োবৃদ্ধদের উপর নেতিবাচক প্রভাব

জাপানে পরিচালিত এক জরিপে, বৈশ্বিক করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের ফলে নার্সিং সেবা গ্রহণ থেকে বিরত থাকা দেশের বয়োবৃদ্ধ নাগরিকরা দেহের পেশীর দুর্বলতা এবং বোধ বুদ্ধি হ্রাস পাওয়া সমস্যায় ভুগছেন বলে প্রতীয়মান হয়েছে।

শুকুতোকু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইউকি ইয়াসুহিরো, চলতি মাসে অনলাইনে বাড়ি ভিত্তিক সেবা দানের কাজে সহায়তা করা ৫শ ৩জন কর্মীর উপর একটি জরিপ পরিচালনা করেন।

উত্তরদাতাদের ৮২ শতাংশ, তাঁদের সেবা গ্রহীতাদের মধ্যে এক বা ততোধিক জ্যেষ্ঠ নাগরিক সেবা গ্রহণ কমিয়ে দিয়েছেন বলে জানান।

৬২ শতাংশ উত্তরদাতা, সেবা গ্রহণ হ্রাস করা লোকজনের মধ্যে দৈহিক ও বোধ বুদ্ধি হ্রাস পাওয়ার বিষয় শনাক্ত করতে পেরেছেন বলে জানান। এঁদের মধ্যে ২১ শতাংশ, এইধরনের ঘটনার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক উচ্চ বা উচ্চ বলে উল্লেখ করেন।

প্রশ্নপত্রটিতে জনৈক উত্তরদাতা, সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার ফলে বয়োবৃদ্ধদের মধ্যে একধরনের হতাশা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন।

অপর একজন উত্তরদাতা, নিজেদের জীবনযাত্রার ধরন পাল্টে যাওয়ায় বয়োবৃদ্ধদের দৈহিক এবং বোধ বুদ্ধি হ্রাস পেয়ে চলেছে বলে উল্লেখ করেন।

অধ্যাপক ইউকি, এই ফলাফল থেকে এমনকি অল্প সময়ের জন্য নার্সিং সেবা বন্ধ রাখা হলে সেটি বয়োবৃদ্ধদের দৈহিক ও বোধ বুদ্ধির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে উল্লেখ করেন।

তিনি, সংক্রমণ প্রতিরোধী পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে সেবাদানকারী কর্মীরা যাতে সেবা প্রদান অব্যাহত রেখে যেতে সক্ষম হয় সেজন্য এই খাতে আরও সহায়তা প্রদানের আহ্বান জানান।

বাদুড়ের জীবন্ত ৩টি করোনা ভাইরাস ছিল উহানের সেই ল্যাবে!

গত বছর ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে উৎপত্তি হয় প্রাণঘাতী নোভেল করোনা ভাইরাসের। করোনার উৎপত্তির পর অভিযোগ উঠে যে উহান ইন্সটিটিউট অব ভাইরোলজি থেকে ছড়িয়েছে এই ভাইরাস। তবে নতুন করোনা ভাইরাস সম্পর্কে আগে কোনও ধারণাই ছিল না বলে জানিয়েছেন উহান ভাইরোলজি ইন্সটিটিউটের পরিচালক ওয়াং ইয়ানয়ি।

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিজিটিএনকে দেয়া সাক্ষাতকারে ওয়াং ইয়ানয়ি জানায়, উহান ইন্সটিটিউট অব ভাইরোলজিতে বাদুড়ের জীবন্ত তিনটি করোনা ভাইরাস নিয়ে গবেষণা চলছিল। তবে ওগুলোর সঙ্গে নতুন করোনা ভাইরাসের মিল নেই। উহানের ভাইরাস ল্যাব থেকে করোনা ছড়িয়েছে এমন অভিযোগকে খাঁটি বানোয়াট গল্প বলে আখ্যায়িত করেন ওয়াং ইয়ানয়ি।

ভাইরাস নিয়ে অন্যতম শীর্ষ গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ইয়ানয়ি সাক্ষাতকারে বলেন, আমরা বাদুড়ের তিনটি জীবন্ত করোনা ভাইরাস নিয়ে কাজ করছিলাম। আমরা সার্স ভাইরাসের উৎস খোঁজার জন্যই গবেষণা করছিলাম। কিন্তু ওই সব ভাইরাসের সঙ্গে নতুন করোনা ভাইরাসেরর মিল প্রায় ৮০ শতাংশ। আর আমরা জানি নতুন করোনা ভাইরাসের সঙ্গে সার্সেরও ৮০ শতাংশ মিল রয়েছে। তবে ৮০ শতাংশ মিল মানে এখানে অবশ্যই পার্থক্য আছে।

ওয়ার্ল্ডওমিটারের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে এ পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৫৪ লাখ ৮ হাজার ১৮৭ জন। মারা গেছেন ৩ লাখ ৪৪ হাজার ৪১ জন।