জাপানের তরুণেরা শহরের বাইরে কাজ খুঁজছেন

জাপানের একটি কর্মসংস্থান তথ্য সেবা কোম্পানি বলছে, চলমান করোনাভাইরাস বৈশ্বিক মহামারী শুরু হওয়ার পর ক্রমবর্ধমান সংখ্যক শহরে বসবাসরত তরুণ কর্মী নগর এলাকা থেকে দুরে কাজের প্রত্যাশা করছেন।

গাকুজো কোম্পানি বয়স বিশের কোঠায় থাকা নতুন কাজ খোঁজা তরুণদের উপর চালানো এক জরিপে জানতে চায় এই প্রাদুর্ভাব তাদের উপর কিভাবে প্রভাব ফেলছে। এপ্রিল মাসের ২৪ তারিখ থেকে মে মাসের ১ তারিখ পর্যন্ত অনলাইনে এই জরিপ চালানো হয়। প্রায় ৩শ ৬০ ব্যক্তি এতে সাড়া দেন।

তাদের মধ্যে ৩৬ শতাংশ জানায় যে তারা গ্রামীণ এলাকায় কাজ করতে চান। এটি ফেব্রুয়ারি মাসে পরিচালিত এর পূর্বের সমীক্ষার চাইতে প্রায় ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি।

এর কারণ জানতে চাওয়া হলে কেউ কেউ বলেন, বাড়ি থেকে কাজ করার সময় তারা এটি অনুধাবন করেছেন যে তারা যে কোন স্থান থেকেই কাজ করতে সমর্থ হবেন।

অন্যদের মতে, নগর এলাকায় কাজ তাদের কাছে খুব ঝুঁকিপূর্ণ মনে হয়েছে। আর অন্যরা বলেছেন, তারা তাদের নিজ শহরে ফিরে যেতে চান।

কোম্পানি কর্মকর্তারা বলছেন, সংক্রমণ রোধে লোকজনের প্রতি জানানো আন্তঃজেলা সীমানা অতিক্রম না করার অনুরোধ তুলে নেয়ার পর আরও বেশি সংখ্যক তরুণ কাজের জন্য আঞ্চলিক এলাকার দিকে যাবে।

জরুরি অবস্থা প্রত্যাহারের পরও সতর্ক থাকার আহ্বান

জাপান সরকার, দেশের অধিকাংশ জেলা থেকে জরুরি অবস্থা প্রত্যাহারের পরও করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ অব্যাহত রাখতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।

উল্লেখ্য গত বৃহস্পতিবার, টোকিও ও ওসাকা সহ অন্যান্য ৮টি জেলা ছাড়া অবশিষ্ট ৩৯টি জেলা থেকে জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।

তবে গত শুক্রবার, জরুরি অবস্থা বিরাজমান থাকা ৮টি জেলাতেও একদিন আগের তুলনায় বেশি সংখ্যক লোকজনকে বাইরে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়।

শনিবার অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন বিষয়ক মন্ত্রী নিশিমুরা ইয়াসুতোশি, দৃশ্যত লোকজনের মধ্যে কিছুটা প্রসন্নতা প্রত্যক্ষ করে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তিনি, দক্ষিণ কোরিয়া ও জার্মানিতে প্রতীয়মান হওয়া পরিস্থিতির মত প্রথমবারের সদৃশ সংক্রমণের ২য় ঢেউ আসার সম্ভাবনা থাকার বিষয়েও সতর্কতা উচ্চারণ করেন।

সরকার আগামী বৃহস্পতিবার অবশিষ্ট ৮টি জেলা থেকে জরুরি অবস্থা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়ার পরিকল্পনা বিবেচনা করায় সংক্রমণের ঘটনার পুনরুত্থানের সম্ভাবনা পর্যবেক্ষণ করছে।

সরকার, বিশেষ করে নাইটক্লাব, লাইভ সঙ্গীতানুষ্ঠান, কারাওকে পারলার এবং স্পোর্টস জিমসহ অন্যান্য স্থানে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা ও অন্যান্য পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানানোরও ইচ্ছা পোষণ করছে।