ঋতুর পরিবর্তন করোনার সংক্রমণে প্রভাব ফেলছে না: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

ঋতুর পরিবর্তন প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে কোনো প্রভাব ফেলছে না বলে সতর্ক করে দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বুধবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে এক সংবাদ সম্মেলনে এমনটি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরুরি বিষয়ক শীর্ষ বিশেষজ্ঞ মাইক রায়ান বলেন, আমাদের কাছে খুব অল্প প্রমাণ আছে যে ঋতু পরিবর্তনের কারণে করোনার সংক্রমণ প্রভাবিত হচ্ছে। আমরা এই আশার ওপর নির্ভর করতে পারি না যে ঋতু পরিবর্তন অথবা তাপমাত্রা বাড়লে আমরা এর উত্তর খুঁজে পাবো। এখন আমাদের কাছে এমন কোনো তথ্য নেই যেখান থেকে আমরা বলতে পারবো যে ঋতু পরিবর্তন হলে ভাইরাসটি আরো আক্রমণাত্বকভাবে অথবা আরো দ্রুত ছড়াবে কি না।

মহামারিটির শুরু হওয়ার প্রথম দিকে অনেক বিশেষজ্ঞই পরামর্শ দিয়েছিলেন যে গরমে করোনার প্রকোপ কমে যেতে পারে। তবে দিন যতই যাচ্ছে সেই ধারণা ততই ফিকে হয়ে যাচ্ছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ২০ লাখ ছাড়াল

যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ২০ লাখ ছাড়িয়েছে। বুধবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের পক্ষ থেকে এমনটি বলা হয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত পাঁচ সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্রে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা কম থাকলেও তা আবার বাড়তে শুরু করেছে। কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জর্জ ফ্লয়েড হত্যার প্রতিবাদে হওয়া আন্দোলনের সময় সামাজিক দূরত্ব না মানায় সামনের কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে জর্জ ফ্লয়েড হত্যার প্রতিবাদে যারা আন্দোলন করেছেন তাদের সবাইকে করোনা ভাইরাস টেস্ট করার জন্য মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের ধারণা যুক্তরাষ্ট্রে গত জানুয়ারিতে হানা দেয় করোনা ভাইরাস। এপ্রিলের ২৮ তারিখে দেশটিতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ১০ লাখে পৌঁছায়। জুনের প্রথম থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন গড়ে ২১ হাজার মানুষ করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন। তবে গত এপ্রিলে দেশটিতে গড়ে ৩০ হাজার মানুষ প্রতিদিন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে এ পর্যন্ত করোনায় ১ লাখ ১২ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর দিক থেকে বিশ্বে শীর্ষে অবস্থান করছে যুক্তরাষ্ট্র।

ওয়ার্ল্ডওমিটারের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ২০ লাখ ৬২ হাজার ১৬২ জন। মারা গেছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ১০ জন।