জাপানে করোনা ভাইরাসের আরও ১৫টি নতুন সংক্রমণ

আজ জাপানে, করোনা ভাইরাসের বেশ কয়েকটি নতুন সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে।

উত্তরাঞ্চলীয় জেলা হোক্কাইদোর কর্মকর্তারা বলেন যে, ১০এর কোঠার বয়সী একটি মেয়েসহ ৮ ব্যক্তি নতুন করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন। এর ফলে, জেলাটিতে সংক্রমিতের সংখ্যা ১৬ জনে উন্নীত হয়েছে।

টোকিওর পার্শ্ববর্তী চিবা জেলার কর্তৃপক্ষ, জেলাটিতে ৩টি এবং টোকিওতে ১টি নতুন সংক্রমণের ঘটনার বিষয় জানান।

জাপানের অন্যান্য স্থানের মধ্যে, কুমামোতো জেলায় দুটি এবং ওয়াকায়ামা জেলায় একটি নতুন সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে।

কর্তৃপক্ষ জানায় যে, আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত জাপানে মোট সংক্রমিত ব্যক্তির সংখ্যা ৭৫৮ জনে পৌঁছেছে।

ইতোমধ্যে জাপান, নতুন করোনাভাইরাসে সংক্রমিত রোগীদের চিকিৎসার জন্য ফ্লু প্রতিরোধক ওষুধ ব্যবহারের কথা বিবেচনা করছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী কাৎসুনোবু কাতো, আজ সাংবাদিকদেরকে এ কথা জানান।

তিনি বলেন যে, কার্যকর বলে প্রমাণিত হলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই ওষুধ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।

কাতো বলেন, বিদেশে নতুন করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর বলে যে সব ওষুধের কথা বলা হয়েছে ‘আভিগান’ হচ্ছে মন্ত্রণালয়ের বিবেচনাধীন সে সব ওষুধের মধ্যে কেবল একটি।

চীনে মৃতের সংখ্যা ২ হাজার ৩শ ছাড়িয়ে গেছে

চীনের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ, আরও ১০৯ জনের প্রাণহানির সংবাদ দেয়ায় মৃতের মোট সংখ্যা ২ হাজার ৩শ ছাড়িয়ে গেছে। মোট সংক্রমণের সংখ্যা এখন ৭৬ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। নতুন করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব আরম্ভ হওয়া হুবেই প্রদেশে অধিকাংশ সংক্রমণের ঘটনা ঘটে।

চীনা কর্মকর্তারা, হুবেই, জেযিয়াং ও শানদং প্রদেশের বেশ কয়েকটি কারাগারে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে বলে জানান।

তাঁরা, এপর্যন্ত ৫শর বেশী কারাবন্দী ও কারারক্ষী সংক্রমিত হন বলে জানান।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, এই রোগের জন্য প্রতিষ্ঠিত কোন চিকিৎসা নেই বলে জানায়। তবে সংস্থা, এইচআইভির চিকিৎসায় ব্যবহৃত ভাইরাস প্রতিষেধকের মিশ্রণসহ দুটি ক্লিনিকাল পরীক্ষার ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করছে বলে জানায়।

আগামী ৩ সপ্তাহের মধ্যে এই ফলাফল পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। চীনা কর্মকর্তারা, আগামী এপ্রিল মাসের শেষ নাগাদ থেকে একটি প্রতিষেধক ব্যবহার করে ক্লিনিকাল পরীক্ষা আরম্ভ করা হতে পারে বলে জানান।

দক্ষিণ কোরিয়ার কর্তৃপক্ষ, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর থেগুকে বিশেষ সতর্ক এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

বর্তমানে, দেশটিতে, সংক্রমণের সংখ্যা, ৪৩০ ছাড়িয়ে গেছে।
কর্মকর্তারা, দেশটিতে সংক্রমিতদের অর্ধেকের বেশী রোগী হচ্ছে থেগুর অধিবাসী বলে উল্লেখ করেন।

সংক্রমিতদের অধিকাংশই, এর আগে একজন সংক্রমিত মহিলা যে গির্জায় যান তাঁরাও একই গির্জায় যান বলে জানা গেছে।

ভাইরাসটি বর্তমানে, ২৪টির বেশী দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। ইতালির সংবাদ মাধ্যম, দেশটিতে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা জানায়। মৃত ব্যক্তিটি হচ্ছেন, ইতালির উত্তরাঞ্চলীয় অংশের ৭৮ বছর বয়সী এক পুরুষ। এতে, উক্ত ব্যক্তির চীন সফরের কোন রেকর্ড ছিল না বলে উল্লেখ করা হয়।