করোনাভাইরাস; মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২২৪৭

চীনের প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের আরও ১১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে সারাবিশ্বে সবমিলিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২৪৭ জনে। আজ শুক্রবার সিএনএনের প্রতিবেদনে এতথ্য জানানো হয়েছে।

মৃতের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বেড়েছে। এখন পর্যন্ত চীনে মারা গেছেন ২২৩৬ জন, আর চীনের বাইরে মৃত্যু হয়েছে ১১ জনের।

সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, চীনে ৭৫ হাজার ৪৬৫ জনের শরীরের এই ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। বিশ্বে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৬ হাজার ৬৯১ জনে।

গত ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহানে করোনার সংক্রমণ শুরু হয়। এরপর আস্তে আস্তে তা বিশ্বের ৩০টিরও বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়ে।

হুবেইয়ের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রদেশটিতে এখন পর্যন্ত ৬২ হাজার ৪২২ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে দুই হাজার ১৪৪ জনের।

প্রমোদতরীতে ভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবেলা পদক্ষেপের পুন:মূল্যায়ন করবে জাপান

প্রমোদতরী ডায়মন্ড প্রিন্সেসের নতুন করোনাভাইরাসের গণসংক্রমণ সামাল দেয়ার পদ্ধতি পুন:পরীক্ষার পরিকল্পনা করছে জাপান সরকার।

ইয়োকোহামার বন্দরে কোয়ারেন্টাইনের অধীনে থাকা জাহাজটিতে প্রায় ৩,৭০০ যাত্রী এবং ক্রুসদস্য ছিল।

যাদের ভাইরাসের সংক্রমণ পরীক্ষায় নেতিবাচক ফল পাওয়া গিয়েছিল এবং পর্যবেক্ষণে থাকা দু’সপ্তাহ সময়ের মধ্যে কোন লক্ষণ দেখা যায়নি তারা বুধবার থেকে জাহাজ ত্যাগ করছিলেন।

তবে বুধবার পর্যন্ত জাহাজে থাকা ৬২১ জনের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে।

রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিরোধ বিষয়ক মার্কিন কেন্দ্রগুলো জানিয়েছে যে কিছু যাত্রীর সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে।

জাপানের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোও সরকারের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী কাৎসুনোবু কাতো ব্যাখ্যা দেন যে জাহাজে থাকা যাত্রীদের সংক্রমণ রোধ করতে সরকার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা উল্লেখ করে যে জাপান কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে আসছে।

সরকার বলছে ভাইরাসের বিস্তার রোধ করতে তারা প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে এবং যখন দেখা যাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে তখন পদক্ষেপসমূহের পুন:মূল্যায়ন করবে।

এ ধরণের পরিস্থিতি মোকাবেলায় সহায়তার জন্য একটি আন্তর্জাতিক কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগেরও বিবেচনা করছে জাপান সরকার।

কাট, কপি এবং পেস্টের উদ্ভাবক আর নেই

কাট, কপি এবং পেস্টের উদ্ভাবক কম্পিউটার বিজ্ঞানী ল্যারি টেসলার আর নেই। ৭৪ বছর বয়সে মারা গেছেন এই প্রখ্যাত কম্পিউটার বিজ্ঞানী।

১৯৬০ সালে যখন কম্পিউটারের প্রচলন খুব একটা হয়নি তখনই প্রযুক্তি উপত্যকা খ্যাত সিলিকন ভ্যালিতে কর্ম জীবন শুরু করেন ল্যারি টেসলার। এদিকে টেসলারের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে তার দীর্ঘদিনের কর্মস্থল জেরোক্স। একটি টুইটে টেসলারের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জেরোক্সের পক্ষ থেকে বলা হয়, ধন্যবাদ তার বৈপ্লবিক চিন্তাকে যেটা আপনার কাজকে আরো সহজ করেছে।

ল্যারি টেসলারর ১৯৪৫ সালে নিউ ইয়র্কে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার স্টানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেন। স্নাতক শেষ হওয়ার পরই মূলত তিনি কম্পিউটারের কাজকে আরো সহজ করার চেষ্টা করতে থাকেন। কম্পিউটার ইউজার ইন্টারফেসে বিপ্লব ঘটিয়েছেন এই বিজ্ঞানী। বিবিসি।

করোনাভাইরাস : জাপানে সেই জাহাজে ২ জনের মৃত্যু

জাপানের ইয়োকোহামা পোর্টে আটকে পড়া ডায়মন্ড প্রিন্সেস ক্রুজ জাহাজের দুই যাত্রী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। মৃত দুজনই প্রবীণ ব্যক্তি। বৃহস্পতিবার জাপানের সরকারী সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

জাপানের সরকারি সূত্র জানিয়েছে, করোনাভাইরাসের কারণে ইয়োকোহামা বন্দরে জাহাজের ডকে এই প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটল। ওই সূত্র বলছে, মৃত ব্যক্তিরা হলেন, একজন পুরুষ এবং নারী। তাদের বয়স প্রায় ৮০ বছর। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বিস্তারিতভাবে আর কিছু জানা যায়নি।

এদিকে,জাপানের ফুকুওকা শহর কর্তৃপক্ষ একইদিন নিশ্চিত করেছে যে, সেখানে ৬০ বছর বয়সী এক বাসিন্দার দেহে করোনাভাইরাস সংক্রমণের খবর মিলেছে।

সূত্র : জাপান টাইমস

এবার করোনায় উহান হাসপাতাল প্রধানের মৃত্যু 

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে এবার উহান উচ্যাং হাসপাতালের প্রধানের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০ টা নাগাদ তিনি মারা যান।

খবরে বলা হয়েছে, লিউ ঝিমিং নামে ওই চিকিৎসক হুবেই প্রদেশের উচ্যাং হাসপাতালের প্রধান ছিলেন। এনিয়ে দেশটিতে করোনাভাইরাসে দুই প্রখ্যাত চিকিতসকের মৃত্যু হলো।

এর আগে করোনাভাইরাস সম্পর্কে প্রথম অবহিত করা চিকিৎসক লি ওয়েলিয়াং এর মৃত্যুতে দেশটিতে শোক ও চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

এদিকে সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত চিকিৎসাকর্মীর সংখ্যা ৩ হাজার ১৯ জন। এদের মধ্যে ১ হাজার ৬ শ ৮৮ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তবে চীন সরকার জানায় আক্রান্ত চিকিৎসাকর্মীর সংখ্যা ১৭ শ’ এর বেশি।

এছাড়া নতুন করে করোনাভাইরাসে ভাইরাসে চীনে আরও ৯৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৮ শ ৬৮ জনে দাঁড়ালো। সেইসঙ্গে আক্রান্তের সংখ্যা ৭২ হাজার ছাড়িয়েছে।

চীনের বাইরে প্রায় ৩০টি দেশে করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে। চীনের মূল ভূখণ্ডের বাইরে তাইওয়ান, ফ্রান্স, হংকং, ফিলিপাইন এবং জাপানে পাঁচ জন মারা গেছেন।

গত ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে করোনাভাইরাসের আবির্ভাব ঘটে। প্রতিনিয়ত এই ভাইরাসে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের শরীরে প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে শ্বাসকষ্ট, জ্বর, সর্দি, কাশির মত সমস্যা দেখা দেয়। রয়টার্স, সিএনবিসি।

ফেসবুক প্রধানের বাড়ির সামনে ব্যাপক বিক্ষোভ 

ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ করেছেন এক দল মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিকোতে প্রায় অর্ধশত মানুষ এই বিক্ষোভ করে।

 বিক্ষোভের সময় তারা স্লোগান দিতে থাকে। জাকারবার্গকে উদ্দেশ্য করে তারা বলেন- মিথ্যায় ভরা রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন ফেসবুকে বন্ধ করুন। তাদের সবার হাতেই রঙিন প্ল্যাকার্ড ছিলো। যেখানে লিখা ছিলো- ‘ফেসবুক গণতন্ত্রকে ভেঙে দিচ্ছে’, ‘জাকারবার্গ জেগে ওঠো’ ইত্যাদি।

প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এভাবে বিক্ষোভ করেন তারা। আর এ ঘটনার মধ্য দিয়ে তারা বোঝাতে চাইলেন ফেসবুকের বিরুদ্ধে সমালোচনা বাড়ছে।

কিছু প্রতিবাদকারীরা ফেসবুক থেকে ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ ভেঙে দেওয়ার এবং জাকারবার্গের পদত্যাগের আহ্বান জানান।

এক প্রতিবাদকারী জানিয়েছেন যে, সান ফ্রান্সিসকো জেনারেল হাসপাতাল থেকে যেন জাকারবার্গের নাম মুছে ফেলা হয়। আরেকজন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে জাকারবার্গের বৈঠকের জন্য ফেসবুকের সমালোচনা করেছেন।

২০২০ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন প্রচারের জেরে আগে থেকেই সমালোচনা হচ্ছিল। আইনপ্রণেতা থেকে শুরু করে চলচ্চিত্রাঙ্গনের অনেকেই সমালোচনা করেছেন ফেসবুকের।

বিক্ষোভকারীদের দাবি, ফেসবুকে নির্দিষ্ট গোষ্ঠী টার্গেট করে দেওয়া রাজনীতিবিদদের বিজ্ঞাপনের বন্ধ করে দেওয়া হোক। এদিকে ফেসবুক তাদের রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন নীতিতে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে।

জাপানের পর্যটন খাতের বিপুল পরিমাণ ক্ষতির সম্ভাবনা

নতুন করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের ফলে জাপানে চীনা পর্যটকের সংখ্যা ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে।

জাতিসংঘের একটি সংস্থা, বছরের প্রথম তিনমাসে জাপানের পর্যটন শিল্প খাতের আনুমানিক ১শ ৩০ কোটি ডলার ক্ষতির মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে।

আন্তর্জাতিক বেসরকারি বিমান চলাচল সংস্থা বা ইকাও, কোভিড-১৯ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার ফলে অর্থনীতির উপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে সংস্থার পূর্বাভাষ প্রকাশ করে।

এতে, প্রায় ৭০টি বিমান কোম্পানি চীনের মূল ভূখণ্ডে আসাযাওয়া করা সবগুলো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করে দিয়েছে এবং অন্যান্য ৫০টি বিমান কোম্পানি তাদের ফ্লাইট সংখ্যা হ্রাস করেছে বলে উল্লেখ করা হয়।

সংস্থাটি, এরফলে চীনে সরাসরি আসাযাওয়া করা বিদেশী বিমান কোম্পানির পর্যটক পরিবহনের ক্ষমতা প্রায় ৮০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

সংস্থা, নতুন করোনাভাইরাসের নেতিবাচক প্রভাব ২০০৩ সালের সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম বা সার্সের চেয়ে বেশী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধারণা করছে।

এতে, কোভিড-১৯এর প্রাদুর্ভাবের ফলস্বরূপ, সারাবিশ্বে চীনা পর্যটকের সংখ্যা ব্যাপকভাবে হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ত্রৈমাসিকে পর্যটন খাত থেকে জাপান প্রায় ১শ ২৯ কোটি ডলার রাজস্ব আয় হারাতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়।

জাপানে করোনাভাইরাসে সংক্রমণের সংখ্যা বৃদ্ধি

জাপানে করোনাভাইরাস সংক্রমণের অনেকগুলো নতুন ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। শনিবার পর্যন্ত দেশটিতে মোট সংক্রমণের সংখ্যা ৩ শো ৩০’এ উন্নীত হয়েছে, যার মধ্যে রাজধানী টোকিও’র দক্ষিণে ইয়োকোহামাতে কোয়ারেন্টাইন করে রাখা একটি প্রমোদতরীর ২৮৫ জনও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

করোনাভাইরাসে সংক্রমণের নতুন ঘটনাগুলোর মধ্যে ৮ ব্যক্তি টোকিও’তে বাস করেন। তাদের বেশিরভাগই এক ট্যাক্সিচালকের সংস্পর্শে এসেছিলেন, যার সংক্রমণের খবর বৃহস্পতিবার নিশ্চিত হওয়া যায়। এখন পর্যন্ত জাপানে ঐ ট্যাক্সিচালকের শ্বাশুড়িই হলেন একমাত্র ব্যক্তি যিনি করোনাভাইরাসের কারণে মারা গেছেন।

ওকিনাওয়ার এক ট্যাক্সিচালকও করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন। কোয়ারেন্টাইন করা প্রমোদতরীটি চলতি মাসের শুরুতে যখন দক্ষিণের এই জেলায় থেমেছিল তখন তিনি এর চার যাত্রীর সংস্পর্শে এসেছিলেন।

পশ্চিমের জেলা ওয়াকাইয়ামাতে দু’জন ডাক্তারসহ পাঁচ ব্যক্তির সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এছাড়া, অন্যান্য জায়গার মধ্যে উত্তরের জেলা হোক্কাইদোতে এখন দু’টি সংক্রমণের ঘটনা রয়েছে। আর কেন্দ্রীয় জাপানের আইচি জেলায় রয়েছে একটি।

টোকিও’র পাশের জেলা কানাগাওয়ার স্থানীয় সরকারের এক কর্মকর্তার করোনাভাইরাসের জন্য পরীক্ষায় ইতিবাচক ফল এসেছে। এই সপ্তাহের গোড়ার দিকে তিনি কোয়ারেন্টাইন করা জাহাজ থেকে সংক্রমিত লোকজনকে সরিয়ে নেয়ার সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন।

প্রমোদতরী ডায়মন্ড প্রিন্সেসে থাকা যাত্রীদের মধ্যে নতুন করে ৬৭ জন করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন বলে শনিবার নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর ফলে জাহাজে মোট সংক্রমিত ব্যক্তির সংখ্যা দাঁড়ালো ২৮৫-তে। জাহাজ থেকে সরিয়ে নেয়াদের মধ্যে ১১ জন সংকটপূর্ণ অবস্থায় রয়েছেন।

আলোচনায় খালেদা জিয়া

নেতা ও আইনজীবীদের ব্যর্থতা : মুক্তি চেয়ে পরিবারের চিঠি

রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার অঙ্গীকার, সভা-সমাবেশে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে নানা রকম হম্বিতম্বিও দিয়েছেন বিএনপি নেতারা। আইনজীবীরাও দিয়েছেন একের পর এক আশ্বাস। কারাবন্দী খালেদা জিয়াকে ভীষণ অসুস্থ অবস্থায় দেখার পর প্রতিবারই কান্নায় ভেঙে পড়েছেন স্বজনরা। দল ও আইনজীবীরা না পারলে পরিবারের পক্ষ থেকে উদ্যোগের প্রস্তাবও দিয়েছেন তারা। কিন্তু প্রতিবারই নেতা ও আইনজীবীরা জানিয়েছেন রাজপথে ও আইনি লড়াইয়ে তাকে মুক্ত করা হবে। কিন্তু দুই বছরেও খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার মতো দৃশ্যমান কোন সফলতা দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় এবার এগিয়ে এসেছেন পরিবারের সদস্যরা। বেগম জিয়ার গুরুতর অসুস্থতা, বয়স ও মানবিক দিক বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে তাঁর পরিবার। কর্তৃপক্ষ সেটি মেডিকেল বোর্ডের কাছে পাঠিয়েছে মতামতের জন্য। চিঠিতে সরকারের কাছেও দাবি জানানো হয়েছে মুক্তির। পরিবারের আবেদনের পর থেকেই আলোচনা শুরু হয়েছে বেগম জিয়ার মুক্তির বিষয়ে। প্যারোল নাকি চিকিৎসার জন্য সেটি নিয়েও চলছে গুঞ্জন।

আবেদন পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বিএসএমএমইউ ভিসি প্রফেসর ডা. কনক কান্তি বড়–য়া বলেন, আমরা বেগম জিয়ার পরিবারের কাছ থেকে একটি আবেদন পেয়েছি। সেখানে তারা উল্লেখ করেছেন বেগম খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসা করাতে চান। চিঠিটি আমরা তাঁর চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের কাছে পাঠিয়েছি। বোর্ডই ঠিক করবে বেগম জিয়ার চিকিৎসা দেশে-নাকি বিদেশে হবে। কনক কান্তি আরও জানান, বেগম জিয়া যদি চান তাহলে বিএসএমএমইউতেই তার উন্নত চিকিৎসা সম্ভব। এজন্য তাঁর সহযোগিতা প্রয়োজন। গত মঙ্গলবার খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাত শেষে বোন সেলিমা ইসলাম বলেন, বেগম খালেদা জিয়া এতটায় অসুস্থ যে, তিনি ৫ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকতে পারেন না। সে যে অবস্থায় এসেছিল এখন তার শারীরিক অবস্থা সেই অবস্থায় নেই। সে আগে হেঁটে চলে বেড়াত। এখানে ডাক্তাররা যে চিকিৎসা দিচ্ছেন তাতে কোনো উন্নতি হচ্ছে না। সেজন্য তার উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, তার বাথরুম থেকে বেডের দূরত্ব খুব সামান্য। সেখানে যেতেও তার ২০ মিনিট সময় লাগে। তার বাঁ হাতটা সম্পূর্ণ বেঁকে গেছে, এখন ডান হাতটাও বেঁকে যাচ্ছে। সে খেতে পারছে না, খেলেই বমি হয়ে যাচ্ছে। জ্বর আছে গায়ে, শরীরে প্রচন্ড ব্যথা। এমতাবস্থায় উনার উন্নত চিকিৎসা খুবই প্রয়োজন। উনার শরীর এত খারাপ এই মুহূর্তে যদি উনার উন্নত চিকিৎসা না দেওয়া যায় তাহলে উনার কী হবে-এটা আমরা বলতে পারছি না। সেলিমা ইসলাম বলেন, আমাদের আবেদন, তাকে মুক্তি দেওয়া হোক। অন্তত উন্নত চিকিৎসাটুকু করতে পারি যেন- এটাই আমাদের একমাত্র আবেদন। সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, উনার শারীরিক অবস্থা, শ্বাসকষ্ট, উনার বয়স তাদের (সরকার) বিবেচনা করা উচিত। মানবিক দিকটা বিবেচনা করে তাকে মুক্তি বা জামিন দেওয়া উচিত। সরকারের কাছে আমরা এটাই আবেদন করছি যে, তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি করছি।

খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করা হয়নি জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘তাকে (খালেদা) প্যারোলে মুক্তি দেয়ার জন্য পরিবার থেকে বিভিন্নভাবে আবেদন করা হয়েছে। যারা এ আবেদন করেন, টেলিভিশনের পর্দায় আবেদন করেন। আমি সকালেও খবর নিয়েছি, তারা লিখিতভাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে প্যারোলের জন্য আবেদন করেননি। এখন লিখিত আবেদন করলেও এ আবেদন কারণসহ যুক্তিসংগত হতে হবে। যুক্তিযুক্ত কারণ ছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্যারোল বিবেচনা করতে পারেন না, সরকার বিবেচনা করতে পারে না।’

দেশের অন্যতম জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। ৮০’র দশকে দেশ, গণতন্ত্র ও দল যখন সঙ্কটাপন্ন অবস্থায় তখনই গৃহবধূ বেগম জিয়া রাজনীতিতে পদার্পণ করেন। তার নেতৃত্বেই দেশে ৯ বছর আন্দোলনের পর গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সেই আন্দোলনে গণতন্ত্র ও জনগণের আশা-আকাক্সক্ষা-দাবির প্রতি আপোষহীন মনোভাবের কারণে খেতাব পান আপোষহীন নেত্রীর। সেই আন্দোলনের সামনের সারিতে নেতৃত্ব দেয়ার কারণে ৯১’র নির্বাচনে তার নেতৃত্বে বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতাও পায়। এর পর ৯৬’র নির্বাচন এবং ২০০১ সালের নির্বাচনেও রাষ্ট্র ক্ষমতা পায় বিএনপি। ৯৬’র আরেকটি নির্বাচনে এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা পালন করে। রাষ্ট্র ক্ষমতা ও দল পরিচালনা করতে গিয়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তাও অর্জন করেন বিএনপি প্রধান। তাই তার সুখে যেমন দেশের কোটি কোটি মানুষ হাসে, তার ব্যথায়ও কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়। অসুস্থতার খবর শুনলে গ্রামে-গঞ্জে, শহরের হাজারো মানুষ নফল নামাজ আদায় করেন, রাখেন রোজা, দোয়া-মোনাজাতেও চোখের পানি ফেলেন কোটি কোটি মানুষ।

২ বছর ৬ দিন ধরে কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। মিথ্যা, সাজানো ও রাজনৈতিক মামলায় তাকে সাজা দেয়া হয়েছে বলে দাবি করে আসছে দলটির নেতা ও আইনজীবীরা। এজন্য ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাগারে যাওয়ার পর থেকেই দলটির নেতারা আন্দোলন এবং আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে তাঁকে মুক্ত করার কথা বলে আসছেন। পুলিশের অনুমতি সাপেক্ষে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল, সভা-সমাবেশ, সেমিনার, কয়েক ঘণ্টার প্রতীকী অনশনও করেছেন তারা। দলের প্রচেষ্টায় খালেদা জিয়ার মুক্তি বিলম্বিত হওয়ায় কয়েকবার তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিজেরা উদ্যোগ নেয়ার কথা বললেও বিএনপির সিনিয়র নেতা এবং আইনজীবীরা বারবারই আশ্বস্ত করছেন মুক্ত করার। কিন্তু দুই বছর পরও যখন বেগম জিয়াকে মুক্ত করতে নেতা ও আইনজীবীরা ব্যর্থ হয়েছেন তখন এগিয়ে এসেছেন পরিবারের সদস্যরা। যেকোন উপায়ে তারা সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে মুক্ত করতে চান। বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থা এবং মানবিক দিক বিবেচনায় বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিএসএমএমইউ’র ভিসির কাছে আবেদন করেছেন তারা।

দুই বছর আগে পায়ে হেঁটে কারাগারে গিয়েছিলেন। নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন-পরিত্যক্ত কারাগারে একমাত্র কারাবন্দী হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে রাখা হয়। কারাবন্দী হওয়ার পর থেকেই শারীরিক নানা অসুস্থতা বৃদ্ধি পাওয়ার অভিযোগ করে আসছে দলটির নেতাকর্মীরা। অসুস্থতার কারণে গতবছর এপ্রিলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এর ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি ডা. শামীম বলেন, এসব জটিলতার কারণে তার হাত এবং পায়ের ছোট ছোট জয়েন্টগুলোসহ শরীরের বিভিন্ন জয়েন্ট ফুলে গেছে এবং তাতে তীব্র ব্যথা অনুভূত হচ্ছে। যার কারনে জয়েন্টগুলি শক্ত এবং বাঁকা হতে চলেছে যা কিনা অচিরেই স্থায়ী রূপ ধারণ করতে পারে এবং যার কারণে বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে অন্যের সাহায্য ছাড়া চলাফেরা, ওঠাবসা এমনকি নিজ হাতে খাবার পর্যন্তও খেতে পারছেন না।

এমন অবস্থায় বেগম জিয়ার মুক্তির জন্য রাজপথের পাশাপাশি আইনি লড়াই চালিয়ে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে দলটির নেতা ও আইনজীবীরা। বিগত ৬টি নির্বাচনে বেগম জিয়া যাদের এমপি, মন্ত্রী বানিয়েছেন, তার সরকারের সময় নানা সুযোগ-সুবিধা পেয়ে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন তাঁর খালেদা জিয়ার এই দুঃসময়ে তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

নেতাকর্মীদের অভিযোগ, এখনো যে কোন নির্বাচন এলে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের অভাব হয় না। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও ৩০০ আসনের জন্য ৪ হাজার ৫৮০জন এমপি প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বেগম জিয়ার মুক্তি আন্দোলনে তাদের ৫ শতাংশ প্রার্থীকেও পাওয়া যায় না। এমনকি সর্বশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচিত হয়ে যে ৮জন এমপি শপথ গ্রহণ করেছেন তাদের একজনও এখন পর্যন্ত কোন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ না করায় ক্ষোভ রয়েছে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে।

পরিবারের আবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, দল থেকে যেহেতু আবেদন করা হয়নি সে বিষয়টি আমরা জানি না। তিনি বলেন, দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলায় বিনা অপরাধে দুই বছরের বেশী হলো কারাবন্দী রেখে নির্যাতন করা হচ্ছে। জেলের ভেতর হত্যার চেষ্টা চলছে। ৭৫ বছর বয়সী দেশনেত্রীর অবস্থা চরম খারাপ। এখনি মুক্তি দিয়ে দ্রুত উন্নত সুচিকিৎসার ব্যবস্থা না করলে আমরা তাঁর জীবনহানীর আশঙ্কা করছি।

খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য পরিবার কি আবেদন করেছেন জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, এটা সম্পর্কে আমরা ঠিক বলতে পারব না। কারণ এটা আমরা করিনি। তার পরিবার থেকে প্যারোলের আবেদন করা হয়েছে কিনা সেটাও আমাদের জানা নেই। তিনি বলেন, আমরা তার (খালেদা জিয়া) মুক্তির জন্য আইনের সবগুলো বিষয় চেষ্টা করেছি, এখনো করে যাচ্ছি আইনগতভাবে। আমরা তো সব সময় দাবি জানাচ্ছি, আপনাদের (গণমাধ্যম) মাধ্যমেও জানাচ্ছি, আমরা হোম মিনিস্টারের সঙ্গে কথা বলেছি, পার্লামেন্টেও জানানো হয়েছে। এখন পুরো বিষয়টাই সরকারের হাতে। দ্য বল ইজ ইন দেয়ার কোর্ট। খালেদা জিয়াকে ‘শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে জামিন না দিয়ে আটক করে রাখা হয়েছে’ বলেও অভিযোগ করেন বিএনপির এই নেতা।

করোনা ভাইরাস: জাপানে ক্রুজ শিপে নতুন করে ৪৪ জন আক্রান্ত

জাপানে ডায়মন্ড প্রিন্সেস ক্রুজ শিপে নতুন করে ৪৪ জন করোনা ভাইরাস কভিড-১৯-তে আক্রান্ত হয়েছে। এনিয়ে শিপটিতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ২১৮ জনে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার এমনটি জানিয়েছে জাপানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

জাপানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কাতসুনোবু কাতো জানান, নতুন করে ৪৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে ২৯ জন জাপানি নাগরিক এবং ১৫ জন অন্যান্য দেশের।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি জাপানের ইয়োকোহামায় ক্রুজ শিপটি এসে পৌঁছানোর পর দু’সপ্তাহ ধরে এটিকে আলাদা করে রাখা হয়েছে। এর আগে গত মাসে এ জাহাজের এক যাত্রীর শরীরে এ ভাইরাস সনাক্ত হওয়ার পর তাকে হংকংয়ে নামিয়ে দেয়া হয়। জাহাজটিতে ৩ হাজার ৭শরও বেশি যাত্রী রয়েছে। জাহাজটির অধিকাংশ যাত্রীই বয়স্ক।

গত ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে করোনাভাইরাসের আবির্ভাব ঘটে। প্রতিনিয়ত এই ভাইরাসে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের শরীরে প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে শ্বাসকষ্ট, জ্বর, সর্দি, কাশির মত সমস্যা দেখা দেয়।

বিশ্বজয়ী বীরবরণ

Posted by admin on February 13
Posted in Uncategorized 

বিশ্বজয়ী বীরবরণ

এর আগেও বহুবার মাড়িয়েছেন এই পথ। এই বিসিবিই আকবরদের দ্বিতীয় ঘর। মিরপুর একাডেমি ভবনে থেকেই নিজেদের তৈরি করেছেন তারা দিনের পর দিন অনুশীলন আর অক্লান্ত পরিশ্রমে। তবে গতকাল সেই একই চত্বর যেন অচেনা এক স্বপ্নপূরী। আগের রাত থেকেই লাল-সবুজ-নীল-সাদা রঙের রঙিন বাতি দিয়ে বধু সাজে সাজিয়ে ফেলা হয়েছে হোম অব ক্রিকেট খ্যাত মিরপুর শের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়াম। দেয়ালে দেয়ালে ঝুলছে বিশাল বিশাল ব্যানার। যাতে লেখা ‘বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন’। আর এই ব্যানারে শোভা পাচ্ছে অধিনায়ক আকবর, শরিফুল ইসলামসহ বিশ্বজয়ী বীরদের ছবি।

পুরো স্টেডিয়াম চত্বর তখন লোকে লোকারণ্য। ‘আকবর’, ‘আকবর’ ধ্বনীতে মুখর মিরপুরের আকাশ-বাতাস। বিশ্বজয়ী বীরদের একনজর দেখতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছিলেন ছেলে-বুড়ে, নারী-পুরুষ, আবাল-বৃদ্ধা-বনিতা সকলেই। ভক্ত-সমর্থকদের ঢল ঠেলে ধীরে ধীরে গর্বের লাল-সবুজ পতাকায় মোড়ানো বাসটি যখন স্টেডিয়ামের প্রধান ফটক পেরিয়ে যেখানে নামবার কথা বিশ্বজয়ী যুবাদের, সেটিও সম্ভব হয়নি সাধারণের ভালোবাসার ভীড়ে। সংবর্ধনার শুরুটা হবার কথা ছিল লাল গালিচায়। সেটিও করা যায়নি ভালোবাসার চাপে। এই ভালোবাসায় ভর করেই তো বাংলাদেশে ক্রিকেটের আজকের এই অর্জন! বিশ্বজয়!

এই দিনটির জন্য কত প্রতীক্ষা। বিশ্বকাপ নিয়ে ঘরে ফিরবে বাংলাদেশের কোনো দল, এ যেন ছিল দিবাস্বপ্ন! বিশ্বকাপ কেন, বড় কোনো কাপ জিতেই যে এতদিন ফেরা হয়নি লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের। অবশেষে এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। তারুণ্যের জয়গান গেয়ে আকবর আলীরা মেটালেন আক্ষেপ। যুব বিশ্বকাপ জিতে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে স্বপ্নের ট্রফি নিয়ে ঘরে ফিরেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দল। ফাইনালের পরদিন আইসিসির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছে টাইগার যুবারা। এবার বিশ্বজয়ের মুকুট পরে ফিরল দেশে। সময়টা উৎসবে-আনন্দে মেতে ওঠার।

অতীতে অনেকবারই বিজয়ী ক্রীড়াবিদদের বিমানবন্দরে ফুল দিয়ে বরণ করে নিয়েছেন বাংলাদেশ। কিন্তু গতকাল শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সম্পূর্ণ অন্য আবহ। অন্য রকম উৎসব। এবার যে বিশ্বজয়ী ক্রীড়াবিদদের বরণ করে নিল বাংলাদেশ। দক্ষিণ আফ্রিকায় অন‚র্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী যুব ক্রিকেট দল ঢাকায় এসে পৌঁছে বিকেল ৫টার একটু আগে। আকবর আলী, তৌহিদ হৃদয়দের ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রধান নাজমুল হাসান পাপন। এ সময় ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ও বিসিবির অন্যান্য পরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গত ৩ জানুয়ারি অনেকটা নীরবেই দেশ ছেড়েছিল আকবর আলীর দল। ফেরার পালায় চিত্রটা পুরো ভিন্ন। বিকাল ৪টা ৫৫ মিনিটে ক্রিকেটারদের নিয়ে অবতরণ করেছে এমিরেটস এয়ারয়াইন্সের ফ্লাইট। এই সময়টা, এই ফ্লাইটটাও নিশ্চিতভাবেই বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে ঢুকে যাবে। বরণের-উদযাপনের প্রতিটি মুহূর্ত লেখা থাকবে স্বর্ণাক্ষরে। ক্রিকেটারদের সাদর অভ্যর্থনা জানাতে বিমানবন্দর থেকে মিরপুর শের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়াম পর্যন্ত সাজ সাজ রব। সেই দুপুর থেকেই ফুল নিয়ে পথের দু’ধারে দাঁড়িয়ে ভক্ত-সমর্থকরা, বাংলাদেশ-বাংলাদেশ স্লোগানে মুখর। অনেকেই ‘চ্যাম্পিয়ন’ লেখা জার্সি বানিয়ে গায়ে জড়িয়ে এসেছিলেন ইতিহাসের সাক্ষী হতে।

আকবরদের সেখানে বরণ করে নেওয়ার পর বিমানবন্দর এলাকায় আর রাখা হয়নি কোন আয়োজন। বিমানবন্দরে অন্যান্য যাত্রীদের কথা মাথায় রেখেই সেখানে তেমন কোন অনুষ্ঠান রাখেনি বিসিবি। এই উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসার দাবী রাখে। বিমানবন্দর থেকে হোম অব ক্রিকেটে যাবার জন্য ছিল বিশেষ বাসের ব্যবস্থা। লাল-সবুজে মোড়ানো বাসটিও সাজানো হয়েছে আকবর-মাহমুদুল-শরিফুলদের ছবি দিয়ে। মোটরসাইকেল শোভাযাত্রায় বিমানবন্দর থেকে ক্রিকেটারদের গাড়িবহর সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটে এসে পৌঁছায় মিরপুরে বিসিবি কার্যালয়ে।

একাডেমি ভবনের ঠিক সামনে বাস থেকে নেমেও মধুর বিড়ম্বনায় পড়তে হয় রাকিবুল, হৃদয়, জয়দের। ভালোবাসার জোয়ার সামলাতে হিমশিম খেতে হয়েছে নিরাপত্তা কর্মী থেকে শুরু করে বিসিবি কর্মকর্তাদেরও। বাস থেকে নেমে দীর্ঘ ভ্রমণ ধকল কাটিয়ে উঠতে ঘন্টাখানেক সময় নিয়েই আকবর আলীর দল পৌঁছে সংবর্ধনাস্থল মিরপুর স্টেডিয়ামের মূল ভেন্যুতে। যেখানে আগে থেকেউ প্রস্তুত অস্থায়ী মঞ্চ। পেছনে বিশ্বজয়ীদের ছবি সম্বলিত প্ল্যাকার্ডে বড় বড় অক্ষরে লেখা ‘ওয়েলকাম ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়ন’। তার সামনেই টেবিলে রাখা দুটো বিশাল কেক। তাতে পচেফস্ট্রুমে শিরোপাহাতে উল্লাসরত যুবাদের ছবি সাঁটা। ড্রেসিংরুম থেকে মঞ্চ পর্যন্ত বিছানো হয় লাল গালিচা। এই গালিচা পেরিয়ে একে একে এসে আলোকিত করেন মঞ্চ। দু’পাশে দুটি কেক তার মাঝে ঠাঁই পেয়েছে ঝা চকচকে আরাধ্য ট্রফিটি। একটি কেক কাটেন বিশ্বজয়ী দলনেতা আকবর অপরটি বিসিবি সভাপতি। পরে একে অন্যকে কেক খাইয়ে ভাগ করে নেন বিজয় আনন্দ। এসময় একে একে দাগানো হয় ১৯টি আতশবাজি। অনূর্ধ্ব-১৯ বোঝাতেই এই সংখ্যাকে বেছে নেয়া হয়। ইতিহাসের সাক্ষী হতে এই মহেন্দ্রক্ষণে সংবাদমাধ্যমকর্মী ছাড়াও ভিআইপি গ্যালারিতে হাজির ছিলেন হাজার হাজার ভক্ত-সমর্থকও।

এরপরই একটি সংবাদ সম্মেলন করে বিসিবির আয়োজনে নৈশভোজে যোগ দেন গোটা বিশ্বজয়ী দলের সদস্যরা। রাতেই যুবারা ফিরে যান নিজ নিজ ঘরে। ঢাকার বাইরের ক্রিকেটাররা পরিবারের টানে আজ সকালে ধরবেন বাড়ির পথ। কেউ চাইলে অবশ্য রাতেও যাবার অনুমতি ছিল বিসিবির। সপ্তাহখানেকের ছুটি শেষ করে ঢাকায় ফেরার পর সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া গণসংবর্ধনায় যোগ দেবেন যুবারা। তবে সেই সংবর্ধনার তারিখ এখনো সরকারের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত করা হয়নি।

চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশের লোকজনের জন্য জাপান প্রবেশ নিষিদ্ধ

জাপান সরকার নতুন করোনা ভাইরাসের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে আনতে, চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশের লোকজনের বৃহস্পতিবার থেকে শুরু করে দেশে প্রবেশ নিষিদ্ধ করবে।

প্রধানমন্ত্রী শিনযো আবে, ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের মোকাবেলায় গঠিত একটি টাস্কফোর্সের সাথে বুধবার অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই ঘোষণা দেন।

ডায়মণ্ড প্রিন্সেস জাহাজের আরোহী এবং ক্রুর সদস্যদের ভাইরাস পরীক্ষার বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন।

পৌরসভা এবং বেসরকারী স্থাপনাগুলোর সহযোগিতা নিয়ে প্রতি দিনে ভাইরাস পরীক্ষা করে দেখার সংখ্যা প্রায় ৩০০ থেকে বৃদ্ধি করে কমপক্ষে এক হাজারে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন তিনি বলে আবে জানান।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ভাইরাসের উপসর্গ লক্ষ্য করা লোকজনকে পরীক্ষা করে দেখার অনুমতি স্থানীয় সরকারকে দেয়ার পরিকল্পনা করছেন তিনি।

হুবেই থেকে জাপানে ফিরে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে আরও ২জন সংক্রমিত

নতুন করোনাভাইরাসে আরও দু’টি সংক্রমণের ঘটনা নিশ্চিত করেছে জাপান। উভয় রোগীই জাপানি নাগরিক যারা গতমাসের শেষের দিকে চীনের উহান শহর থেকে সরকারের ভাড়া করা বিমানে ফিরে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত।

তাদের মধ্যে বয়স ৫০এর কোঠায় থাকা একজন পুরুষ রয়েছেন যিনি উহানের অধিবাসী। গতমাসের ২৯ তারিখ প্রথম ভাড়া করা বিমানে তিনি জাপানে ফিরে আসেন।

অন্য জন হলেন টোকিও’র নিকটস্থ সাইতামা জেলার অধিবাসী। বয়স ৪০এর কোঠায় থাকা ঐ পুরুষ গতমাসের ৩০ তারিখ ভাড়া করা দ্বিতীয় বিমানটিতে ফিরে আসেন।

জাপানে ফিরে আসার অব্যবহিত পর তাদের করা পরীক্ষাগুলোর ফলাফল ছিল নেতিবাচক। তবে, পরবর্তীতে তারা জ্বর’সহ অন্যান্য উপসর্গ প্রদর্শন করেন এবং এর পরের পরীক্ষাগুলোতে সংক্রমণ নিশ্চিত করা হয়।

সর্বশেষ এই ঘটনাগুলোর কারণে চারটি ভাড়া করা বিমানে ফিরে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে মোট ১২টি সংক্রমণের ঘটনা নিশ্চিত করা হল।

চীনে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ছাড়িয়ে গেছে

চীন বলছে, নতুন করোনাভাইরাসের কারণে ১ হাজারেরও বেশি লোকের প্রাণহানি ঘটেছে।

চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে গতকাল আরও ১শ ৮ ব্যক্তির মৃত্যু হওয়ায় সেদেশে মোট মৃতের সংখ্যা ১হাজার ১৬তে উন্নীত হয়েছে।

অতি মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হুবেই প্রদেশের বাইরে বেইজিং এবং তিয়ানজিন থেকেও কিছু মৃত্যুর খবর জানা গেছে।

চীনের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ আরও বলছে যে গতকাল আরও ২ হাজার ৪শ ৭৮ ব্যক্তির সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়ায় তা চীনে মোট রোগীর সংখ্যা ৪২ হাজার ৬শ ৩৮এ উন্নীত করেছে।

এদিকে, হুবেই প্রদেশের কমিউনিস্ট পার্টি আজ ঘোষণা দিয়েছে যে প্রাদেশিক স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের দু’জন শীর্ষ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

এর জন্য কোন কারণ জানানো না হলেও করোনাভাইরাসের বিস্তারের জন্য ঐ কর্মকর্তাদের দায়ী করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

চীনে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা সার্স মহামারিকেও ছাড়িয়ে গেছে

নতুন করোনাভাইরাস সংক্রমণে চীনের মূল ভূখণ্ডে মৃতের সংখ্যা ৮শ ১১তে উন্নীত হওয়ায় ২০০৩ সালে সার্স মহামারীতে বিশ্বব্যাপী মৃতের সংখ্যাকেও তা ছাড়িয়ে গেছে।

গতকাল চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন আরও ৮৯টি মৃত্যুর ঘটনার কথা উল্লেখ করে।

উল্লেখ্য, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই মহামারি শেষ হওয়ার ঘোষণা দেয়ার আগে সার্স বা সিভিয়ার এক্যুউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম মহামারিতে ৭শ ৭৪ ব্যক্তির মৃত্যু ঘটে।

নতুন করোনাভাইরাসে নিশ্চিত সংক্রমণের সংখ্যা আরও ২ হাজার ৬শ ৫৬টিতে বৃদ্ধি পাওয়ায় মোট সংক্রমণের সংখ্যা এখন ৩৭ হাজার ১শ ৯৮এ পৌঁছেছে। তাদের মধ্যে ৬ হাজার ১শ ৮৮ জনের অবস্থা গুরুতর।

গত শুক্রবার পর্যন্ত পরপর পাঁচ দিন ধরে প্রতিদিন ৩ হাজার নতুন সংক্রমণের ঘটনার তথ্য জানা গেছে। তবে, গতকালের সংখ্যাটি ছিল অপেক্ষাকৃত কম।

চীনের রাষ্ট্র-পরিচালিত শিনহুয়া বার্তা সংস্থা বলছে, উহানে একটি নতুন নির্মিত হাসপাতাল গতকাল থেকে কার্যক্রম শুরু করেছে।

ঐ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে এই প্রাদুর্ভাবের পর নতুন নির্মিত দ্বিতীয় হাসপাতাল লেইশেনশানে মোট দেড় হাজার রোগীকে গ্রহণ করা হবে।

তবে, মারাত্মক রোগীর ক্রমবর্ধমান সংখ্যা চিকিৎসা ব্যবস্থার জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

এছাড়া, অনেক এলাকায় নতুন চন্দ্র বছরের ছুটির সময় থেকে বন্ধ থাকা ব্যবসায়িক কার্যক্রম আগামীকাল থেকে পুনরায় শুরু হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

তবে, চলমান পরিবহন নিষেধাজ্ঞার কারণে অনেকেই তাদের নিজ বাড়ি থেকে কাজে ফিরতে সমস্যার মুখোমুখি হওয়ায় কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হতে আরও কিছু সময় লাগতে পারে।