বিশ্বব্যাপী বেকারত্ব বাড়বে

গত প্রায় ৯ বছর ধরে বিশ্বব্যাপী বেকারত্বের হার স্থিতিশীল থাকলেও চলতি বছর তা বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)। আইএলও প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল আউটলুক : ট্রেন্ডস ২০২০’ শীর্ষক ঐ প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০ সালে বিশ্বব্যাপী বেকারত্ব ২৫ লাখ বাড়তে পারে।

বিশ্বব্যাপী শ্রমশক্তি বাড়লেও তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নতুন কর্মসংস্থান বাড়ছে না। প্রতিবেদনে বলা হয়, যথাযথ মজুরি না পেয়ে বিশ্বব্যাপী প্রায় ৫০ কোটি শ্রমিক সামান্য মজুরিতেই কাজ করছে। সুইজারল্যান্ডের জেনেভা থেকে বিশ্বব্যাপী একযোগে আজ প্রতিবেদনটি প্রকাশ হচ্ছে।

প্রতিবেদনে এশিয়ার বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের বিষয়ে বলা হয়, শোভন কাজের যথাযথ ক্ষেত্রে তৈরি না হওয়া এবং যথাযথ অন্তর্ভুক্তির ঘাটতির কারণে কাজের পরিবেশের উন্নয়ন করা কঠিন হয়ে পড়ছে। ফলে এসব অঞ্চলে দারিদ্র্য কমানোও কঠিন হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, শ্রমিকের সরবরাহ ও চাহিদার অসামঞ্জস্যতার কারণে বেকারত্ব বাড়ছে। একই সঙ্গে শ্রমশক্তিকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো যাচ্ছে না। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী প্রায় ১৯ কোটি লোক কর্মহীন। এছাড়া সাড়ে ১৬ কোটি মানুষ কাজের যথাযথ পারিশ্রমিক পাচ্ছে না, আর ১২ কোটি মানুষ কাজে প্রবেশের চেষ্টা করছে। সবমিলিয়ে কাজের যথাযথ সুযোগ না থাকায় বিশ্বব্যাপী ৪৭ কোটি মানুষের ওপর এর প্রভাব পড়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শ্রমবাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে নারী ও অপেক্ষাকৃত তরুণরা অতিরিক্ত বাধার মুখে পড়েন। এছাড়া বিশ্বব্যাপী শ্রম আয়ের ক্ষেত্রে আগের প্রাক্কলনের চাইতে বৈষম্য বাড়ছে। আইএলওর মহাপরিচালক গাই রাইডার বলেন, বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি মানুষের জন্য কাজের মাধ্যমে জীবনযাত্রার মান বাড়ানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে। ঢাকায় আইএলওর কান্ট্রি ডিরেক্টর টুমো পুটিআইনেন বলেন, মানুষের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য বিনিয়োগ বাড়ানো দরকার। বিশেষত শিক্ষা, লিঙ্গ সমতা ও সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়ে বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন।

মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণের কথা নিশ্চিত করেছে চীন

করোনা ভাইরাসের নতুন এক ধরনের স্ট্রেইনের মারাত্মক সংক্রমণে চীনে আরেক জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।

এখন পর্যন্ত ২৯১ ব্যক্তি সংক্রমিত হয়েছেন এবং এই সংখ্যা হঠাৎ করে ব্যাপক মাত্রায় বেড়ে যেতে পারে, কেননা চীনা কর্তৃপক্ষ এই ভাইরাস মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমিত হতে পারে বলে নিশ্চিত করে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ডব্লিউএইচও’র পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলিক দপ্তর মঙ্গলবার টুইট করে, “সাম্প্রতিক তথ্য থেকে এটা অত্যন্ত স্পষ্ট যে, চীনা শহর উহান’এর মহামারী সংশ্লিষ্ট করোনা ভাইরাসের নতুন ধরনের স্ট্রেইনের অন্ততপক্ষে মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমিত হওয়ার কিছু ঘটনা ঘটেছে।

ডব্লিউএইচও এও জানায়, “স্বাস্থ্য কর্মীদের এই রোগে সংক্রমিত হওয়া এই ঘটনার প্রমাণকে জোরালো করছে”।

উহান’এ এই মহামারী প্রথম শুরু হয়। সেখানকার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা ঘোষণা করেন, ৮৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তি এ সপ্তাহে মারা যাওয়ায় মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৪ জনে। তারা এও বলছেন, চলতি মাসের গোড়ার দিকে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণে এই ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।

অধিকাংশ সংক্রমণের খবর এই শহর থেকে পাওয়া গেছে। তবে, কর্তৃপক্ষ বেইজিং, শাংহাই এবং গুয়াংদং প্রদেশ সহ চীনের অন্যান্য অংশেও এই ভাইরাসের ছড়িয়ে পড়ার খবর নিশ্চিত করে।

এক স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফলাফল থেকে ১৫ জন স্বাস্থ্য কর্মী আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

চীনের বাইরেও ৪ জনের আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে ২ জন থাইল্যান্ডের, ১ জন জাপানের এবং ১ জন দক্ষিণ কোরিয়ার।