করোনা: ছয় মাসের মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু দেখলো ফ্রান্স

ফ্রান্সের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার জানিয়েছে যে দেশটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫২৩ জন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এটি ফ্রান্সে গত ছয় মাসের মধ্যে করোনায় একদিনে সর্বোচ্চ প্রাণহানির রেকর্ড।

ফ্রান্সের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আরো জানিয়েছে যে গত একদিনে দেশটিতে নতুন করে ৩৩ হাজার ৪১৭ জন করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। যা আগের দিনের চেয়ে প্রায় ৬ হাজার ৬৪৬ জন বেশি। ফ্রান্সে এ পর্যন্ত ১১ লাখ ৯৯ হাজার করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। দেশটিতে এ পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৩৫ হাজার ৫৪১ জন।

করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসসহ আরো আট শহরে কারফিউ জারি করা হয়েছে। রাত ৯টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত বলবৎ থাকছে এই কারফিউ।

এদিকে করোনার সংক্রমণ বাড়ায় বুধবার জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ । ধারণা করা হচ্ছে, করোনার সংক্রমণ রোধে কারফিউয়ের সময়সীমা বাড়ানোর ঘোষণা দিতে পারেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট।

সংক্রমণের পুনরুত্থানের মাঝে করোনাভাইরাস-রোধী পদক্ষেপ জোরদার করছে ইউরোপ

ইউরোপীয় দেশগুলো করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নতুন করে বেড়ে চলার মাঝে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের উপর তাদের বিধিনিষেধ আরও কঠোর করে নিচ্ছে।

ইতালি কেবল অক্টোবর মাসেই ২ লক্ষেরও বেশি নতুন সংক্রমণের খবর নিশ্চিত করে। ফলে সেদেশে মোট সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়ায় ৫ লক্ষ ৪০ হাজারের উপরে। ইতালীয় সরকার সোমবার থেকে শুরু করে রেস্তোরাঁগুলোকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ করে দেয়ার নির্দেশ দেয়।

রাজধানী রোমে, এক রেস্তোরাঁ মালিক এই বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে, নতুন বিধিনিষেধ প্রচুর ক্ষতি বয়ে আনতে পারে যা পুনরুদ্ধার করা হয়তো সম্ভব হবে না।

রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীদের একটি সমিতি অনুমান করছে, রেস্তোরাঁ শিল্প এই নতুন ভাইরাস-রোধী পদক্ষেপসমূহ থেকে ২৭০ কোটি ইউরো বা প্রায় ৩১০ কোটি মার্কিন ডলারের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

জার্মানি গত সপ্তাহ থেকে কোভিড-১৯’এর দৈনিক সংক্রমণের সংখ্যা ১০ হাজারেরও বেশি হয়েছে বলে জানায়।

সংক্রমণের এই পুনরুত্থান নুরেমবার্গ’এর বিশ্ববিখ্যাত ক্রিসমাস বাজারের কর্তৃপক্ষকে চলতি মৌসুমের জন্য এর কার্যক্রম বাতিল করে দিতে বাধ্য করে।

জার্মানির অন্যান্য ক্রিসমাস বাজারগুলোও হয় বাতিল করা হয়েছে, নতুবা ছোট পরিসরে আয়োজিত হচ্ছে।

ইউরোপ জুড়ে এই উদ্বেগ বেড়ে চলেছে যে, কঠোর বিধিনিষেধ অর্থনীতির উপর আরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে।