দশ হাজারের বেশি বিদেশিকে জাপানে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়নি

গত বছর দশ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিককে জাপানে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়নি। গত ১২ বছরে এই প্রথম ঐ সংখ্যা ১০ হাজার অতিক্রম করল।

জাপান অভিবাসন সেবা এজেন্সি বলছে যে ১০ হাজার ৬৪৭ জনকে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়নি যা হল পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ১৬ শতাংশ বা ১৪৬৮ জন বেশি।

মোট সংখ্যার প্রায় ৮০ শতাংশ বা সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ৮৮৯০ জনকে তাদের প্রবেশের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ থাকার কারণে প্রত্যাখ্যান করা হয়।

তারা জাপানের বিভিন্ন স্থান দর্শনের উদ্দেশ্যে দেশে প্রবেশ করতে চাই উল্লেখ করলেও বাস্তবে এদেশে বেআইনি ভাবে কাজ করার পরিকল্পনায় ছিল।

দেশ হিসাবে দেখতে গেলে তালিকার শীর্ষে রয়েছে চীন, যে সংখ্যা হল ৩৭৬৫ যা আগের বছরের তুলনায় ১ দশমিক ৮ গুণ বেশি।

থাইল্যান্ডের ১৩৯৮ জন এবং তুরস্কের ৯২৫ জনকে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়নি।

তিনটি দেশের লোকজন হল মোট অস্বীকৃতি জানানো লোকজনের প্রায় ৬০ শতাংশ।

এজেন্সি বলছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রত্যাখ্যাত হওয়া লোকজনের সংখ্যা যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে ঠিক তেমনি দেশে প্রবেশ করা লোকের সংখ্যাও ব্যাপক ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

জাপানে যাতে বিদেশি নাগরিকেরা বেআইনি ভাবে কাজ করতে না পারে সেই লক্ষ্যে কঠোর ভাবে পরীক্ষা চালাবে তারা বলে এজেন্সি আরো জানায়।

ভাইরাসের বিরুদ্ধে মাস্কের কার্যকারিতা প্রমাণিত

জাপানের গবেষকরা বলছেন তারা নিশ্চিত করেছেন যে মুখে পরার মাস্ক ভাইরাস বাতাসে ছড়িয়ে দেয়া এবং তা গ্রহণ করা, উভয় ঝুঁকি হ্রাসের বেলায় কার্যকর। এই ফলাফলে পৌঁছুতে তারা সত্যিকার করোনাভাইরাস এবং পূর্ণ-দেহ মানব মূর্তি ব্যবহার করেছেন।

টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক কাওয়াওকা ইয়োশিহিরো এবং সহকারী প্রকল্প অধ্যাপক উয়েকি হিরোশি’র নেতৃত্বে একদল গবেষক এই ফলাফল পেয়েছেন।

পরীক্ষায় তারা দুটি পূর্ণ দেহের মানব মূর্তিকে ল্যাবরেটরিতে মুখোমুখি অবস্থানে রাখেন। এর একটি থেকে বাতাসে ভেসে বেড়ানো করোনাভাইরাস থাকা ক্ষুদ্র কণা ছেড়ে দেয়া হয়। অন্যটিতে মানুষের নিঃশ্বাস গ্রহণের অনুকরণে বাতাস গ্রহণের ব্যবস্থা যুক্ত ছিল।

একটি পরীক্ষায় গবেষকরা নিঃশ্বাস গ্রহণ করা মানব মূর্তির মুখে মাস্ক পরিয়ে দিয়েছিলেন। তারা বলছেন শুষে নেয়া ভাইরাসের পরিমাণ সেখানে কাপড়ের তৈরি মাস্ক ১৭ শতাংশ পর্যন্ত এবং সাধারণ একটি সার্জিকাল মাস্ক ৪৭ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস করে দেয়। তারা যখন মানব মূর্তির মুখে এন৯৫ মেডিকেল মাস্ক আঁটসাঁটভাবে বসিয়ে দিয়েছিলেন, সেরকম অবস্থায় পরিমাণ ৭৯ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে।

ভাইরাস ছড়িয়ে দেয়া পূর্ণ দেহের মানব মূর্তিতে মাস্ক পরানো হলে কাপড় এবং সার্জিকাল মাস্ক উভয়ের বেলায় মাস্ক না পরা মূর্তির ভাইরাস গ্রহণের পরিমাণ ৭০ শতাংশের বেশি পর্যন্ত হ্রাস করে।

গবেষকরা এছাড়া আরও জানিয়েছেন যে উভয় মূর্তির মুখে মাস্ক পরিয়ে দেয়া ভাইরাসের অনুপ্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ করতে পারেনি।

অধ্যাপক কাওয়াওকা বলেছেন আসল ভাইরাস ব্যবহার করে মাস্কের কার্যকারিতা যাচাই করে দেখার কোন গবেষণা এর আগে চালানো হয় নি। অধ্যাপক আরও বলেছেন যে মাস্ক সঠিকভাবে পরা যে গুরুত্বপূর্ণ সেটা তারা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন মাস্ক যে ভাইরাসকে পুরোপুরি বাধাগ্রস্ত করতে পারেনা, সেটা জানা থাকা গুরুত্বপূর্ণ।