বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে প্রত্যাহারের নোটিশ দিল যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন সরকার জাতিসংঘকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে যে আগামী বছরের জুলাই মাসে দেশ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে সরে যাবে।

যুক্তরাষ্ট্রের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মঙ্গলবার এনএইচকে’কে বলেছেন যে প্রত্যাহার সম্পর্কে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে জানানো হয়েছে। আগামী বছর ৬ জুলাই প্রত্যাহারের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

আংশিকভাবে চীন থেকে ভ্রমণের উপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আরোপের সমালোচনামূলক প্রতিক্রিয়া দেখানোয় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে “চীন কেন্দ্রিক” বলে অভিযুক্ত করেছেন। মে মাসে ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে তার দেশ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করছে। তিনি আভাস দিয়েছেন যে ওয়াশিংটন সংস্থাকে দেয়া তহবিল বন্ধ রাখবে এবং অন্য উদ্দেশ্যে সেই অর্থ খরচ করবে।

যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ লক্ষের কাছাকাছি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ সনাক্ত করা হয়, ট্রাম্প যেটাকে “চায়না ভাইরাস” হিসেবে আখ্যায়িত করেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে পরিকল্পিত এই প্রত্যাহার মহামারী সামাল দেয়ায় তার সমালোচনাকে ভিন্ন খাতে পরিচালিত করার লক্ষ্যে নেয়া হতে পারে।

বার্ষিক ৩৭ কোটি ডলারের বেশি পরিমাণ অর্থ দেয়ার মধ্যে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র হচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সবচেয়ে বড় তহবিল যোগানো দেশ। আনুষ্ঠানিক প্রত্যাহার নোটিশ সংক্রামক রোগ মোকাবেলায় চালানো বৈশ্বিক প্রচেষ্টাকে প্রভাবিত করতে পারে।

গিফু, নাগানো জেলায় অব্যাহত সতর্কতার আহ্বান

কিউশু দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল প্লাবিত করা ভারী বর্ষণ এখন জাপানের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলে বিস্তৃত হয়েছে। আবহাওয়া এজেন্সি গিফু ও নাগানো জেলার জন্য জারি করা প্রচণ্ড বর্ষণের জরুরি সতর্কতা সাধারণ সতর্কতার পর্যায়ে নামিয়ে আনলেও স্থানীয় নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে থাকায় এলাকাবাসীদের পরিস্থিতির উপর অব্যাহত নজর রাখতে বলছে।

সেইসব অঞ্চলকে এরকম বৃষ্টিপাতের মুখোমুখি হতে হচ্ছে যা গত কয়েক দশকে দেখা যায়নি। কর্মকর্তারা বলছেন বৃষ্টিপাতের পরিমাণ সেখানে ইতিমধ্যে জুলাই মাসের গড়কে ছাড়িয়ে গেছে।

গিফু জেলায় হিদা নদীর পানি উপচে পড়ে গেরো শহরকে প্লাবিত করলে স্থানীয় এলাকাগুলো নিমজ্জিত হয়ে যায়। বৃষ্টিপাত একই সাথে ভূমিধ্বস শুরু করে দিলে গাছপালা তা ভাসিয়ে নেয় এবং বাড়িঘর মাটিচাপা দেয়। তাকাইয়ামা শহরের অধিবাসীরা বলছেন কাছাকাছি জায়গার একটি ঢাল থেকে আসা কাদা তাদের ঘরের ভেতরে ঢুকে গেছে।

সারা জেলা জুড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ ও পরামর্শ কার্যকর রয়েছে।

সারা দেশ জুড়ে নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে থাকা অবস্থায় প্রতিবেশী নাগানো জেলাতেও নদী উপচে পড়ছে।

শিমোজো গ্রামে অধিবাসীদের বাড়িঘর তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। কিসো শহরের কর্মকর্তারা বলছেন সড়ক পথ কাদায় ডুবে যাওয়ার বেশ কিছু খবর তারা পেয়েছেন।

জেলার বেশ কয়েকটি পৌর এলাকার অধিবাসীদেরও নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।