বসবাসের ‘অযোগ্য’ শহরের তালিকায় ঢাকা দ্বিতীয়
বিশ্বে বসবাসের অযোগ্য শহর হিসেবে ঢাকার স্থান দ্বিতীয়। যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের পরই ঢাকার অবস্থান। বসবাসের জন্যে সবচেয়ে ভালো এবং সবচেয়ে খারাপের তালিকা প্রকাশ করেছে লন্ডনভিত্তিক ম্যাগাজিন দ্য ইকোনমিস্টের ইন্টেলিজেন্স ইউনিট বা ই আইইউ।
ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট প্রতি বছর এরকম একটি তালিকা প্রকাশ করে থাকে। এবছর ১৪০টি শহরের উপর এই জরিপ পরিচালনা করা হয়েছে। এবছরের তালিকায় বসবাসের জন্যে সবচেয়ে উপযোগী শহর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনার নাম। এরপর আছে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন। শীর্ষ দশে জায়গা করে নিয়েছে কানাডার তিনটি শহর-ক্যালগারি, ভ্যানকুভার এবং টরেন্টো। ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট বলছে, তালিকার সবচেয়ে নিচের দিকে যে দশটি শহরের নাম এসেছে সেগুলো নির্বাচন করতে গিয়ে অপরাধ, সামাজিক অস্থিরতা, সন্ত্রাস এবং যুদ্ধের মতো বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে।
ঢাকার নাম নিচের দিক থেকে দু্?ই নম্বরে উঠে আসার কারণে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তবে এতে মোটেই অবাক হননি নগর পরিকল্পনাবিদ ইকবাল হাবিব। তিনি বলেন, গত কয়েক বছর ধরেই এই জরিপে ঢাকার অবস্থা এরকম। এ অবস্থার জন্যে দায়ী একই পরিমাণ জায়গায় সবচেয়ে বেশি সংখ্যক লোকের বসবাস। তিনি বলেন, মেলবোর্ন বা ভিয়েনার সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যাবে ওই দুটো শহরে জনঘনত্ব এতটাই কম যে, ওই দুটো শহরের সঙ্গে সরাসরি ঢাকার মতো অতি জনঘনত্বের একটি শহরকে তুলনা করা যায় না। সরকারি হিসেবে ঢাকায় বর্তমান জনসংখ্যা এক কোটি ৬৫ লাখ। আর প্রতি বর্গকিলোমিটারে বাস করেন ৪৫ হাজারেরও বেশি মানুষ। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের কারণে ঢাকা শহর বারবার পিছিয়ে পড়ছে।
কিন্তু যুদ্ধে বিধ্বস্ত একটি শহর দামেস্কের পরেই কেন ঢাকার অবস্থান এই প্রশ্নের জবাবে স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেছেন, ব্যাপক জনঘনত্বের কারণে সব ধরনের সেবা, সুযোগ, সম্ভাবনা সবকিছু একটা বড় রকমের চাপের মুখে পড়ে গেছে। আর একারণেই ঢাকার অবস্থা যুদ্ধবিধ্বস্ত অন্যান্য শহরের মতো। পাশাপাশি শহর পরিচালনায় কর্তৃপক্ষের শিথিলতা এবং অদক্ষতাকেও দায়ী করেন তিনি। ঢাকার গুলশানে সন্ত্রাসী হামলা কিংবা জঙ্গি তত্পরতার কারণে ঢাকা সম্পর্কে এরকম একটা ধারণা তৈরি হয়ে থাকতে পারে কিনা-এই প্রশ্নের জবাবে হাবিব বলেন, সেটি তুলনা করলে করাচি, লাহোর কিংবা অন্যান্য শহর কী কারণে আমাদের চেয়ে এগিয়ে থাকবে। -বিবিসি