• Bangla Dailies

    Prothom alo
    undefined
    Songbad
    daily destiny
    shaptahik
  • Weeklies

  • Resources

  • Entertainment

  • Sports Links

  • অলিম্পিক সাইট গুলোতে ব্যাকটেরিয়ার মাত্রা সীমা অতিক্রম করে গেছে

    ২০২০ টোকিও অলিম্পিক এবং প্যারালিম্পিক সাইট গুলোতে ব্যাকটেরিয়া সহ অন্যান্য উপাদানের উপস্থিতি অনুমোদিত স্তরের চেয়ে উচ্চতর পাওয়া গেছে।

    টোকিওর সাংগঠনিক কমিটি এবং টোকিও মেট্রোপলিটন সরকার ২৬ জুলাই এবং সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে শহরের ওয়াটারফ্রন্ট এলাকা এবং ওদাইবা মেরিন পার্কে জলবায়ুর জরিপ পরিচালনা করে।

    পার্কটিকে ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ উন্মুক্ত সাঁতার এবং ট্রাইথলনের ভেন্যু হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

    জরিপের ফলাফলে কলিনফর্ম ব্যাকটেরিয়া এবং অন্যান্য পদার্থ ২৬ দিনের অর্ধেকের বেশি সময়ের জন্যে জাপান সরকার এবং গেমস আইনে নির্ধারিত মান অতিক্রম করে গেছে।

    পার্কে পানির গুণমান উন্নত করার জন্য মেট্রোপলিটন সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলি বিবেচনা করবে এবং ক্রীড়া সংগঠন ও আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটিকে বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করবে।

    রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের প্রশংসায় যুক্তরাষ্ট্র

    যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে ষষ্ঠবারের মতো দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা সংলাপ ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত সংলাপে দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা, আঞ্চলিক শান্তি, সমৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
    একইসঙ্গে মানবিক সহায়তা, শান্তিরক্ষা মিশন, প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, সামরিক সহযোগিতা, সন্ত্রাস মোকাবিলা, নৌ সীমান্ত নিরাপত্তাসহ আঞ্চলিক ইস্যুতে দুই পক্ষ আলোচনা করেছে।
    ঢাকায় প্রাপ্ত এক খবরে বলা হয়েছে, রাখাইনে সেনা অভিযানের মুখে প্রাণভয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আর রোহিঙ্গাদের চরম মানবিক সংকটে সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রশংসা করেছে বাংলাদেশ।
    সংলাপে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে নেতৃত্ব দেন মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের রাজনৈতিক ও সামরিক বিষয়ক ভারপ্রাপ্ত উপ সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইকেল মিলার। বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (আমেরিকা) আবিদা ইসলাম।

    সুচির ‘ফ্রিডম অব অক্সফোর্ড’ সম্মাননা প্রত্যাহার

    রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকটের প্রেক্ষিতে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচিকে দেয়া সম্মাননা ‘ফ্রিডম অব অক্সফোর্ড’ প্রত্যাহার করা হচ্ছে। ১৯৯৭ সালে গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘ সংগ্রামের জন্য তাকে এই সম্মাননা দেয় অক্সফোর্ড সিটি কাউন্সিল।
    কিন্তু অক্সফোর্ড সিটি কাউন্সিল জানিয়েছে, মিয়ানমারের নেত্রীর জন্য এই সম্মাননা যথোপযুক্ত নয়। গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইনে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার পরে বাংলাদেশে ৫ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে এসেছে। সামরিক জান্তার নিয়ন্ত্রণাধীন মিয়ানমারে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রামের কারণে অং সান সুচি দীর্ঘদিন ইয়াংগুনে গৃহবন্দী ছিলেন। এজন্য তিনি ও তার ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হতে থাকেন। ২০১৫ সালে উন্মুক্ত নির্বাচনের মাধ্যমে তার দল সরকার গঠন করে।
    কিন্তু সম্প্রতি রাখাইনে রোহিঙ্গাদের উপর শুরু হওয়া নতুন সংঘাত ও সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে জাতিগত নিধনের অভিযোগের বিষয়ে নিশ্চুপ থাকায় আন্তর্জাতিক নেতৃত্ব ও সংস্থা তার সমালোচনা করেছে। সোমবার অক্সফোর্ড সিটি কাউন্সিলের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে, জাতিসংঘের কাছ থেকে যেসব তথ্যপ্রমাণ আসছে তাতে অং সান সুচি আর ‘ফ্রিডম অব অক্সফোর্ড’ সম্মাননার জন্য যথোপযুক্ত নন। আগামী মাসের বিশেষ বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সম্মাননা প্রত্যাহার করা হবে, তবে মিয়ানমারের পরিস্থিতির উন্নতি হলে এই সিদ্ধান্তের বদল হতে পারে।
    এর আগে জানা যায়, অক্সফোর্ডের সেন্ট হিউ কলেজ সুচির একটি পোট্রেট প্রদর্শনী থেকে প্রত্যাহার করে নেয়। বিবিসি।

    ঈসালে সওয়াব : কিছু মাসনূন পদ্ধতি

    ‘ঈসালে সওয়াব’ ফারসী শব্দ। আরবীতে হবে ‘ঈসালুস সাওয়াব’ (তবে এ ক্ষেত্রে আরবীতে অন্য শব্দ বেশি ব্যবহৃত হয় যেমন ‘ইহদাউস সাওয়াব’)। এর আভিধানিক অর্থ হল সওয়াব পৌঁছানো। পরিভাষায় ঈসালে সওয়াব হল কোনো নেক আমল করে এর সওয়াব মৃত ব্যক্তিকে দান করা।

    ঈসালে সওয়াবের প্রেরণা

    কষ্টার্জিত আমলের সওয়াব যে কাউকে দান করা হয় না। এ সাধারণত তাকেই দান করা হয় যার প্রতি মহব্বত ও আন্তরিকতা আছে। প্রিয়জন আখেরাতের পথিক হয়ে গেলে তার জন্য এমন কিছু করা মানুষের স্বভাবজাত আগ্রহ, যা তার শান্তি-সফলতার পক্ষে সহায়ক হবে, তার জন্য আল্লাহর রহমত ও করুণার উপায় হবে। ফলে তিনি তার গোনাহ মাফ করে দিবেন, মর্যাদা উঁচু করবেন এবং সুখে-শান্তিতে ভরিয়ে তুলবেন।

    এই মহব্বতের একটি অনুষঙ্গ হল আত্মীয়তা। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ ঈমান, সৎকর্ম ও সদ্ব্যবহার। এজন্য পিতা-মাতা, দাদা-দাদী প্রমুখের জন্য যেমন ঈসালে সওয়াব করা হয়, তেমনি উস্তাদ-মুরব্বী, আলেম-উলামা, ওলী-বুযুর্গ ও নবী-রাসূলগণের জন্যও করা হয়; বরং ঈমান, সৎকর্ম ও সদাচারে যারা অগ্রগামী তাদের জন্যই বেশি ঈসালে সওয়াব করা হয়। আর তাতে সহযোগিতার চেয়ে সৌভাগ্য ও সাআদাত অর্জনের মনোভাবই কাজ করে বেশি। কোনো নেক লোকের সঙ্গে ঈসালে সওয়াবের সম্পৃক্ততাও সৌভাগ্য বৈকি?

    এ কারণে সবার গুরুত্ব ও মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত ঈমান, সৎকর্ম ও  উত্তম আচার-ব্যবহারে অগ্রগামিতা এবং তা অন্যের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা।

    মূল বিষয়টি সম্পূর্ণ স্বীকৃত

    জীবিতদের দান করা আমল মৃতদের জন্য কল্যাণকর হওয়া আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআর কাছে একটি স্বীকৃত বিষয়। মৌলিক দিক থেকে তাদের মধ্যে এ ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই; মতভেদ শুধু বিস্তারিত ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে। তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে শুধু মুতাযিলা সম্প্রদায় তা অস্বীকার করেছে। এদের মতে জীবিতদের দান করা কোনো আমলই মৃত ব্যক্তির জন্য কল্যাণকর নয়, দুআ-ইস্তিগফার ও সদকাও নয়।

    এই দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট কুরআন, সুন্নাহ ও উম্মাহর ইজমা-বিরুদ্ধ। এজন্য এর উপর কোনো মন্তব্য না করে সরাসরি ঈসালে সওয়াবের পদ্ধতিগুলো আলোচনা করা হল।

    ঈসালে সওয়াবের কিছু পদ্ধতি

    এক. দুআ

    ইবাদতের সারনির্যাস হচ্ছে আল্লাহর কাছে পরিপূর্ণ সমর্পণ এবং চূড়ান্ত বিনয় ও মুখাপেক্ষিতা প্রকাশ। আর এটা দুআর মধ্যে সর্বোত্তমরূপে প্রকাশিত হয়। দুআ অর্থ ডাকা। নিজেকে অসহায় ও নিঃস্ব মনে করে কারো সামনে দু’হাত প্রসারিত করার চেয়ে বিনয় ও সমর্পণ আর কী হতে পারে? তাই দুআর মর্যাদা ও গুরুত্ব অসীম। হাদীসে দুআকে ইবাদত বরং ইবাদতের মগজ বলা হয়েছে।

    ইসলামী ভ্রাতৃত্বের একটি সাধারণ হক হল, আপনপর জীবিত-মৃত নির্বিশেষে সকল মুসলিম ভাইয়ের জন্য দুআ করা। আর যারা না-ফেরার জগতে পাড়ি জমিয়েছেন তারা যেহেতু কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছেন এবং আমাদের আগে ঈমান এনেছেন তাই তাদের জন্য বিশেষভাবে কাম্য। দুআ জীবিত-মৃত সকলের জীবনে কল্যাণ বয়ে আনতে পারে। এ কুরআন ও হাদীস দ্বারা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত। নিম্নে কিছু আয়াত ও হাদীস উল্লেখ করছি।

    ১. কুরআন মজীদে ইরশাদ হয়েছে,

    وَ الَّذِیْنَ جَآءُوْ مِنْۢ بَعْدِهِمْ یَقُوْلُوْنَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَ لِاِخْوَانِنَا الَّذِیْنَ سَبَقُوْنَا بِالْاِیْمَانِ وَ لَا تَجْعَلْ فِیْ قُلُوْبِنَا غِلًّا لِّلَّذِیْنَ اٰمَنُوْا رَبَّنَاۤ اِنَّكَ رَءُوْفٌ رَّحِیْمٌ۠ .

    এবং (ফাই-এর সম্পদ তাদেরও প্রাপ্য আছে ) যারা তাদের (অর্থাৎ মুহাজির ও আনসারদের) পরে এসেছে। তারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! ক্ষমা করুন আমাদের এবং আমাদের সেই ভাইদেরও যারা আমাদের আগে ঈমান এনেছে এবং আমাদের অন্তরে ঈমানদারদের প্রতি কোনো  হিংসা-বিদ্বেষ রাখবেন না। হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি অতি মমতাবান, পরম দয়ালু। Ñসূরা হাশর (৫৯) : ১০

    এখানে পূববর্তী মুমিনদের জন্য (যাতে জীবিত ও মৃত সকলই আছেন) দুআ করার প্রশংসা করা হয়েছে। দুআ যদি তাদের জন্য উপকারী না হয়, তবে এ প্রশংসার কী অর্থ থাকে?

    হাফেয সাখাবী রহ. (৯০২হি.) বলেন, এখানে পূর্ববর্তীদের জন্য দুআ করায় তাদের প্রশংসা করা হয়েছে। বোঝা গেল যে, দুআ উপকারে আসে। Ñকুররাতুল আইন পৃ. ১২৩

    ২. অন্যত্র ইবরাহীম আলাইহিস সালামের এ দুআ বর্ণিত হয়েছে,

    رَبَّنَا اغْفِرْ لِیْ وَ لِوَالِدَیَّ وَ لِلْمُؤْمِنِیْنَ یَوْمَ یَقُوْمُ الْحِسَابُ.

    হে আমার প্রতিপালক! যেদিন হিসাব প্রতিষ্ঠিত হবে, সেদিন আমাকে, আমার পিতা-মাতা ও সকল ঈমানদারকে ক্ষমা করুন। Ñসূরা ইবরাহীম (১৪) : ৪১

    ৩. অন্য জায়গায় নূহ আলাইহিস সালামের এ দুআ বর্ণিত হয়েছে,

    رَبِّ اغْفِرْ لِیْ وَ لِوَالِدَیَّ وَ لِمَنْ دَخَلَ بَیْتِیَ مُؤْمِنًا وَّ لِلْمُؤْمِنِیْنَ وَ الْمُؤْمِنٰتِ  وَ لَا تَزِدِ الظّٰلِمِیْنَ اِلَّا تَبَارًا۠.

    হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ক্ষমা করে দিন এবং আমার পিতা-মাতাকেও এবং যে ঈমান অবস্থায় আমার ঘরে প্রবেশ করেছে আর সমস্ত মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীকেও। Ñসূরা নূহ (৭১) : ২৮

    ৪. সূরা মুহাম্মদ-এ নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে,

    فَاعْلَمْ اَنَّهٗ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ وَ اسْتَغْفِرْ لِذَنْۢبِكَ وَ لِلْمُؤْمِنِیْنَ وَ الْمُؤْمِنٰتِ وَ اللهُ یَعْلَمُ مُتَقَلَّبَكُمْ وَ مَثْوٰىكُمْ.

    জেনে রেখো, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই এবং ক্ষমাপ্রার্থনা কর নিজ ত্রুটি-বিচ্যুতির জন্য এবং মুসলিম নর-নারীদের জন্যও। Ñসূরা মুহাম্মদ (৪৭) : ১৯

    ৫. অন্যত্র ফিরিশতাদের এ দুআ বর্ণিত হয়েছে,

    اَلَّذِیْنَ یَحْمِلُوْنَ الْعَرْشَ وَ مَنْ حَوْلَهٗ یُسَبِّحُوْنَ بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَ یُؤْمِنُوْنَ بِهٖ وَ یَسْتَغْفِرُوْنَ لِلَّذِیْنَ اٰمَنُوْا  رَبَّنَا وَسِعْتَ كُلَّ شَیْءٍ رَّحْمَةً وَّ عِلْمًا فَاغْفِرْ لِلَّذِیْنَ تَابُوْا وَ اتَّبَعُوْا سَبِیْلَكَ وَ قِهِمْ عَذَابَ الْجَحِیْمِ رَبَّنَا وَ اَدْخِلْهُمْ جَنّٰتِ عَدْنِ ِالَّتِیْ وَعَدْتَّهُمْ وَ مَنْ صَلَحَ مِنْ اٰبَآىِٕهِمْ وَ اَزْوَاجِهِمْ وَ ذُرِّیّٰتِهِمْ اِنَّكَ اَنْتَ الْعَزِیْزُ الْحَكِیْمُ وَ قِهِمُ السَّیِّاٰتِ  وَ مَنْ تَقِ السَّیِّاٰتِ یَوْمَىِٕذٍ فَقَدْ رَحِمْتَهٗ  وَ ذٰلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِیْمُ.

    যারা আরশ ধারণ করে আছে এবং যারা তার চারপাশে আছে, তারা তাদের প্রতিপালকের প্রশংসার সাথে তাঁর তাসবীহ পাঠ করে ও তাঁর প্রতি ঈমান রাখে এবং যারা ঈমান এনেছে তাদের জন্য মাগফিরাতের দুআ করে, হে আমাদের  প্রতিপালক! তোমার রহমত ও জ্ঞান সমস্ত কিছু জুড়ে ব্যাপ্ত। যারা তাওবা করেছে ও তোমার পথ অনুসরণ করেছে তাদের ক্ষমা করে দাও এবং জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা কর। হে আমাদের প্রতিপালক! তাদেরকে দাখিল কর স্থায়ী জান্নাতে, যার ওয়াদা তুমি তাদের সাথে করেছ এবং তাদের পিতা-মাতা, স্ত্রী ও সন্তানদের মধ্যে যারা নেক তাদেরকেও। নিশ্চয়ই তুমিই পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। এবং তাদের সকল অকল্যাণ থেকে রক্ষা কর। সে দিন তুমি যাকে অকল্যাণ থেকে রক্ষা করবে তার প্রতি তো তুমি দয়াই করবে। আর এটাই মহাসাফল্য। Ñসূরা মুমিন (৪০) : ৭-৯

    এ দুআগুলোতে জীবিত-মৃতের পার্থক্য ছাড়া সাধারণ মুমিনদের জন্য দুআ করা হয়েছে।

    ৬. দুআ মৃতের পক্ষে কল্যাণকর হওয়ার সবচেয়ে বড় দলীল হল জানাযার নামায। জানাযার নামায বস্তুত সালাতরূপ দুআ। জানাযার নামাযে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেসব দুআ পড়তেন সেগুলো থেকেই তা পরিষ্কার। এজন্য নিষ্ঠার সাথে দুআ করা কাম্য।

    হাদীসে বর্ণিত হয়েছে,

    إذا صليتم على الميت فأخلصوا له الدعاء.

    তোমরা যখন মাইয়িতের নামায পড়বে তখন তার জন্য নিষ্ঠার সাথে দুআ করবে। Ñসুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৩১৯৯

    এখানে জানাযার নামাযের দু-একটি দুআ উল্লেখ করা যেতে পারেÑ

    اللهم اغفر لحينا وميتنا، وشاهدنا وغائبنا، وصغيرنا وكبيرنا، وذكرنا وأنثانا، اللهم من أحييته منا فأحيه على الإسلام، ومن توفيته منا فتوفه على الإيمان.

    ইয়া আল্লাহ, আপনি আমাদের জীবিত-মৃতদের মাফ করুন। আমাদের উপস্থিত ও অনুপস্থিত, ছোট ও বড়, পুরুষ ও নারী সকলকে মাফ করুন। ইয়া আল্লাহ, আপনি আমাদের মধ্যে যাকে জীবিত রাখেন তাকে ইসলামের উপর জীবিত রাখুন আর যাকে মৃত্যু দেন তাকে ঈমানের উপর মৃত্যু দিন। Ñমুসনাদে আহমদ, হাদীস ৮৮০৯

    اللهم اغفر له وارحمه، وعافه واعف عنه، وأكرم نزله، ووسع مدخله، واغسله بالماء والثلج والبرد، ونقه من الخطايا كما نقيت الثوب الأبيض من الدنس، وأبدله دارا خيرا من داره، وأهلا خيرا من أهله، وزوجا خيرا من زوجه، وأدخله الجنة، وأعذه من عذاب القبر.

    ইয়া আল্লাহ, তাকে মাফ করে দিন, তার প্রতি রহম করুন, তাকে নিরাপদে রাখুন, তার ভুলত্রুটি মার্জনা করুন। তার সম্মানজনক আপ্যায়ন করুন, তারা প্রবেশস্থলকে প্রশস্ত করে দিন। তাকে পানি, বরফ ও বৃষ্টি দ্বারা ধুয়ে-মুছে দিন এবং গোনাহ থেকে এমনভাবে পরিষ্কার করে দিন যেমন ময়লা থেকে সাদা কাপড় পরিষ্কার করেছেন। তাকে দান করুন তার ঘরের চেয়ে উত্তম ঘর, তার পরিবারের চেয়ে উত্তম পরিবার এবং তার স্ত্রীর চেয়ে উত্তম স্ত্রী । তাকে জান্নাতে স্থান দিন, কবরের আযাব থেকে রক্ষা করুন। Ñসহীহ মুসলিম, হাদীস ৯৬৩

    ৭. মৃত্যুর পরে বেশ কটি মনযিল রয়েছে। আর প্রত্যেকটি মনযিলই ভয়াবহ। প্রথম মনযিল হল কবর। এখানে দাফনপর্ব শেষে মাইয়িতের ‘সুয়াল-জওয়াব’ হয়। তাই এ সময় তার জন্য দুআ করা বিশেষভাবে কাম্য, যাতে আল্লাহ তাআলা তার ‘সুয়াল-জওয়াব’ সহজ করে দেন।

    উসমান ইবনে আফফান রা. থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃতের দাফনকার্য সম্পন্ন করে কবরের পাশে দাঁড়িয়ে বলতেনÑ

    استغفروا لأخيكم، وسلوا له بالتثبيت، فإنه الآن يسأل.

    তোমরা তোমাদের ভাইয়ের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা কর এবং সে যেন সুদৃঢ় থাকতে পারে সে দুআ কর। কারণ এখনই তাকে ‘সুয়াল’ করা হবে। Ñসুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৩২২১

    ৮. কবর যিয়ারত আখেরাতের স্মরণে সহায়ক হওয়ায় হাদীসে এর প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে এবং যিয়ারতকারীর এক বড় করণীয় সাব্যস্ত করা হয়েছে মৃতের জন্য দুআ ও ইস্তিগফার। এ ক্ষেত্রে হাদীসে বেশ কিছু দুআ বর্ণিত হয়েছে। একটি দুআ এ রকমÑ

    السلام على أهل الديار من المؤمنين والمسلمين، ويرحم الله المستقدمين منا والمستأخرين، وإنا إن شاء الله بكم للاحقون.

    এই কবরস্থানের বাসিন্দা মুসলিম-মুমিনদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। আমাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের প্রতি আল্লাহ রহম করুন। ইনশাআল্লাহ আমরাও আপনাদের সাথে মিলিত হব। Ñসহীহ মুসলিম, হাদীস ৯৭৪

    ৯. জানাযার নামায ও কবর যিয়ারতের বাইরেও নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত ব্যক্তির জন্য দুআ করেছেন। উম্মে সালামা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু সালামাকে দেখতে এলেন, তখন তার চোখ খোলা ছিল। তিনি চোখ বন্ধ করে দিয়ে বললেন, যখন রূহ কবয করা হয় তখন চোখ তার অনুসরণ করে। এ কথা শুনে লোকেরা কান্না শুরু করে দিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা ভালো ছাড়া অন্য কিছু বলাবলি করো না। কারণ, তোমরা যা কিছু বল ফিরিশতারা তার উপর আমীন বলেন। তারপর তিনি এভাবে দুআ করলেন,

    اللهم اغفر لأبي سلمة، وارفع درجته في المهديين، واخلفه في عقبه في الغابرين، واغفر لنا وله يا رب العالمين، وافسح له في قبره، ونور له فيه.

    হে আল্লাহ! আপনি আবু সালামাকে ক্ষমা করে দিন, হেদায়েতপ্রাপ্তদের মধ্যে তার মর্যাদা উঁচু করুন, তার পরিবারের অভিভাবক হয়ে যান। হে জগতসমূহের প্রতিপালক! তাকে ও আমাদেরকে মাফ করে দিন। তার কবরকে প্রশস্ত ও নূরানী করে দিন। Ñসহীহ মুসলিম, হাদীস ৯২০

    একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু আমের রা.-কে এক যুদ্ধে আমীর নিযুক্ত করে পাঠিয়েছিলেন। একটি তীরের আঘাতে তিনি শাহাদাত বরণ করেন। তার আগে ভাতিজা আবু মূসা আশআরী রা.-কে বলে গেছেন, তিনি যেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে তার সালাম পৌঁছান এবং তার জন্য মাগফিরাতের দুআ করতে বলেন। আবু মূসা আশআরী রা. তা-ই করলেন। অতপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পানি আনিয়ে অযু করলেন এবং দু’হাত প্রসারিত করে দুআ করলেনÑ

    اللهم اغفر لعبيد أبي عامر، اللهم اجعله يوم القيامة فوق كثير من خلقك أو من الناس.

    হে আল্লাহ! আপনি আবু আমেরকে মাফ করে দিন। তাকে কিয়ামতের দিন আপনার বহু সৃষ্টির উপর (বর্ণনাকারী বলেন, অথবা বলেছেন, মানুষের উপর) মর্যাদা দিন। Ñসহীহ মুসলিম, হাদীস ২৪৯৮

    এই আয়াত ও হাদীসগুলো থেকে স্পষ্ট হয়ে গেল যে, দুআ জীবিত ও মৃত সকলের জন্য কল্যাণকর।

    দুই. সদকা

    আল্লাহ তাআলা নিজ ইলম ও হিকমতের ভিত্তিতে কাউকে করেছেন সচ্ছল, কাউকে অসচ্ছল। তবে সবার রিযিকের দায়িত্ব তাঁর হাতে। কিন্তু তা বান্দা পর্যন্ত পৌঁছার উপায় সকলের ক্ষেত্রে এক নয়; বরং বয়স, ব্যক্তি, পরিবেশ ও পরিস্থিতির বিভিন্নতায় তা বিভিন্ন হয়ে থাকে। একটি উপায় হল সদকা বা দান-খায়রাত। এটা অনেক ফযীলত ও সওয়াবের কাজ। তবে এর একমাত্র উদ্দেশ্য হতে হবে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। আল্লাহর সন্তুষ্টির নিয়তে সামান্য সদকাও মূল্যবান। আর অন্য কোনো উদ্দেশ্যে বিশাল সদকাও মূল্যহীন।

    এই সদকা জীবিতদের মত মৃতদের জন্যও করা যায় এবং এর সওয়াব তাদের কাছে পৌঁছে। এ বহু হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। এখানে কিছু হাদীস পেশ করা যেতে পারে।

    ১. ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, সাদ ইবনে উবাদা রা.-এর অনুপস্থিতিতে তার মা ইন্তেকাল করেন। তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন, আমার অনুপস্থিতিতে আমার মা মারা গেছেন। আমি যদি তার পক্ষ থেকে সদকা করি, তবে কি তার কোনো উপকারে আসবে? বললেন, হাঁ। সাদ রা. বললেন, আমি আপনাকে সাক্ষী রাখছি যে, আমার ‘মিখরাফ’ নামক বাগানটি আমার মা’র জন্য সদকা। Ñসহীহ বুখারী, হাদীস ২৭৫৬

    عن ابن عباس رضي الله عنهما: أن سعد بن عبادة رضي الله عنه توفيت أمه وهو غائب عنها، فقال: يا رسول الله! إن أمي توفيت وأنا غائب عنها، أينفعها شيء إن تصدقت به عنها؟ قال: نعم. قال: فإني أشهدك أن حائطي المخراف صدقة عليها.

    ২. আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, একলোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে জিজ্ঞাসা করল, আমার মা হঠাৎ মারা গেছেন, কোনো অসিয়ত করে যেতে পারেননি। আমার মনে হয়, তিনি যদি কথা বলতে পারতেন, তাহলে সদকা করে যেতেন। আমি তার পক্ষ থেকে সদকা করলে কি তিনি এর সওয়াব পাবেন?  বললেন, হাঁ। Ñসহীহ মুসলিম, হাদীস ১০০৪

    عن عائشة أن رجلا أتى النبي صلى الله عليه وسلم فقال: يا رسول الله! إن أمي افتلتت نفسها ولم توص، وأظنها لو تكلمت تصدقت، أفلها أجر، إن تصدقت عنها؟ قال: نعم.

    ৩. আবু হুরায়রা. থেকে বর্ণিত, একব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করল, আমার পিতা ইন্তেকাল করেছেন এবং ধন-সম্পদ রেখে গেছেন কিন্তু অসিয়ত করে যাননি। আমি যদি তার পক্ষ থেকে সদকা করি, তবে কি তার (গোনাহের) কাফফারা হবে? বললেন, হাঁ। Ñসহীহ মুসলিম, হাদীস ১৬৩০

    عن أبي هريرة أن رجلا قال للنبي صلى الله عليه وسلم: إن أبي مات وترك مالا، ولم يوص، فهل يكفر عنه أن أتصدق عنه؟ قال: نعم.

    ৪. আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রা. থেকে বর্ণিত, আস ইবনে ওয়ায়েল জাহেলীযুগে একশো উট যবাহ করার মানত করেছিল। অতপর (তার ছেলে) হিশাম তার পক্ষ থেকে ৫০টি উট যবাহ করে। (বাকি ৫০টি অপর ছেলে আমর যবাহ করতে চান।) এ ব্যাপারে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, তোমার পিতা যদি তাওহীদ স্বীকার করত আর তুমি তার পক্ষ থেকে রোযা রাখতে বা সদকা করতে, তবে এ তার কাজে আসত। Ñমুসনাদে আহমদ, হাদীস ৬৭০৪

    عن عمرو بن شعيب، عن أبيه، عن جده، أن العاص بن وائل نذر في الجاهلية أن ينحر مائة بدنة، وأن هشام بن العاص نحر حصته خمسين بدنة، وأن عمرا سأل النبي صلى الله عليه وسلم عن ذلك؟ فقال: أما أبوك فلو كان أقر بالتوحيد، فصمت وتصدقت عنه، نفعه ذلك.

    এ হাদীসগুলো থেকে প্রমাণিত হল যে, সদকার সওয়াব মৃত ব্যক্তির কাছে পৌঁছে।

    মৃত ব্যক্তির জন্য দুআ ও সদকা কল্যাণকর হওয়া উম্মাহর সর্বসম্মত মত। এতে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআর কোনো দ্বিমত নেই।

    ইমাম নববী রহ. (৬৭৬হি.) إذا مات الإنسان -এ হাদীসটির ব্যাখ্যায় লেখেন,

    وفيه أن الدعاء يصل ثوابه إلى الميت، وكذلك الصدقة، وهما مجمع عليهما.

    এ থেকে প্রমাণ মেলে যে, দুআর সওয়াব মৃত ব্যক্তির কাছে পৌঁছে। এমনিভাবে সদকার সওয়াবও। এ দুটি সর্বসম্মত বিষয়। Ñশরহু সহীহ মুসলিম ১১/৮৫

    অন্যত্র এক প্রসঙ্গে লিখেছেন,

    ৃمن أراد بر والديه فليتصدق عنهما، فإن الصدقة تصل إلى الميت وينتفع بها، بلا خلاف بين المسلمين، وهذا هو الصواب، وأما ما حكاه أقضى القضاة أبو الحسن الماوردي البصري الفقيه الشافعي في كتابه >الحاوي< عن بعض أصحاب الكلام من أن الميت لا يلحقه بعد موته ثواب، فهو مذهب باطل قطعا، وخطأ بين مخالف لنصوص الكتاب والسنة وإجماع الأمة، فلا التفات إليه ولا تعريج عليه.

    …যে পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করতে চাই সে যেন তাদের পক্ষ থেকে সদকা করে। সদকা মাইয়িতের কাছে পৌঁছে এবং তার উপকারে আসে। এতে কোনো দ্বিমত নেই। আর এটাই সঠিক। আর মাওয়ারদী কতক ‘আহলে কালাম’ থেকে যে কথা বর্ণনা করেছেন যে, মাইয়িতের কাছে কোনো সওয়াব পৌঁছে না, সেটা সম্পূর্ণ বাতিল ও ভুল। কিতাব-সুন্নাহ ও উম্মাহর ইজমা বিরুদ্ধ। সুতরাং তা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। Ñশরহু সহীহ মুসলিম ১/৮৯-৯০

    আবুল হাসান আলী ইবনে মুহাম্মদ আলখাযিন (৭৪১হি.) উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা. ও ইবনে আব্বাস রা.-এর হাদীস দুটি উল্লেখ করে বলেন,

    وفي الحديثين الآخرين دليل على أن الصدقة عن الميت تنفع الميت ويصله ثوابها. وهو إجماع العلماء.

    وكذلك أجمعوا على وصول الدعاء وقضاء الدين، للنصوص الواردة في ذلك.

    হাদীস দুটিতে এ কথার প্রমাণ আছে যে, সদকা মৃতের উপকারে আসে এবং এর সওয়াব তার কাছে পৌঁছে। এটা আলেমদের সর্বসম্মত মত। এমনিভাবে তারা এ ব্যাপারেও একমত পোষণ করেন যে, দুআ ও ঋণ পরিশোধের সওয়াবও পৌঁছে। কারণ এ ব্যাপারে বিভিন্ন হাদীস রয়েছে। Ñতাফসীরে খাযিন ৪/২১৩

    আরো দেখুন : ইকমালুল মুলিম ৩/৫২৪; আলআযকার, নববী পৃ. ১৫১; শরহে মিশকাত, তীবী ১/৩৬২; কিতাবুর রূহ পৃ. ১৩২; তাফসীরে ইবনে কাসীর ৭/৪৪০; সুবুলুস সালাম ২/১৬৯; তাসহীলুল ইলমাম বি ফিকহি আহাদীসি বুলূগিল মারাম ৪/২৯৪

    গাজর ভেবে স্পোর্টস কার খেয়ে ফেললো গাধা

    সব সময়ই গাধা কঠোর পরিশ্রমী প্রাণি কিন্তু পৃথিবীর সব দেশেই গাধা সম্পর্কে মানুষের ধারণাটা একটু অন্যরকম। অনেক সময় দেখা যায় কম বোধবুদ্ধি সম্পন্ন লোককে লোকে গাধা বলে ডাকে।
    জার্মানিতে একটি দামী স্পোর্টস কারের একজন মালিক একটি গাধার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন এবং এতে জয়লাভ করেছেন। মার্কাস জাহ্ন নামের এই লোক গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে তার বহুমূল্য ম্যাকলারেন স্পাইডার স্পোর্টস কারটি ভোগেলসবার্গ শহরের একটি আস্তাবলের কাছে পার্ক করেন।
    ফিরে এসে তিনি দেখেন যে গাড়ির পেছন দিকের অংশটি কেউ চিবিয়ে খেয়ে ফেলার চেষ্টা করেছে। খোঁজখবর নিয়ে তিনি বুঝতে পারেন যে এই কাজটি ছিল ঐ আস্তাবলের ভাইটাস নামের এক ক্ষুধার্ত গাধার। স্থানীয় পুলিশের ধারণা, কমলা রঙের গাড়িটিকে ঐ গাধা একটি বিশাল গাজর বলে ভুল করে থাকতে পারে।
    এরপর ঐ গাড়ির মালিক গাধার মালিকের কাছে ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলার রায়ে আদালত ৬৮০০ ডলার ক্ষতিপূরণ দেয়ার জন্য ভাইটাসের মালিককে আদেশ দেন।
    এই রায়ের বিরুদ্ধে গাধার মালিক আপিল করবেন বলে জানা যাচ্ছে। তার যুক্তি, এই ঘটনায় ভাইটাসের কোন দোষ নেই। আর তিন লক্ষ ১০ হাজার ইউরো দামের এই গাড়িটিকে আস্তাবলের পাশে পার্ক করে রাখা গাড়ির মালিকের মোটেই উচিত হয়নি বলে তিনি বলছেন। খবর বিবিসি।

    চিকিৎসা বিজ্ঞানে দেহঘড়ি আবিষ্কারক ৩ মার্কিন বিজ্ঞানীর নোবেল জয়

    চিকিৎসাবিজ্ঞানে অবদান রাখায় ২০১৭ সালের নোবেল পুরস্কার জিতলেন বিজ্ঞানী জেফরি হল, মাইকেল রোশবাশ ও মাইকেলন ইয়াং। গতকাল নোবেল কমিটি এ তিন মার্কিন বিজ্ঞানীর নাম ঘোষণা করেন। পুরস্কারের ৮০ লাখ সুইডিশ ক্রোনার তিন চিকিৎসককে ভাগ করে দেওয়া হবে।
    বায়োলজিকাল ক্লকস (বডি ক্লক বা দেহঘড়ি)-এর মলিকিউলার মেকানিজমের আবিষ্কারের কারণে তাদের নির্বাচিত করে নোবেল কমিটি। সুইডেনের কালোনিসকা ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘তাদের আবিষ্কারের মাধ্যমে জানা যায় মানুষ, উদ্ভিদ ও প্রাণীরা কীভাবে জৈবিক ছন্দে অভ্যস্ত হয় এবং তার মাধ্যমে কীভাবে পৃথিবীর বিপ্লব ঘটেছে।’
    সারকাডিয়ান রিদম নামে পরিচিত এই দেহ ঘড়ি পৃথিবীর ঘূর্ণনের সাথে তাল রক্ষা করে এবং মানবদেহের দৈনন্দিন কাজের সঙ্গে এর গভীর যোগাযোগ রয়েছে।
    নোবেল প্রাইজ কমিটি বলছে, তাদের এই আবিষ্কার ‘আমাদের স্বাস্থ্য এবং শারীরিক সুস্থতার’ ওপর ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেছে। দেহ ঘড়ির জন্য রাতের বেলা আমাদের ঘুম আসে। আমাদের মুড, সজাগ থাকা এমনকি হার্ট সমস্যার সাথেও এর যোগাযোগ রয়েছে।
    তাদেরকে সম্মানি হিসেবে ১১ লাখ মার্কিন ডলারও দেওয়া হচ্ছে। প্রতিবছর মেডিসিনেই প্রথম নোবেল জয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। বিজ্ঞান, সাহিত্য ও শান্তিতে বিশেষ অবদানের জন্য এই পুরস্কার দেওয়া হয়। উল্লেখ্য ১৯০৫ সালে নোবেল পুরস্কার প্রদান শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত চিকিৎসা ক্ষেত্রে ১০৮ বার নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। ২০১৬ সালে চিকিৎসায় নোবেল জিতেছিলেন জাপানের নাগরিক ইয়োশিনোরি ওহসুমি।
    ১৮৯৫ সালের নভেম্বর মাসে আলফ্রেড নোবেল তার মোট উপার্জনের ৯৪% (৩ কোটি সুইডিশ ক্রোনার) দিয়ে তার উইলের মাধ্যমে নোবেল পুরষ্কার প্রবর্তন করেন। এই বিপুল অর্থ দিয়েই শুরু হয় পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, চিকিৎসাবিজ্ঞান, সাহিত্য ও শান্তিতে নোবেল পুরস্কার প্রদান। ১৯৬৮তে তালিকায় যুক্ত হয় অর্থনীতি।
    পুরস্কার ঘোষণার আগেই মৃত্যু বরণ করেছিলেন আলফ্রেড নোবেল। আইনসভার অনুমোদন শেষে তার উইল অনুযায়ী নোবেল ফাউন্ডেশন গঠিত হয়। তাদের ওপর দায়িত্ব বর্তায় আলফ্রেড নোবেলের রেখে যাওয়া অর্থের সার্বিক তত্ত¡াবধায়ন করা এবং নোবেল পুরষ্কারের সার্বিক ব্যবস্থাপনা করা। আর বিজয়ী নির্বাচনের দায়িত্ব সুইডিশ একাডেমি আর নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটিকে ভাগ করে দেওয়া হয়।

    পবিত্র হিজরি নববর্ষ আজ

    আজ শুক্রবার পয়লা মহররম। শুরু হলো আরবি নববর্ষ, হিজরী ১৪৩৯। বাংলাদেশের আকাশে গতকাল সন্ধ্যায় মহররম মাসের চাঁদ দেখা গেছে। আগামী ১ অক্টোবর রবিবার সারা দেশে পবিত্র আশুরা উদযাপিত হবে।

    বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে গতকাল সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।  আশুরার দিন সরকারি ছুটি পালিত হবে।

    বিশ্বনবী হজরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হিজরতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে হিজরি সনের শুভ সূচনা। হিজরি বছরের প্রথম মাস মহররম।

    বাংলা ও ইংরেজি নববর্ষে আমাদের দেশে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকে। আরবি নববর্ষের অনেক গুরুত্ব ও তাৎপর্য থাকা সত্ত্বেও উল্লেখ করার মতো কোনো কর্মসূচি পালন করা হয় না বললেই চলে।

    হিজরি বছরের শেষ মাস এবং শুরুর মাস অনেক মর্যাদা ও ফজিলতের মাস। তাই এ হিজরি বছরের শেষ এবং নতুন বছরের প্রথম রাত ও দিন বিগত দিনের গোনাহ মাফ এবং আগামী দিনের কল্যাণ লাভের এক মর্যাদপূর্ণ সময়।

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ত্যাগ ও কুরবানির ঐতিহাসিক স্মৃতি স্মারক হিজরি (আরবি) সন। ইসলামের প্রচার, প্রসার এবং বিজয় কেতন উড্ডীনে হিজরি সনের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অত্যাধিক। আইয়্যামে জাহেলিয়াতের জ্ঞানপাপীরা বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও ইসলামকে পৃথিবী থেকে চিরতরে সরিয়ে দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল। আল্লাহর নির্দেশে বিশ্বনবী দ্বীন প্রচারে প্রিয় মাতৃভূমি ত্যাগ করে মাদিনা মুনাওয়ারায় হিজরত করেন। যাকে কেন্দ্র করেই আজকের হিজরি সন। যা আজো মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ে আলোকবর্তিকা হিসেবে জাগরিত হয়ে আছে।

    মুহাররম মাস শুধুমাত্র কারবালার ঘটনা স্মরণ করার মাসই নয়, এ মাস গোনাহ থেকে বেঁচে থাকার, ত্যাগের, ভালো কাজ করার, খারাপ কাজ থেকে বেঁচে থাকার এবং মুসলিম বিশ্বকে নতুন করে গড়ার প্রতিজ্ঞা করার মাস। ইসলাম ও মুসলমানের জন্য এ মাসের রয়েছে অনেক শিক্ষণীয় ও পালনীয় বিষয়। তাইতো  এ মাসের ৯, ১০ ও ১১ তারিখে রোজা রাখা উত্তম।

    পবিত্র আশুরা মুসলিম উম্মাহর জন্য এক তাৎপর্যময় ও শোকাবহ দিন। হিজরি ৬১ সালের এই দিনে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) ও তার পরিবারের সদস্যরা ইয়াজিদের সৈন্যদের হাতে কারবালার ময়দানে শহীদ হন।

    এছাড়া এই দিনে হজরত মুসা (আ.) ফেরাউনের জুলুম থেকে পরিত্রাণ লাভ করেছিলেন তার অনুসারীদের নিয়ে নীল নদ পার হয়ে। তাদের পিছু নেয়া ফেরাউন সদলবলে নীল নদে ডুবে যায়।

    এমন আরও অনেক তাৎপর্যময় ঘটনা ঘটেছিল এই দিনে। তবে মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে কারবালার প্রান্তরে। সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) এবং তার পরিবার ও অনুসারীরা যুদ্ধ করতে গিয়ে ফোরাত নদীর তীরে ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে শহীদ হন। শান্তি ও সম্প্রীতির ধর্ম ইসলামের সুমহান আদর্শ সমুন্নত রাখতে তাদের এই আত্মত্যাগ মানবতার ইতিহাসে সমুজ্জ্বল হয়ে আছে।

    কারবালার এই শোকাবহ ঘটনা ও পবিত্র আশুরার শাশ্বত বাণী আমাদের অন্যায় এবং অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে আজও অনুপ্রেরণা জোগায়। প্রেরণা জোগায় সত্য ও সুন্দরের পথে চলার। মুসলিম বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় পবিত্র আশুরা পালিত হবে।

    জাপানে অন্তর্বর্তীকালীন নির্বাচনের ঘোষণা অ্যাবের

    মেয়াদ শেষ হওয়ার এক বছর আগেই অন্তর্বর্তীকালীন সাধারণ নির্বাচনের ডাক দিয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবে। বৃহস্পতিবার পার্লামেন্ট ভেঙে দেয়ার কথা জানিয়ে অ্যাবে বলেন, জাতীয় সংকট ও উত্তর কোরিয়ার ক্রমশ বেড়ে ওঠা হুমকি মোকাবেলায় জনগণের ম্যান্ডেটের জন্য এই নির্বাচন।
    নির্বাচনের সিদ্ধান্ত এমন সময়ে আসলো যখন অ্যাবের জনপ্রিয়তা রেকর্ড সর্বনিম্ন থেকে উন্নতির দিকে এবং বিরোধীদলও বিক্ষিপ্ত অবস্থায় রয়েছে। অ্যাবে নির্বাচনের তারিখ জানাননি তবে জাপানি গণমাধ্যম ধারণা করছে ২২ অক্টোবর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। উ. কোরিয়ার হুমকির মুখে অ্যাবের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর আগে স্বজনপ্রীতির অভিযোগে তার জনপ্রিয়তা নিম্নমুখী ছিল।
    জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা ও সামাজিক খাতে ২ ট্রিলিয়ন ইয়েন (১৭.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) প্রণোদনা প্যাকেজের ঘোষণা দিয়েছেন। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, জাপানকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে নতুন প্রণোদনা প্যাকেজ প্রয়োজন।

    চতুর্থবারের মতো জার্মান চ্যান্সেলর মার্কেল

    চতুর্থবারের মতো জার্মানির চ্যান্সেল নির্বাচিত হলেন অ্যাঙ্গেলা মার্কেল। নিজে নির্বাচিত হলেও সাত দশকের ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ করেছে মার্কেলের দল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ)। তবে ৩২ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট পেয়ে সিডিইউ জার্মান পার্লামেন্টে সবচেয়ে বড় দল হিসেবেই অবস্থান ধরে রেখেছে।
    মার্কেলের জোটের বর্তমান অংশীদার সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এসপিডি ২০ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। তবে এসপিডি ট্রেজারি বেঞ্চে না বসে আপাতত বিরোধী দলের আসনে বসার ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া কট্টর ডানপনন্থি দল অলটারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি) ১৩.১ শতাংশ আসন পেয়ে তৃতীয়, এফডিপি সাড়ে ১০.৫ শতাংশ, গ্রিনস পার্টি ৮.৯ শতাংশ ও বাম দল ৮.৯ শতাংশ ভোট পেয়েছে।
    নির্বাচিত হওয়ার পর জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়েছেন মার্কেল। তিনি বলেন, ‘তাঁর প্রত্যাশা ছিল দল আরও ফল করবে। রক্ষণশীল শক্তির (এএফডি পার্টি) উত্থান ঘটায় জনগণের ভয়, উদ্বেগের কথা আমরা শুনব।’ অপরদিকে নির্বাচনের ফলাফ ঘোষণার পর কট্টর ডানপণ্থি দল এএফডি সমর্থকরা বিক্ষোভ করেছে।
    জার্মান পার্লামেন্টে ৫৯৮ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে সরাসরি নির্বাচন হয়। বাকি ২৯৯ আসনে ভোটপ্রাপ্তির হারের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন দলের মধ্যে কোটাভিত্তিক আসন বণ্টন হয়।

    হাইড্রোজেন বোমায় তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ!

    উত্তর কোরিয়া হুমকি দিয়েছে, তারা প্রশান্ত মহাসাগরে হাউড্রোজেন বোমার পরীক্ষা চালাতে পারে। যদি সত্যিই উত্তর কোরিয়া এই পরীক্ষা চালায় তাহলে কয়েক দশকের মধ্যে এই প্রথম পরমাণু বোমার পরীক্ষা চালানোর ঘটনা ঘটবে। এই হুমকি ইতোমধ্যে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি করেছে। আর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উত্তর কোরিয়াকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করার হুমকি দিয়েছেন বিশ্বের সবচেয়ে বড় মঞ্চ জাতিসংঘে।
    হুমকি মোতাবেক প্রশান্ত মহাসাগরে উত্তর কোরিয়া যদি হাইড্রোজেন বোমা ফেলে, তাহলে আমেরিকার সঙ্গে দেশটির যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আর একবার যুদ্ধ বেধে গেলে তা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা প্রবল। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের ভবিষ্যদ্বাণী হচ্ছে, উত্তর কোরিয়ার ‘যুদ্ধবাজ’ প্রেসিডেন্ট এখন চিতাবাঘের পিঠে সওয়ার হয়েছেন, সেখান থেকে নামার সুযোগ কম। আবার ছোট্ট একটি দেশের হুমকি মুখ বুঝে মেনে নিতেও পারবেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এই অবস্থায় দুই দেশই গোপনে ও প্রকাশ্যে একে অপরের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সামরিক প্রস্তুতি সেরে ফেলেছে।
    উত্তর কোরিয়া কী পারে?: উত্তর কোরিয়া ক্ষেপণাস্ত্রের আধুনিকায়নে প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছে। যাতে এই ক্ষেপণাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্র দেশগুলোতে আঘাত হানতে পারে। ছয়টি পরমাণু অস্ত্রের এবং একটি ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষার পর বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, পিয়ংইয়ং খুব কাছেই পৌঁছে গেছে। তবে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ লুইস জেফরি কিছুটা কৌতুকের সুরে বলেন, উত্তর কোরিয়ার সামর্থ্য বা তারা পরমাণু অস্ত্রে কতটা সক্ষম তা বোঝা যাবে তারা যখন পরীক্ষা বা হামলা চালাবে। মার্কিন সামরিক বাহিনী ধরে নিয়েছে, উত্তর কোরিয়া ইতোমধ্যে সামর্থ্য অর্জন করেছে। গত জুনে এক বক্তব্যে ইউএস প্যাসিফিক কমান্ডের (ইউএসপ্যাকম) অ্যাডমিরাল হ্যারি হ্যারিস বলেন, আমি জানি উত্তর কোরিয়ার সামর্থ্য নিয়ে কিছুটা বিতর্ক আছে। কিন্তু আমাদের আজকের জন্যই প্রস্তুতি নিতে হবে। আমি তার কথায় (কিম জং উন) বিশ্বাস করি। আমি তার আকাঙ্ক্ষা সম্পর্কে জানি।
    উত্তর কোরিয়া কিভাবে করতে পারে?: সাধারণত হাইড্রোজেন বোমা ফেলা হয় বিমান থেকে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পিয়ংইয়ং মিসাইল আকারে বোমা ফেলতে পারে। কারণ তারা জটিল প্রযুক্তি তৈরিতে সফলতা দেখাতে চায়। পরমাণু নীতি বিষয়ক বিশেষজ্ঞ এবং এমআইটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রফেসর ভিপিন নারাং বলেন, পরমাণু অস্ত্র সজ্জিত মিসাইল সুযোগ বুঝে পরীক্ষা করা হতে পারে। আর এটা খুবই খারাপ হবে বিশ্বের  জন্য। এটা কেবল উস্কানিই হবে না, এটা বড় ধরনের একটা ভুল সিদ্ধান্তও হবে।
    তারা কী করবে?: নারাং বলেন, জাতিসংঘে উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রি খুব সতর্কতার সঙ্গে মন্তব্য করেছেন। তিনি পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষার কথা বললেও তা কিম জং উনের হাতেই আছে বলে উল্লেখ করেছেন। আমার মনে হয় এটা তাদের চালাকি। কারণ তারা পরীক্ষার আগে খারাপ পরিণতি সম্পর্কে অবশ্যই চিন্তা করবে। প্রথমে তারা হয়তো ছোট মাপের পরীক্ষা চালাতে পারে। উদাহরণ হিসেবে আরেকটি আন্ত:মহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইলের কথা বলা যায়। আর সত্যিই যদি বড় ধরনের কোনো পরীক্ষা চালায় তাহলে বিস্মিত হওয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না। তবে লুইস মনে করেন, রি তার দেশের বিস্তর কৌশলের সঙ্গে তাল মিলিয়েই হুমকি দিয়েছেন। কারণ উত্তর কোরিয়া তার ভবিষ্যত্ বিপদের কথা চিন্তা করছে না। আমরা ১৯৬৬ সালে চীনকে দেখেছি তাদের পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাতে। আমরা এখন উত্তর কোরিয়ার পরীক্ষার অপেক্ষায় আছি।
    তারা করলে কী হবে?: ভৌগোলিক দিক থেকে উত্তর কোরিয়ার একটা গুরুত্ব আছে। তাই বোমার পরীক্ষা হলে সবচেয়ে বিরূপ প্রভাব পড়বে পরিবেশের ওপর। যারা বিকিনি অ্যাটলের কাছে বাস করেন তারা এখনো হুমকির মধ্যে আছেন। কারণ বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে যুক্তরাষ্ট্র তাদের অনেকগুলো পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। ফলে তারা এখনো স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে আছেন। বিস্ফোরণ মাছ তথা পানির নিচে বাস করা প্রাণীর জীবন ধ্বংস করতে পারে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্স ইনস্টিটিউটের তথ্যানুসারে, বিশ্ব ১৯৮০ সালের পর এই ধরনের পরমাণু পরীক্ষা দেখেনি। ওই সময় চীন উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় লপ নুরকে কেন্দ্র করে অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছিল। সিটিবিটিও’র তথ্য অনুযায়ী, পরমাণু অস্ত্রের আবির্ভাবের পর দুই হাজারের বেশি পরীক্ষা চালানো হয়েছে। শতাধিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালানো হয়েছে প্রশান্ত মহাসাগরের প্রত্যন্ত অঞ্চলে। মার্শাল দ্বীপপুঞ্জেও যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। সেখানেও জনগণের মধ্যে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়েছে, জন্মগত সমস্যা দেখা দিয়েছে এবং থাইরয়েড সমস্যাও দেখা দিয়েছে।  ফ্রান্সের পলিনেসিয়ায়ও একই প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। পরীক্ষার কারণে ভূমিধস, সুনামি এবং ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটেছে বলে সিটিবিটিও জানিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, উত্তর কোরিয়া যদি বিচ্ছিন্ন কোথাও পরীক্ষা চালায় তাহলে হয়তো মানুষের ক্ষতি কম হবে। ক্ষতির পরিমাণটা নির্ভর করছে তারা কোথায় পরীক্ষা চালাবে এবং ওই সময়ের আবহাওয়া কেমন থাকবে, জানান সেন্টার ফর ননপ্রোলিফারেশন স্টাডিজের সিনিয়র গবেষক মেলিসা হ্যানহ্যাম। তিনি বলেন, এটা তো সত্য যে, পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষায় মানুষ এবং পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে।
    তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা!: উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্রকে বাধা দেওয়ার সব ধরনের প্রচেষ্টা চালানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। চীন এবং রাশিয়া উত্তর কোরিয়ার ওপর অবরোধে সমর্থন দিলেও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় সমস্যার সমাধানের চেষ্টা চালানোর আহবান জানিয়েছে। চীন আগের চেয়ে উত্তর কোরিয়ার প্রতি কঠোর হচ্ছে। কিন্তু তাই বলে কোরীয় উপদ্বীপে কোনো যুদ্ধ বাধলে তাতে দুই দেশ জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষে অবস্থান নেবে এমনটা ভাবছেন না বিশ্লেষকরা। কোরীয় উপদ্বীপে কিংবা উত্তর কোরিয়ায় হামলা চালালে তাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং চীন। রাশিয়ায়ও পড়বে প্রভাব। আর রাশিয়া সুযোগ বুঝেই উত্তর কোরিয়ার পক্ষে অবস্থান নেবে। কারণ তারা সোভিয়েত ভাঙার কষ্ট এখনো ভুলতে পারেনি, আর পারবেও না বলে মনে করেন জেনেভা ভিত্তিক রাশিয়ান নিউক্লিয়ার ফোর্সেস রিসার্স প্রজেক্টের স্বাধীন বিশ্লেষক পাভেল পডভিগ। যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে তা তার বিরোধী দেশগুলো মেনে নিতে পারবে না। ফলে উত্তর কোরিয়ার হুমকিতে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা বাড়ছে।

    রোহিঙ্গাদের জন্য ২০ কোটি ডলার প্রয়োজন: জাতিসংঘ

    বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সহায়তার জন্য ২০ কোটি ডলার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির বাংলাদেশ আবাসিক সমন্বয়কারী রবার্ট ডি ওয়াটকিন্স। ৪ লাখ রোহিঙ্গাকে আগামী ছয় মাস সহায়তা দিতে এই সহায়তা প্রয়োজন।
    রয়টার্সকে দেয়া সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, এটা সুনিশ্চিত তথ্য নয় তবে আমাদের কাছে থাকা তথ্যানুযায়ী এটি আমরা ধারণা করছি। ওয়াটকিন্স বলেন, রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আসা এখনো অব্যাহত আছে তাই বলা যাচ্ছে না কত মানুষের জন্য কতদিনের ব্যবস্থা করতে হবে।
    তিনি বলেন, আমরা অবশ্যই ১০ বছরব্যাপী পরিকল্পনা করতে চাই না কারণ আমরা আশা করতে চাই আলোচনার মাধ্যমে এদের ফেরত পাঠানো সম্ভব হবে। আমরা বেশি দূরের ভবিষ্যত নিয়েও পরিকল্পনাও করতে চাই না কারণ এতে একটা খারাপ সংকেত যাবে যে এই মানুষগুলো এখানে দীর্ঘ সময়ের জন্য থাকবে।
    ওয়াটকিন্স বলেন, আমাদের দাতাগোষ্ঠী একবছরের বেশি সময়ের জন্য সহযোগিতা করতে প্রস্তুত নয় কারণ আমরা অনেক বেশি অর্থের চাহিদা দিয়েছি। রয়টার্স।

    মিয়ানমারে মুসলিম ইস্যু : বিশ্ব কি অস্বীকার করবে এই ছবি?

    ১৯৩৬ সালে তোলা একটি ঐতিহাসিক ছবি। স্থান- তৎকালিন রেঙ্গুন বিশ্ব বিদ্যালয়, বার্মা। ছবিতে মাঝখানে চেয়ারে পা তুলে বসে আছেন একজন রোহিঙ্গা, তার নাম আবদুর রশীদ। তিনি ছিলেন অল বার্মা স্টুডেন্টস ইউনিয়নের সভাপতি এবং তার ডান পাশে বসে বসে থাকা লোকটি সুচির পিতা অং সান ওই সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক। বাম পাশে যিনি বসে আছেন তিনি আবদুর রাজ্জাক, বার্মা মুসলীম লীগের সভাপতি। মূলত বার্মার স্বাধীনতা এসেছিলো তাদের হাত ধরেই। আর এই রোহিঙ্গা সভাপতি আবদুর রাজ্জাক আজকের মিয়ানমারের সংবিধানের খসড়া প্রণয়নকারী। অথচ জেনারেল মিন অং হিয়াং এবং অং সান সুচি উভয়েই জাতি ঘৃনার প্রকাশ ঘটাতে গিয়ে কার্যত বার্মার রাজনৈতিক ইতিহাসকেই অস্বীকার করলেন।
    সুচির বাবা জেনারেল অং সানের অন্যতম রাজনৈতিক সহযোগী ছিলেন আবদুর রাজ্জাক এবং জেনারেল অং সানের গঠিত বার্মার স্বাধীনতা পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তীকালীন মন্ত্রিসভার শিক্ষা ও পরিকল্পনা মন্ত্রী ছিলেন আবদুর রাজ্জাক। ১৯৪৭ এর ১৯ জুলাই জেনারেল অং সানের সাথে যে ৬ জন মন্ত্রী খুন হন তাদের মধ্যে আবদুর রাজ্জাক অন্যতম। বার্মা আজও রাষ্ট্রীয়ভাবে ১৯ জুলাইকে ‘শহীদ দিবস’ হিসেবে পালন করে থাকে। কেবল আবদুর রাজ্জাকই নন, সুচির বাবা এবং বার্মার জাতির পিতা জেনারেল অং সানের সবচেয়ে ঘনিষ্ট রাজনৈতিক সহযোগীদের মধ্যে আরও অনেক মুসলমান ছিলেন। সূত্র : ইউকিপিডিয়া, ইন্টারনেট।

    বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে জাপান ৪০ লক্ষ ডলার দেবে

    রোহিঙ্গা মুসলিমদের পরিস্থিতি মোকাবেলায় জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারো কোনো বলেছেন জাপান বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে ৪০ লক্ষ দেয়ার অঙ্গীকার করেছে।

    জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে যাওয়া কোনো নিউ ইয়র্কে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলছিলেন।

    মিয়ানমার নিরাপত্তা বাহিনীর উপর হামলার জন্যে কোনো রোহিঙ্গাদের সমালোচনা করে বলেন তার প্রেক্ষিতেই এই সহিংসতার উৎপত্তি। তিনি সাধারণ রোহিঙ্গাদের হত্যাকান্ডেরও সমালোচনা করেন যার প্রেক্ষিতে ৪ লক্ষেরও বেশি মানুষ প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এনএইচকে।

    রোহিঙ্গা সংকট, জাতিসংঘকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহবান ট্রাম্পের

    মিয়ানমারে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে শক্তিশালী ও দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কারণ এই সহিংসতা ওই অঞ্চলকে হুমকির মুখে ফেলছে। এই তথ্য জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স। গতকাল বুধবার শান্তিরক্ষা কার্যক্রম সংস্কারের ওপর নিরাপত্তা কাউন্সিলের বৈঠকে এই কথা বলেন মাইক পেন্স।
    মাইক পেন্স বলেন, সরকারি বাহিনীর ওপর হামলার কথা বলে রোহিঙ্গা গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে, ভয়ংকর হামলা চালানো হচ্ছে এবং রোহিঙ্গাদের বাড়ি ছাড়া করা হচ্ছে। পেন্স আবারো মিয়ানমারকে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে বলেন এবং কূটনৈতিক পথে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহবান জানান। পেন্স বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং আমি নিরাপত্তা পরিষদকে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে বলিষ্ঠ ও দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বলেছি। রোহিঙ্গাদের সহায়তা এবং তাদের আশা জাগাতে যা করা দরকার তার ব্যবস্থা করার কথাও বলেছি, জানান মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট।
    গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইনে দেশটির সেনাবাহিনীর তথাকথিত ক্লিয়ারেন্স অপারেশন শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত ৪ লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। জাতিসংঘ সামরিক বাহিনীর এক অভিযানকে জাতিগত নিধন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের সমালোচনা করে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, সংস্থাটি এই নামের উপযুক্ত নয়। কারণ এতে ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী অনেক দেশকে স্বাগত জানানো হয়েছে। রয়টার্স।

    কুকুরটি ক্লাস ফাঁকি দেয় না

    যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া সাউদার্ন ইউনিভার্সিটির পলিটিক্যাল সায়েন্স ক্লাসে একজন ব্যতিক্রমী ‘ছাত্রী’কে দেখা যায়। আর তা হলো একটি কুকুর। প্রতিদিন দেখা যায়, শিক্ষক ক্লাসে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে কুকুরটিও ঢুকে পড়ে।
    এরপর ক্লাসের একদম সামনে সে শিক্ষার্থীদের দিকে মুখ করে বসে পড়ে। পুরো ক্লাসে সে একই ভঙ্গিমায় বসে থাকে। কুকুরটির নাম লুনা। জানা গেছে, একটি ঘুর্ণিঝড়ে লুনা তার মনিবের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। পরে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের জেসিকা নামের এক ছাত্রী তাকে কুড়িয়ে পায়। এরপর থেকে সে জেসিকার সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসে।
    কিন্তু প্রতিদিন সে পলিটিক্যাল সায়েন্স ক্লাসে কেন ঢোকে সেই রহস্যের কিনারা হয়নি। মনোযোগী এই ‘ছাত্রীর’ ছবি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে প্রকাশ হলে তা লাখ লাখ মানুষ দেখে প্রশংসা করেছে। শেয়ার হয়েছে হাজার হাজার বার। এনডিটিভি