অলিম্পিক এক বছরের জন্য স্থগিতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী ও আইওসি প্রেসিডেন্টের ঐকমত্য

কয়েক সপ্তাহের জল্পনা-কল্পনা শেষে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনযো আবে বলেছেন, করোনাভাইরাসের ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক মহামারীর কারণে টোকিও অলিম্পিক স্থগিত করা হবে।

শিনযো আবে বলেন, দেরিতে হলে ২০২১ সালের গ্রীষ্মকালের মধ্যে টোকিও অলিম্পিক এবং প্যারালিম্পিক আয়োজনের বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি। যখন আমরা প্রমাণ করতে পারবো যে মানুষ নতুন করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট রোগ কাটিয়ে উঠতে পেরেছে তখন আমরা পরিপূর্ণ আকারে গেমস আয়োজনের বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

আবে বলেন, তিনি আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি বা আইওসি’র প্রেসিডেন্ট টমাস বাখের কাছে মঙ্গলবার এক টেলিকনফারেন্সের সময় অলিম্পিক স্থগিতের পরামর্শ দেন।

তিনি বলেন, বাখ সর্বান্তঃকরণে একমত হয়েছেন। আবে বলেন, তিনি এবং বাখ এ বিষয়েও সম্মত হয়েছেন যে গেমস বাতিল করে দেয়া কোন সমাধান নয়।

আয়োজক শহরের গভর্নর এবং আয়োজক কমিটির প্রধানও এই টেলিকনফারেন্স যুক্ত ছিলেন।

টোকিও’র গভর্নর ইউরিকো কোইকে বলেন, এটা তাৎপর্যপূর্ণ যে অলিম্পিক স্থগিতের সময়কাল বা লক্ষ্য হিসেবে ২০২১ সালের গ্রীষ্মকালকে নির্ধারণ করা হয়েছে। এটা ক্রিড়াবিদদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ কারণ তাদের হাতে এখন একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকছে।

আয়োজক কমিটির প্রধান ইয়োশিরো মোরি বলেন, গেমসের নাম হিসেবে ‘টোকিও ২০২০’ বহাল থাকছে।

তিনি আরও বলেন, অলিম্পিক শিখা জাপানেই রাখা হবে এবং বৃহস্পতিবার শুরু হতে যাওয়া মশাল রিলে দৌড় স্থগিত করা হবে।

উল্লেখ্য, গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিক জুলাই মাসের শেষ থেকে সেপ্টেম্বর মাসের প্রথমের মধ্যে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

রবিবার, আইওসি’র জরুরি বোর্ডসভা অনুষ্ঠিত হয় এবং এরপর আইওসি গেমসের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য চার সপ্তাহের সময়সীমা ঘোষণা করে।

তবে এরপর থেকে আরও দ্রুততার সঙ্গে কাজ করার জন্য আয়োজকদের প্রতি আহ্বান জোরদার হচ্ছিল।

স্কুল পুনরায় খোলার নির্দেশিকা উন্মোচন জাপান সরকারের

জাপান সরকার করোনাভাইরাসের বিস্তার সংকুচিত করতে বন্ধ করা স্কুলগুলো পুনরায় খুলে দেয়ার জন্য নির্দেশিকা উন্মোচন করেছে।

স্কুলগুলোকে আগামী মাসে শুরু হতে যাওয়া নতুন শিক্ষাবর্ষে শ্রেণীকক্ষে পাঠদান শুরুর জন্য প্রস্তুত করতে ঐ দলিল আজ প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী কোইচি হাগিউদা। একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেলের দেয়া প্রস্তাবের ভিত্তিতে এই নির্দেশিকা প্রণীত হয়েছে।

নির্দেশিকায় স্কুলগুলোকে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায় বলে মনে করা তিনটি প্রধান পরিস্থিতি এড়িয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এগুলো হল যথাক্রমে, বদ্ধ এবং দুর্বল বায়ু চলাচল ব্যবস্থা সম্পন্ন স্থান, লোকজনের ভিড় এবং খুব স্বল্প-দূরত্বের মধ্যে মৌখিক আলাপ।

এধরণের পরিস্থিতি এড়িয়ে যেতে নির্দেশিকায় জোরালো বায়ু চলাচল ব্যবস্থা, কম দূরত্বে কথা বলার ক্ষেত্রে মুখের মাস্কের ব্যবহার এবং ইতিমধ্যে সংক্রমিত বলে নিশ্চিত হওয়া বা সংক্রমিত কোন ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে এসেছে বলে মনে হওয়া শিক্ষার্থীদের স্কুলে আসা বন্ধ করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

হাগিউদা সাংবাদিকদের বলেন, যথেষ্ট পরিমাণ পূর্ব-সতর্কতা নেয়ার মধ্যে দিয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষগুলো স্কুলসমূহ পুনরায় খোলার প্রস্তুতি নিবে।

টোকিওতে নিক্কেই শেয়ারের সূচকে ১ হাজার ২০০ পয়েন্টেরও বেশি বৃদ্ধি

টোকিও’র শেয়ার বাজারের বিভিন্ন শেয়ারের মূল্যে ৪ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মত মঙ্গলবারে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি পরিলক্ষিত হয়েছে যা নতুন করোনাভাইরাসের মহামারীর পর ব্যাপক হারে দরপতনের থেকে কিছুটা পুনরুদ্ধার।

গড় সূচক নিক্কেই দিনের লেনদেন শেষ করে ১৮ হাজার ৯২ পয়েন্টে যা সোমবারের দিন শেষের লেনদেন থেকে ৭.১% বেশি। এটি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ পয়েন্টেরও বেশি বৃদ্ধি।

আর্থিক বাজারকে চাঙ্গা করার জন্য ব্যাংক অব জাপান’এর বিনিময়-বাণিজ্য তহবিল কিনে নেয়াও দিনের শুরু থেকে বিনিয়োগকারীদের ক্রয়-মনোভাবকে ফিরিয়ে আনে।

মার্কিন কংগ্রেস হয়তো ২ লক্ষ কোটি মার্কিন ডলারের একটি অনুদান প্যাকেজ অনুমোদন করতে পারে এই প্রত্যাশাও এ সূচকটিকে বাড়িয়ে দেয়।

করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় চার হাজার হাসপাতাল শয্যা প্রস্তুত করছে টোকিও

টোকিও মেট্রোপলিট্যান সরকারের কর্মকর্তারা নতুন করোনাভাইরাসের আকস্মিক দ্রুত বিস্তারে আক্রান্ত রোগীদের জন্য চার হাজার হাসপাতাল শয্যা প্রস্তুতের পরিকল্পনা করছে।

সোমবার কর্মকর্তারা নতুন করোনাভাইরাসের একটি টাস্কফোর্সের সাথে বৈঠক করেন এবং ভাইরাসের বিস্তারে সাড়া দিতে ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা সম্বন্ধে জানান।

কর্মপন্থা অনুযায়ী রাজধানীর চিকিৎসা ব্যবস্থা বজায় রাখতে বেসরকারি খাতের চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সহায়তা চাওয়া হবে।

বর্তমানে নির্ধারিত সংক্রামক ব্যাধির রোগীদের জন্য ১১৮ টি হাসপাতাল শয্যা রয়েছে।

কর্মকর্তারা গুরুতর রোগীদের চিকিৎসা দিতে এ সংখ্যাকে ৭০০ শয্যায় উন্নীত এবং মাঝারি লক্ষণ দেখা দেওয়া রোগীদের জন্য ৩,৩০০ শয্যা প্রস্তুতের পরিকল্পনা করছেন।

তারা মৃদু লক্ষণ দেখা দেওয়া লোকদের সাধারণ রোগের জন্য নিজ বাড়িতে বা অন্যত্র বাসস্থানে অবস্থান করে বিশ্রাম নিতেও আহবান জানিয়েছে।

আর্থিক বাজারে ডলার সরবরাহ বাড়াবে ব্যাংক অব জাপান

ব্যাংক অব জাপান-বিওজে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সৃষ্ট বাজার অস্থিতিশীলতার কারনে মার্কিন ডলারের সম্ভাব্য বৈশ্বিক স্বল্পতা সম্পর্কে বিনিয়োগকারীদের দুশ্চিন্তা লাঘবে একটি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিওজে কর্মকর্তারা জানান তারা বিশ্বের প্রধান এ মুদ্রাকে আর্থিক বাজারে সাপ্তাহিক সরবরাহের পরিবর্তে দৈনিক ভিত্তিতে সরবরাহ করতে শুরু করেছে।

সোমবার বিওজে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ৭ দিনের মেয়াদ পূর্তিতে ৩ হাজার ৪৮০ কোটি ডলার ঋণ দিয়েছে।

এ পদক্ষেপ মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক এবং ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাংকসহ পাঁচটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাথে সমন্বয়ের অংশ। বিওজে জানায় কমপক্ষে এপ্রিলের শেষ পর্যন্ত প্রতিদিন এ কার্যক্রম চলবে।

বিশ্ব আর্থিক বাজারে সাম্প্রতিক অনিশ্চয়তা ডলার সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে বিনিয়োগকারীদের তাদের শেয়ার, সরকারি বন্ড এবং অন্যান্য শেয়ার বিক্রিতে উৎসাহিত করছে।

বিওজে জানিয়েছে তারল্য সরবরাহ জোরদারের অপর একটি পদক্ষেপ হলো ৮০ হাজার কোটি ইয়েন বা ৭৩০ কোটি ডলারের সমমূল্যের জাপানি সরকারি বন্ড ক্রয়।

করোনা জয় করে আতশবাজি ফুটিয়ে উৎযাপন করছে উহানের মানুষ

করোনা ভাইরাসের উৎপত্তির শহর চীনের উহানে নতুন করে আর কোন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর দেখা মিলছে না। অনেকটাই স্বাভাবিক হতে চলেছে সেখানকার জীবন-যাপন। এতো দ্রুত সময়ের মধ্যে চীনের উহান শহর করোনা মুক্ত হওয়ায় অনেকেই আতশবাজি ফুটিয়ে উল্লাস করছেন।

করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর গত জানুয়ারি মাসে উহান শহর লকডাউন ঘোষণা করা হয়। সবার যাতাযাতে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। কেউ যাতে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাতায়াত করে ভাইরাসটি ছড়াতে না পারে সেই জন্য তল্লাশি চৌকি বসানো হয়।

করোনা ভাইরাসে তরুণদেরও মৃত্যুর সম্ভাবনা-ডাব্লিউএইচও

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে, নতুন করোনাভাইরাস কেবল জ্যেষ্ঠ নাগরিকই নয় পঞ্চাশের নিচের বয়সী ব্যক্তিদেরও মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করতে পারে।

গতকাল জেনেভায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে ডাব্লিউএইচওর মহা পরিচালক টেড্রোস আধানোম ঘেব্রেইয়েসুস, তরুণদের প্রতি এক বার্তা পাঠান।

তিনি বলেন যে তরুণরাও অজেয় নয় এবং করোনাভাইরাস তাদেরকে কয়েক সপ্তাহ হাসপাতালে পাঠাতে অথবা মেরে ফেলতে পারে।

টেড্রোস আরও বলেন যে, চীনের উহান শহরে কোনও নতুন করোনাভাইরাসের খবর পাওয়া যায় নি বলে এই শহর বিশ্বকে নতুন আশা দেখাচ্ছে।

চীনে কর্তৃপক্ষ বলেছে যে, গত বুধবার বিশ্ব মহামারীর এই কেন্দ্রে কোনও নতুন সংক্রমণের ঘটনা ঘটেনি।

টেড্রোস বলেন, উহান বাকি বিশ্বকে এমন আশা দেখায় যে সবচেয়ে গুরুতর পরিস্থিতিও কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

করোনায় বিশ্বজুড়ে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়ালো

বিশ্বজুড়ে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়েছে। যুক্তরাজ্যের জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এমনটি জানানো হয়েছে।

গত ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহর থেকে করোনা ভাইরাসের উৎপত্তি হয়। এরপর থেকেই প্রাণঘাতী এই ভাইরাসটির মৃতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন উৎস থেকে পাওয়া তথ্য সমন্বয় করে একটি টালি প্রকাশ করে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় ।

করোনা ভাইরাস চীন থেকে ছড়িয়ে পড়লেও এতে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ইতালিতে। ইতালিতে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে মারা গেছেন ৩ হাজার৪শ৫জন, আক্রান্ত হয়েছেন ৪১ হাজারের বেশি মানুষ । এদিকে জার্মানি, ইরান, স্পেনে করোনা ভাইরাসে সাড়ে চার হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছেন। এছাড়া করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে মারা গেছেন ২০০ জন।এছাড়া দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১৩ হাজার। দক্ষিণ এশিয়ার দেশ পাকিস্তান, ভারতেও করোনা ভাইরাসে নতুন করে দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

প্রশ্নোত্তরে করোনাভাইরাস

এবারে করোনাভাইরাস নিয়ে আমাদের শ্রোতাদের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন এন এইচ কে’র বিশেষজ্ঞরা। আজকের প্রশ্ন হল, “আমাদের কাপড় আমরা কিভাবে জীবাণু-মুক্ত করতে পারি?” ধুয়ে ফেলার মধ্যে দিয়ে ভাইরাস আমরা মুছে ফেলতে পারি কিনা এবং কাপড় জীবাণু-মুক্ত করায় এলকোহল ব্যবহার করা উচিৎ হবে কিনা, তা আমরা এখানে জানতে পারবো।

জাপানের সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ সমিতির এরিসা সুগাওয়ারা বলছেন, কাপড়ে এলকোহল জীবাণু-মুক্তকরণ ব্যবহারের কোন দরকার নেই। তিনি ব্যাখ্যা দিয়েছেন যে নিয়মিত ধুয়ে নেয়ার প্রক্রিয়ায় অধিকাংশ ভাইরাস মুছে যায়, যদিও নতুন করোনা ভাইরাসের বেলায় এটা এখনও প্রমাণিত হয়নি।

কাশি কিংবা হাঁচি পাওয়ার সময় মুখ ঢেকে রাখার জন্য ব্যবহার করা রুমালের মত যেসব সামগ্রীর বেলায় ভাইরাস সংক্রমিত হওয়ার বিশেষ ঝুঁকি রয়েছে, সেগুলো ১৫ থেকে ২০ মিনিট ফুটন্ত পানিতে ভিজিয়ে রাখার সুপারিশ সুগাওয়ারা করছেন।

ভাইরাস প্রতিরোধ পদক্ষেপ নিয়ে মতামত দেবেন বিশেষজ্ঞরা

জাপান সরকারের একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেল নতুন করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে দেশের নেয়া পদক্ষেপ নিয়ে সর্বশেষ মতামত পেশ করবে। আজ সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এক সংবাদ ব্রিফিংয়ের আগে প্যানেলের মতামতের রূপরেখা প্রকাশ করা হয়েছে।

প্যানেলের বিশেষজ্ঞরা বলছেন জাপান কোন এক পর্যায় পর্যন্ত সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। তবে তারা সতর্ক করে দিয়েছেন যে কিছু কিছু এলাকায় ভাইরাসের বিস্তার অব্যাহত আছে এবং এর থেকে ওভারশুটিং নামে পরিচিত সংক্রমণের বিস্ফোরণমূলক বিস্তার জড়িত থাকা সারা দেশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়া মহামারী দেখা দিতে পারে।

মানুষ যেখানে কাছে থাকা অবস্থায় একে অন্যের সাথে কথা বলেন, সেরকম অপর্যাপ্ত বায়ু প্রবাহ থাকা ভিড়ের জায়গাগুলো এড়িয়ে চলার আহ্বান বিশেষজ্ঞরা জনগণের প্রতি জানাচ্ছেন।

প্যানেল বলছে এখন থেকে আঞ্চলিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে বিস্তার রোধ পদক্ষেপ নেয়া দরকার।

যেসব জায়গায় ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে, সেরকম এলাকাগুলোতে সময় ও স্থায়িত্ব ঠিক করে নেয়ার পর জরুরী অবস্থা জারী কিংবা সবরকম অনুষ্ঠান সীমিত মাত্রায় নামিয়ে আনা বিবেচনা করে দেখার দরকার হবে।

যেসব জায়গায় রোগের বিস্তার কমে আসছে বলে মনে হচ্ছে, সেই এলাকাগুলোতে কম ঝুঁকিপূর্ণ অনুষ্ঠানের উপর থেকে নিয়ন্ত্রণ ক্রমশ তুলে নেয়া বিবেচনা করে দেখা দরকার। তবে সংক্রমণ পুনরায় বৃদ্ধি পাওয়ার চিহ্ন দেখা গেলে কর্মকাণ্ড আবারও বন্ধ রাখতে হবে।

যেসব জায়গায় নিশ্চিত কোন ঘটনা ঘটেনি, সেই এলাকাগুলোতে স্কুলের বিভিন্ন অনুষ্ঠান, ঘরের বাইরে আয়োজিত ক্রীড়ানুষ্ঠান এবং সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ব্যবহারের মত কম ঝুঁকিপূর্ণ অনুষ্ঠান পুনরায় শুরু করা যেতে পারে। বড় আকারের অনুষ্ঠান আয়োজনের বেলায় প্যানেল সতর্কতা বজায় রাখার অনুরোধ জানাচ্ছে।

সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার মুখে জাপানে বিদেশী পর্যটক আগমনে ধ্বস

জাপানের জাতীয় পর্যটন সংগঠন বলছে ফেব্রুয়ারি মাসে জাপান সফর করেছেন সেরকম পর্যটকের সংখ্যা ছিল ১০ লক্ষ ৮ হাজারের সামান্য বেশি, যা হচ্ছে এক বছর আগের একই মাসের চাইতে রেকর্ড পরিমাণ প্রায় ৫৮ শতাংশ হ্রাস। ধ্বসের কারণ হিসেবে সংগঠন নতুন ধরনের করোনাভাইরাসের বিস্তারকে দায়ী করছে। এবার নিয়ে টানা পাঁচ মাস ভ্রমণকারীর সংখ্যা হ্রাস পেল।

চীন থেকে আসা পর্যটকের সংখ্যা ছিল ৮৭,২০০,যা হচ্ছে গত বছরের একই মাসের চাইতে প্রায় ৮৮ শতাংশ কম। দক্ষিণ কোরিয়ার পর্যটকের সংখ্যা প্রায় ৮০ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ১৪৩,৯০০তে দাঁড়ায়।

জাপানের পর্যটন খাতের উপর সংক্রমণ বিস্তারের প্রতিক্রিয়া আরও বেশি মারাত্মক হয়ে উঠছে।

জাপানের ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রতিষেধক করোনা প্রতিরোধে কার্যকর: চীন

করোনা ভাইরাসের প্রকোপ শুরু যেই চীন থেকে, সেখানে আক্রান্তের তুলনায় মৃত্যুর হার সবচাইতে কম। সম্প্রতি দেশটি জানিয়েছে জাপানের ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রতিষেধক করোনা প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম।

চীনের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা জ্যাঙ শিনমিন জানান, জাপানের ফুজিফিল্ম প্রতিষ্ঠানের এক অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রতিষেধক হিসেবে ‘ফাভিপিরাভির’ তৈরি করছে। উহান ও শেনজেনে ৩৪০ রোগীর ওপর এটি দিয়ে পরীক্ষা চালানো হয়। জ্যাঙ বলেন, এটি বেশ নিরাপদ এবং নিশ্চিতভাবে অন্য যে কোন কিছুর চাইতে বেশি কার্যকরী।

এনএইচকে-তে হওয়া এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শেনজিনে এই প্রতিষেধক প্রদান করা রোগীরা আক্রান্ত হওয়ার চারদিনের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন। যেখানে সাধারণ রোগীদের প্রায় ১১ দিন সময় লেগেছে।

রোগীদের এক্স-রে প্রতিবেদনে দেখা যায়, প্রতিষেধক ব্যবহার করা রোগীদের ক্ষেত্রে ফুসফুসের ৯১ ভাগ দ্রুত সুস্থ হয়েছে। অন্যদিকে প্রতিষেধক ব্যবহার না করা রোগীদের ক্ষেত্রে ফুসফুসে সুস্থতা এসেছে ৬২ ভাগ।

অবশ্য এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হয়নি ফুজির এই ওষুধ তৈরিকারী প্রতিষ্ঠান। ২০১৪ সালে এই প্রতিষ্ঠানটি ‘এভিজেন’ নামে পরিচিত ছিলো। বরং জাপানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, এই প্রতিষেধক সম্প্রতি আক্রান্ত রোগীর ক্ষেত্রে ভালো কাজ করলেও একবার ভাইরাস রোগীর শরীরে ছড়িয়ে পড়ার পর খুব একটা কাজ করছে না।

একই রকম ফলাফল পাওয়া গেছে এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর জন্য ব্যবহৃত ওষুধ ও রিটন ভাইরাসের জন্য ব্যবহৃত প্রতিষেধকের ক্ষেত্রে।

করোনায় আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশে প্রথম মৃত্যু

করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১৮মার্চ) বেলা সাড়ে ৩ টার দিকে স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

করোনা ভাইরাসে মারা যাওয়া ব্যক্তি পুরুষ। তার বয়স প্রায় ৭০ বছর। তিনি ডায়াবেটিস রোগী ছিলেন। এ ছাড়াও আরো বেশ কিছু রোগে ভুগছিলেন তিনি।

মীরজাদী সেব্রিনা বলেন, ‘মারা যাওয়া ব্যক্তি বিদেশ থেকে আসা ও সংক্রমিত এক ব্যক্তির মাধ্যমে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন।ওই ব্যক্তি (মারা যাওয়া) উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন। পাশাপাশি তার হার্টে স্টেন্ট পরানো ছিল।’

তিনি আরো বলেন, ‘দেশে এখন পর্যন্ত ১৪ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১০। কিন্তু গত ২৪ ঘণ্টায় এই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৪। নতুন আক্রান্ত চারজনের মধ্যে একজন নারী ও তিনজন পুরুষ।

চীনের বাইরে বেশি সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে: ডব্লিউএইচও মহাপরিচালক

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ডব্লিউএইচও বলছে, চীনের বাইরে নিশ্চিত হওয়া করোনাভাইরাসের মোট সংখ্যা দেশটির ভেতরে নিশ্চিত হওয়া সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে।

ডব্লিউএইচও’র মহাপরিচালক টেড্রোস আডহানোম ঘেব্রেইসুস সোমবার সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন। তিনি বলেন, গত সপ্তাহে কোভিড-১৯ সংক্রমণের ঘটনা অতি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।

টেড্রোস বলেন, চীনের চাইতেও এখন বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে সংক্রমণ এবং মৃত্যুর ঘটনার বেশি খবর পাওয়া গেছে।
ডব্লিউএইচও’র উপাত্তের দেয়া ইঙ্গিত অনুযায়ী সোমবার পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী নিশ্চিত সংক্রমণের সংখ্যা ছিল ১ লক্ষ ৬৮ হাজার ১৯। তাদের মধ্যে ৮৬ হাজার ৯শ ৪২টি সংক্রমণ ঘটেছে চীনের মূল ভূখণ্ডের বাইরের দেশ এবং ভূখণ্ডে।

টেড্রোস বলেন, দেশগুলো যথেষ্ট পরিমাণ “পরীক্ষা, পৃথককরণ এবং সংক্রমিতদের ঘনিষ্ঠ সংযোগে আসা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করছে না”।

এদিকে, ডব্লিউএইচও’র জরুরি স্বাস্থ্য কর্মসূচির প্রযুক্তি-প্রধান মারিয়া ভান-কেরখফ বলেন, প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের হার তুলনামুলকভাবে কম।

তিনি আরও বলেন, এছাড়া, শিশুদের ক্ষেত্রে রোগের উপসর্গও কম হতে দেখা যাচ্ছে।

তবে তিনি বলেন, তা সত্ত্বেও অপেক্ষাকৃত তরুণ প্রজন্মকেও নাজুক ভেবে সুরক্ষা দেয়া উচিত কারণ ভাইরাসের সংক্রমণে কিছু শিশুরও মৃত্যু ঘটেছে।

ভাইরাসের বিরুদ্ধে যৌথ লড়াইয়ের জন্য জি-৭ নেতৃবৃন্দের কাছে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

সাতটি বৃহৎ অর্থনীতির জোট জি-৭ এর অন্যান্য নেতৃত্বের সাথে একটি ভিডিও কনফারেন্স করার সময় করোনাভাইরাস মহামারির বিরুদ্ধে যৌথ লড়াইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনযো আবে।

৫০ মিনিটের ঐ সংলাপের পর আজ আবে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন।

তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের ঔষধ উন্নয়নই যে সর্বাধিকার পাওয়া উচিত, সেটি তিনি অন্য নেতাদের বলেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারা বিশ্বের লোকজনের প্রজ্ঞাকে একত্র করার মধ্যে দিয়ে ঔষধ উন্নয়ন প্রচেষ্টা ত্বরান্বিত করার উপর তিনি জোর দিয়েছেন।

আবে বলেন, তিনি যে অর্থনৈতিক এবং আর্থিক পদক্ষেপ বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন, সেটি এই মহামারির কারণে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ক্ষতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এমন উল্লেখ করে জি-৭ নেতৃবৃন্দ তাকে সমর্থন করেন।

তিনি আরও বলেন, এছাড়া নেতৃবৃন্দ যথাসময়ে টোকিও অলিম্পিক এবং প্যারালিম্পিক অনুষ্ঠান এগিয়ে নেয়ার জন্য জাপানের পরিকল্পনাকেও সমর্থন করেন।