জাপানের জরুরি অবস্থা সম্প্রসারণের প্রস্তুতি

জাপান সরকার, সোমবার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে সারা দেশব্যাপী পরিকল্পিত জরুরি অবস্থার মেয়াদ সম্প্রসারণের বিস্তারিত বিষয়াদি চূড়ান্ত করে নিচ্ছে।

শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী আবে শিনযো, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে বর্তমান অবস্থা বজায় রাখতে তার সরকারের পরিকল্পনার বিষয়ে জানান। উল্লেখ্য, আগামী বুধবার বর্তমান জরুরি অবস্থার মেয়াদ শেষ হবে।

শুক্রবার দিনের প্রথমভাগে সরকারের গঠিত বিশেষজ্ঞদের একটি প্যানেল, নতুন সংক্রমণের সংখ্যায় নিম্নমুখী প্রবণতা প্রতীয়মান হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন। এতে, মানুষের সাথে মানুষের সংস্পর্শতা ৮০ শতাংশ হ্রাস করার লক্ষ্যের বিষয়ে বিভিন্ন বয়স ও অঞ্চল ভেদে মিশ্র ফলাফল দেখা যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

সংক্রমণের সংখ্যার পরিবর্তন এবং প্রত্যেক অঞ্চলের স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থার পরিস্থিতির উপর ভিত্তি করে জরুরি অবস্থার মেয়াদ সম্প্রসারণের সময়সীমা নির্ভর করবে।

অপর একটি বিষয় হচ্ছে, বর্তমানে বিশেষ সতর্ক অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত টোকিও ও অপর ১২টি জেলার সঙ্গে আরও জেলা অন্তর্ভুক্ত করা হবে কিনা।

কানাডার ইতিহাসে প্রথমবারের মত আজান দেয়ার অনুমতি

কানাডার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মসজিদের মাইক থেকে আজান প্রচার করার অনুমতি পেয়েছেন দেশটির মুসলিমরা। কানাডার কয়েকটি শহরে পবিত্র রমজান মাসের জন্য এই অনুমতি দেয়া হয়েছে।

এখন থেকে দেশটির রাজধানী অটোয়ার পাশাপাশি টরেন্টো, এডমন্টন ও হ্যামিল্টন শহরের মসজিদগুলো থেকে জোহর, আসর ও মাগরিবের নামাজের আজান দেয়া যাবে। এসব অঞ্চলের পৌরসভা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এই অনুমতি দেয়া হয়েছে।

হ্যামিল্টন শহরের ‘মাউন্টেন’ মসজিদের ইমাম সাইয়েদ তরা বলেন, কানাডায় বসবাসরত মুসলমানদের জন্য আজকের দিনটি ঐতিহাসিক।

তিনি আরও বলেন, আজান আল্লাহর আহবান যিনি মানুষকে ইবাদতের জন্য আমন্ত্রণ জানান। এতে আমাদের প্রত্যেকের সাড়া দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

ডেইলি সাবাহ’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুসলিম নাগরিকদের অনুরোধের প্রেক্ষিতে রমজান মাস উপলক্ষে এই আজান দেওয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে। রমজান শেষ হওয়ার পর কোনো মসজিদ থেকে আর আজান দেয়া যাবে না।

তবে সাইয়েদ তরা জানান, রমজানের পরও যেন আজান প্রচার করা যায় ও কানাডার প্রতিটি শহর যাতে এ ধরনের অনুমতি পায় সে চেষ্টা চলছে । আনাতোলি, ডেইলি সাবাহ, পার্স টুডে।

করোনা: ভাইরাস ‘ঠেকাতে’ গাড়ি

ভাইরাস ঠেকানোর ব্যবস্থা সম্বলিত গাড়ি বাজারে ছেড়েছে চীনে গাড়ি নির্মাতারা। বলা হচ্ছে, নতুন মডেলের এই গাড়িগুলোতে থাকছে ফেস মাস্ক পরলে যে মাত্রার সুরক্ষা পাওয়া যায় গাড়ির ভেতর সেরকম ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি।

চীনের কয়েকটি বড় গাড়ি নির্মাতা সংস্থা এধরনের গাড়ি বাজারে ছেড়েছে। এর মধ্যে আছে গিলি নামে একটি সংস্থা যারা লন্ডনের রাস্তায় চলা কালো ট্যাক্সি বানায়।

গিলি নামের কোম্পানিটি প্রথম ভাইরাস প্রতিরোধী ব্যবস্থা সম্বলিত তাদের গাড়িটি বাজারে চালু করেছে। বড় শহরে বায়ু দূষণ থেকে মোটরগাড়ির চালকরা কীভাবে সুরক্ষা পেতে পারেন তা নিয়ে কিছু কাজ তারা আগেই করেছিল।

তাদের এই কাজের নাম ছিল ‘স্বাস্থ্যকর গাড়ি প্রকল্প’। এর লক্ষ্য ছিল বাতাসের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র দূষণকণা যাতে গাড়ির ভেতরে ঢুকতে না পারে এবং গাড়ির চালক ও যাত্রীদের শরীরে এসব বিষাক্ত পদার্থ যাতে নি:শ্বাসের সঙ্গে না ঢোকে এমন প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা তৈরি করা।

গিলি এমন জীবাণু প্রতিরোধী পদার্থ তৈরি করছে যাতে গাড়ির ভেতরের জিনিসপত্র এবং গাড়ির দরোজার হ্যান্ডেল জীবাণু মুক্ত থাকে।

গিলির এক মুখপাত্র জানান, অনেক গাড়ির চালক তাদের গাড়িতে লম্বা সময় কাটান, অনেকের কাছে তাদের গাড়ি তাদের ‘দ্বিতীয় বাড়ি’, কাজেই স্বাস্থ্যসম্মত গাড়ি বানাতে পারলে উন্নত জীবনমানের জন্য সেই গাড়ির চাহিদা বাজারে বাড়বে।

তিনি বলেন, তাদের দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যই হবে গাড়িতে চালক ও যাত্রীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার উপকরণ রাখা।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রিটিশ ব্র্যান্ড এমজির মালিক সংস্থা এসএআইসি আরও একটি বাড়তি ফিচার যোগ করেছে তাদের গাড়িতে। এতে গাড়ির ভেতর একটি অতিবেগুনি রশ্মির বাতি ব্যবহার করে গাড়ির শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মাধ্যমে গাড়ির ভেতরের বাতাসকে জীবাণুমুক্ত করা যাবে।

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান গুয়ানঝু অটোমোবাইল তাদের বেশ কয়েকটি নতুন মডেলে তিন ধাপের বাতাস জীবাণুমুক্ত করার ব্যবস্থা বসিয়েছে।

তবে একটি গবেষণা সংস্থা ফ্রস্ট অ্যান্ড সালিভান বলছে এসব নতুন পদক্ষেপ শুধুই চটকদার।

তবে সংস্থার একজন বিশেষজ্ঞ ভিভেক বৈদ্য বলেন, গাড়িকে আরও স্বাস্থ্য-সম্মত, ঝুঁকিমুক্ত করে তোলার অবশ্যই একটা প্রয়াস চলছে। গাড়িতে এসব নতুন সংযোজনের কাজ আগে থেকেই চলছিল। কিন্তু কোভিড নাইনটিনের পর এগুলোকে সামনে আনা অবশ্যই বিক্রিবাটা বাড়ানোর একটা চেষ্টা।

তবে বিষয়টাকে চটকদার বলা মানতে নারাজ চীনের মার্কেট রিসার্চ গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক শন রিয়েন। বিবিসি।

রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত

রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিন জানিয়েছেন, পরীক্ষায় তার দেহে করোনাভাইরাস সনাক্ত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার এক ভিডিও কনফারেন্সে তিনি পরীক্ষার এই ফলাফলের কথা রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে জানান।

মিশুস্তিন, মস্কো’র করোনা নিয়ন্ত্রণ পদক্ষেপ সংক্রান্ত কাজে নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। জানুয়ারি মাসে দিমিত্রি মেদভেদেভ ও তার মন্ত্রিসভা পদত্যাগ করার পর মিশুস্তিন প্রধানমন্ত্রীর পদে আসীন হন।

পুতিন তাকে এই বলে আশ্বস্ত করেন যে ভাইরাসটিতে সংক্রমিত যে কেউই হতে পারেন। এতদিন সুষ্ঠুভাবে কাজ করার জন্য পুতিন তাকে ধন্যবাদ জানান।

চিকিৎসার জন্য মিশুস্তিন হাসপাতালে যতদিন থাকবেন, ততদিন তার কাজের দায়িত্বভার প্রথম উপপ্রধানমন্ত্রী নেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনস্‌ হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া খবরে প্রকাশ, রাশিয়ায় করোনাভাইরাসে সংক্রমণের মোট সংখ্যা বৃহস্পতিবার ১ লক্ষ ছাড়িয়ে গিয়েছে, যা পৃথিবীতে অষ্টম সর্বোচ্চ।

করোনায় প্রাণ হারিয়েছে ২ লাখ ২৭ হাজারেরও বেশি মানুষ

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ৩২ লাখ মানুষ। আর মৃত্যু বরণ করেছে ২ লাখ ২৭ হাজারেরও বেশি মানুষ । তবে সুস্থ হয়েছেন প্রায় ১০ লাখ মানুষ। বৃহস্পতিবার জনস হপকিনস ইউনিভার্সিটি এ তথ্য জানায়।

জনস হপকিনসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩১ লাখ ৯৩ হাজার ৯৬১ জন এবং মারা গেছেন ২ লাখ ২৭ হাজার ৬৪৪ জন। এ ছাড়া, সুস্থ হয়েছেন ৯ লাখ ৭২ হাজার ৭৪১ জন।

করোনা ভাইরাসে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যু যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১০ লাখ ৩৯ হাজার ৯০৯ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৬০ হাজার ৯৬৬ জনের। সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ২০ হাজার ৭২০ জন।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা স্পেনে আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ৩৬ হাজার ৮৯৯ জন এবং মারা গেছেন ২৪ হাজার ২৭৫ জন। সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ৩২ হাজার ৯২৯ জন।

মৃত্যুর দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পর সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে ইতালিতে। এখানে এখন পর্যন্ত ২৭ হাজার ৬৮২ জন মারা গেছেন। আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ৩ হাজার ৫৯১ জন। সুস্থ হয়েছেন ৭১ হাজার ২৫২ জন।

এদিকে, যুক্তরাজ্যে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৬৬ হাজার ৪৪১ জন, মারা গেছেন ২৬ হাজার ১৬৬ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ৮৫৭ জন। ফ্রান্সে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৬৬ হাজার ৫৪৩ জন, মারা গেছেন ২৪ হাজার ১২১ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ৪৯ হাজার ১১৮ জন।

সেপ্টেম্বর মাস থেকে শিক্ষাবর্ষ শুরু করা বিবেচনা করে দেখবে জাপান সরকার

জাপানের প্রধানমন্ত্রী আবে শিনযো বলেছেন শিক্ষাবর্ষের শুরু এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর মাসে বদল করে নেয়া হবে কিনা তা বিবেচনা করে দেখার বেলায় নানারকম বিকল্প তার সরকার যাচাই করে দেখবে।

বুধবার সংসদের নিম্ন কক্ষের বাজেট কমিটির এক বৈঠকে এই রদবদলের আহ্বান নিয়ে আবে মন্তব্য করেন। করোনাভাইরাস মহামারির ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ থাকায় কিছু কিছু জেলা গভর্নর ও বিরোধী দল চাইছে শিক্ষাবর্ষের শুরু যেন সেপ্টেম্বর মাসে পিছিয়ে দেয়া হয়।

আবে বলেছেন কিছু লোকজন যে বিচক্ষণতা প্রদর্শনের আহ্বান জানাচ্ছেন সে বিষয়ে তিনি অবগত আছেন, তবে নানারকম বিকল্প পরীক্ষা করে দেখায় আগ্রহী থাকার ইঙ্গিত তিনি দেন।

এই ধারণা সমর্থন করা সরকার ও ক্ষমতাসীন শিবিরের কর্মকর্তারা বলছেন এই রদবদল স্কুল বন্ধ রাখার ফলে শিক্ষা ব্যাহত হওয়ার ক্ষতি পূরণ করে নেয়া সম্ভব করে তুলবে এবং শিক্ষার সুযোগে দেখা দেয়া ব্যবধান দূর করবে।

তারা আরও বলছেন জাপানিদের জন্য এটা শরৎকালে শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়া বিদেশে লেখাপড়া করা সহজ করে তুলবে।

জাপানে করোনা সংক্রমণ ১৩,৯০০ ছাড়িয়ে গেছে

সারা দেশে নতুন আরও ২৮টি সংক্রমণের ঘোষণা প্রচারিত হওয়ার পর জাপানে করোনাভাইরাস সংক্রমণ সনাক্ত হওয়া সংখ্যা বুধবার দুপুরে ১৩,৯২৩টিতে বৃদ্ধি পেয়েছে।

এই হিসাবে বিমানবন্দরের কোয়ারেন্টিন স্টেশনগুলোতে চালানো পরীক্ষায় ইতিবাচক সনাক্ত হওয়া লোকজন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, কোয়ারেন্টিন কর্মকর্তা এবং সরকারের ভাড়া করা বিমানে চীন থেকে জাপানে যারা ফিরে এসেছেন তারা অন্তর্ভুক্ত আছেন। এছাড়া পশ্চিম জাপানের নাগাসাকিতে নোঙর করা প্রমোদ তরী কোস্টা আটলান্টিকার ক্রুদের মধ্যে করোনা সংক্রমণও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এর বাইরে ফেব্রুয়ারি মাসে ইয়োকোহামা বন্দরে কোয়ারেন্টিন করে রাখা প্রমোদ তরী ডায়মন্ড প্রিন্সেসের ৭১২টি ঘটনা অন্তর্ভুক্ত করা হলে মোট সংখ্যা দাঁড়াবে ১৪,৬৩৫টি।

জাপানে মৃত্যুর সংখ্যা ডায়মন্ড প্রিন্সেসের ১৩টি সহ ৪২৭টিতে উন্নীত হয়েছে।

৩৮টি দেশে বিনামূল্যে ইনফ্লুয়েঞ্জার ওষুধ এভিগান সরবরাহ করবে জাপান

জাপান খুব দ্রুতই কোভিড-১৯এর সম্ভাব্য চিকিৎসা হিসেবে বিবেচিত ইনফ্লুয়েঞ্জার ওষুধ এভিগান ৩৮টি দেশে বিনামূল্যে সরবরাহ করবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোতেগি তোশিমিৎসু বলেছেন নেদারল্যান্ডস, ফিলিপিন ও মালয়েশিয়া অন্তর্ভুক্ত থাকা সেইসব দেশ জাপানের একটি কোম্পানির উদ্ভাবিত ইনফ্লুয়েঞ্জা চিকিৎসার ওষুধ লাভ করবে।

তিনি উল্লেখ করেছেন জাপান সরকারের বিনামূল্যে দেয়ার প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে যে ৭০টির বেশি দেশ এভিগান সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছে, এই দেশগুলো সেই তালিকার অন্তর্ভুক্ত।

মোতেগি বলেছেন ওষুধের সরবরাহ পাওয়া দেশগুলো ক্লিনিকাল পরীক্ষার উপাত্ত জাপানে পাঠাবে।

মহামারী প্রতিহত করায় রোগের চিকিৎসার ওষুধ উদ্ভাবন যে গুরুত্বপূর্ণ তার উপর তিনি জোর দেন। তিনি বলেছেন ভাইরাসের চিকিৎসার ওষুধ আবিষ্কারে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা তিনি এগিয়ে নেবেন।

বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা ৩০ লক্ষ ছাড়িয়ে গেছে

যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রণীত উপাত্ত থেকে দেখা যাচ্ছে যে, করোনাভাইরাসে নিশ্চিতভাবে আক্রান্ত হওয়া লোকের সংখ্যা বিশ্বব্যাপী ৩০ লক্ষ ছাড়িয়ে গেছে।

জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় জানায়, সোমবার আন্তর্জাতিকমান সময় সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বৈশ্বিকভাবে মোট আক্রান্ত ঘটনার সংখ্যা দাঁড়ায় ৩০ লক্ষ ২ হাজার ৩০৩-এ।

৯ লক্ষ ৭২ হাজার ৯৬৯টি সংক্রমণের সংখ্যা নিয়ে শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, এরপর ২ লক্ষ ২৯ হাজার ৪২২টি সংক্রমণের সংখ্যা নিয়ে রয়েছে স্পেন, ইতালি’তে আক্রান্তের সংখ্যা হচ্ছে ১ লক্ষ ৯৯ হাজার ৪১৪টি, ফ্রান্সে ১ লক্ষ ৬২ হাজার ২২০টি এবং জার্মানিতে ১ লক্ষ ৫৮ হাজার ১৪২টি।

বিশ্বব্যাপী মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় ২ লক্ষ ৮ হাজার ১৩১-এ। যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি লোক মারা যান, সেখানে মৃতের সংখ্যা ৫৫ হাজার ১১৮। এরপর ২৬ হাজার ৯৭৭ জন মারা যান ইতালি’তে, স্পেনে মারা যান ২৩ হাজার ৫২১ জন, ফ্রান্সে মারা যান ২২ হাজার ৮৫৬ জন এবং যুক্তরাজ্যে মারা যান ২০ হাজার ৭৩২ জন।

টিকা প্রদান কর্মসূচি স্থগিত করা নিয়ে উদ্বিগ্ন ডব্লিউএইচও

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ডব্লিউএইচও’র শীর্ষ কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে কোভিড-১৯ ব্যতিরেকে অন্যান্য ছোঁয়াচে রেগের বিরুদ্ধে শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

সোমবার জেনেভায় বিশ্ব টিকাদান সপ্তাহের শুরুতে ডব্লিউএইচও’র সদরদপ্তরে একটি নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন সংস্থার মহাপরিচালক তেদ্রোস আদহানোম ঘেব্রেইসাস।

করোনাভাইরাস বৈশ্বিক মহামারি শেষ হতে এখনও অনেক দেরি আছে, সেটির উপর গুরুত্ব দিয়ে তেদ্রোস বলেন, আফ্রিকা, পূর্ব ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা এবং কয়েকটি এশীয় দেশে সংক্রমণের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন ডব্লিউএইচও।

এমনকি দৃশ্যত সংক্রমণের সংখ্যা কমে আসা এরকম দেশগুলোতেও সম্ভাব্য দ্বিতীয় একটি সংক্রমণের ঢেউ আঘাত হানার ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়ে তিনি ভাইরাস বিরোধী পদক্ষেপ অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্বারোপ করেন।

ডব্লিউএইচও প্রধান আরও সতর্ক করেন যে পোলিও এবং হামের মত অন্যান্য ছোঁয়াচে রোগের টিকাদান প্রচেষ্টায় করোনাভাইরাস বৈশ্বিক মহামারি বিঘ্ন ঘটানোর কারণে অনেক শিশুর মৃত্যু হবে।

তিনি বলেন, সীমান্ত বন্ধ রাখার পাশাপাশি ভ্রমণে বিঘ্ন ঘটার কারণে অন্যান্য ছোঁয়াচে রোগের জন্য টিকা স্বল্পতার খবর জানিয়েছে কিছু দেশ ।

তেদ্রোস উল্লেখ করেন যে পোলিও এবং হাম’সহ অন্যান্য কয়েকটি রোগের বিরুদ্ধে কিছু টিকাদান কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। এই কর্মসুচিগুলোতে বিশ্বব্যাপী ১ কোটি ৩০ লক্ষ টিকা দেয়া হয়নি, এমন শিশুদের লক্ষ্য হিসেবে ধরা হয়েছে।

ইসলাম বুঝতে রোজা রাখছেন অমুসলিম ব্রিটিশ এমপি

বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাসের মহামারিতে প্রাণ গেছে হাজার হাজার মানুষ। বিশ্বের এমন পরিস্থিতিতে শুরু হয়েছে মুসলিমদের ইবাদতের মাস মাহে রমজান। ব্রিটেনে রোজা শুরু হয়েছে শুক্রবার হতে। আর এই রোজার মাসে ইসলাম ধর্মকে আরো ভালোভাবে বুঝতে রোজা রাখছেন ব্রিটিশ অমুসলিম এমপি পল ব্রিস্টো।

ইংল্যান্ডের পিটারবারোরের কনজারভেটিভ পার্টির সাংসদ পল ব্রিস্টো। রোজার রাখার বিষয়টি জানিয়ে টুইটারে এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, রমজান হলো উপাসনার সময়। রমজানের প্রথম সপ্তাহে আমিও রোজা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি মুসলমান নই। তবে আমার শহর পিটারবারোতে বসবাসরত আনুমানিক ২০ হাজার মুসলমানের সঙ্গে এই অভিজ্ঞতা নিতে চাই। আমি ইসলাম সম্পর্কে আরো ভালোভাবে বুঝতে চাই।

করোনা মহামারির কারণে যুক্তরাজ্যজুড়ে চলছে লকডাউন। এর মধ্যে রমজানে কীভাবে কী করতে হবে সেই বিষয়ে বিশেষ নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেন (এমসিবি)।

যুক্তরাজ্যজুড়ে অনেকগুলো মসজিদ তাদের অনলাইন প্রোগ্রাম চালু করেছে। এরই মধ্যে ইমামরা তাদের সম্প্রদায়ের সঙ্গে সামাজিক দূরত্ব মেনে মিশে মনোবল বৃদ্ধির করার চেষ্টা করছেন। মিডিলইস্ট মনিটর।

ভিক্ষুকের মহানুভবতার প্রশংসা করলেন প্রধানমন্ত্রী

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে ঘরবন্দী কর্মহীন মানুষের খাদ্য সহায়তার জন্য, উপজেলা প্রশাসনের তহবিলে ১০ হাজার টাকা দান করা ভিক্ষুক নাজিমুদ্দিনের মহানুভবতার প্রশংসা করেছেন স্বয়ং সরকার প্রধান শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘তার কাছ থেকেও শেখার আছে অনেক কিছু। এই ঘটনা বিশ্বে উদারতার এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো।’

সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় রাজশাহী বিভাগের ৮ জেলার মাঠ প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময়, ত্রাণ সহায়তাসহ দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি মোকাবেলায় নানান দিকনির্দেশনা তুলে ধরেন সরকার প্রধান। প্রসঙ্গক্রমে, শেরপুরের নাজিমউদ্দিনের মহানুভবতার কথা উঠে আসে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে।

তিনি বলেন, ‘শেরপুরের এক কৃষক…নাম নাজিমউদ্দিন; তিনি ভিক্ষা করে দিন চালান। একেবারেই সাধারণ মানুষ; একসময় কৃষিকাজ করতো উনি। অ্যাক্সিডেন্টে তার পা ভেঙে যায়, তারপর আর কাজ করতে পারেনি। এখন ভিক্ষা করে। ভিক্ষা করে করে দশ হাজার টাকা সে জমিয়েছিলো, থাকার ঘরটা ঠিক করবেন বলে; মাত্র একটা ছেঁড়া কাপড় তার গায়ে। ঘরে ঠিকঠাক খাবারও নেই তার। তারপরও সেই মানুষটা তার জমানো ১০ হাজার টাকা তুলে দিয়েছে- করোনা ভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যের জন্য।’

শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে জানান, ‘তার মতো নিঃস্ব মানুষ যা করেছেন, এতবড় মানবিক গুণ সমাজের অনেক বিত্তশালীর মধ্যেও নেই। তার কাছে তো ১০ হাজার টাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিলো।’সে ঐ টাকা দিয়ে জামা-কাপড় কিনতে পারতেন, ঘরের খাবার কিনতে পারতেন; করোনা ভাইরাসে নানা ধরনের অসুবিধা। সেসব নিয়েও চিন্তা করতে পারতো। কিচ্ছু ভাবেননি তিনি। তারপরও তার শেষ সম্বলটুকু তিনি দান করে গেছেন।’

সমাজের স্বচ্ছল ও বিত্তবানদের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান শেখ হাসিনা। কিছুটা আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ‘আসলে উনি (ভিক্ষুক নাজিমউদ্দিন) যে উদারতাটা দেখিয়েছেন, বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে কিন্তু এই মানবিক বোধটা এখনো আছেই; কিন্তু সেটা আমরা পাই শুধু নিঃস্বদের কাছেই।’ শেখ হাসিনা জানান, ‘অনেক সময় দেখি বিত্তশালীরা শুধু হা-হুতাশ করে বেড়ায়। তাদের মধ্যে নাই নাই অভ্যাসটাই যায় না; ঐ চাইচাই ভাবটাই যেন সবসময় থেকে যায়।

জাপানে জরুরি অবস্থা ৬ মে পুরোপুরি না তোলার সম্ভাবনা

জাপান সরকারের কর্মকর্তারা অধিকতরভাবে এরকম অভিমত জানাচ্ছেন যে মে মাসের শুরুর দিকে জরুরি অবস্থা পুরোপুরি তুলে নেয়া কঠিন হবে। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী সংক্রমণের গতি শ্লথ হচ্ছে না।

উল্লেখ্য, এপ্রিল মাসের ৭ তারিখ সরকার টোকিও এবং ওসাকা’সহ আরও পাঁচটি জেলার জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে। আর এপ্রিল মাসের ১৬ তারিখ ঘোষণাটি দেশব্যাপী বিস্তৃত করে নেয় তারা।

কর্মকর্তারা সারা দেশের পরিস্থিতির উপর ঘনিষ্ঠভাবে নজর রেখে চলেছেন। লোকজনের পারস্পরিক সংযোগ ৮০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে কিনা এবং চিকিৎসা স্থাপনাগুলোতে পরিস্থিতি কী রকম, সে সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের মতামত শোনার পর তারা বিবেচনা করে দেখবেন যে মে মাসের ৬ তারিখের পরও জরুরি অবস্থা বৃদ্ধি করে নেয়া হবে কিনা।

অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন মন্ত্রী নিশিমুরা ইয়াসুতোশি এনএইচকে’র এক অনুষ্ঠানে বলেন, স্কুল এবং কোম্পানিগুলো যাতে প্রস্তুতি নিতে পারে, সেকারণে যথেষ্ট সময় আগে সরকারের এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার প্রয়োজন রয়েছে। উল্লেখ্য, তিনি করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সরকারের কার্যক্রমের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংখ্যা হ্রাস পেতে শুরু করলেও টোকিও এবং ওসাকায় দৈনিক নিশ্চিত সংক্রমণের সংখ্যা তাদের প্রত্যাশার চাইতে বেশি হচ্ছে।

করোনাভাইরাসে সারাবিশ্বে মৃতের সংখ্যা ২ লাখ ছাড়িয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা, করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে সারাবিশ্বে মৃতের সংখ্যা ২ লাখ ছাড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন।

মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়টি, আন্তর্জাতিক মান সময় শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত করোনাভাইরাসে নিশ্চিত সংক্রমণের সংখ্যা ২৮ লাখ ৬৫ হাজার ৯৩৮টি এবং মৃতের সংখ্যা ২ লাখ ৬৯৮টিতে পৌঁছেছে বলে জানায়।

যুক্তরাষ্ট্রে, মোট সংক্রমণের সংখ্যা ৯ লাখ ২০ হাজারের বেশী এবং মৃতের সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার নিবন্ধন করা হয়।

শনিবার নিউইয়র্কের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুওমো, করোনাভাইরাসের পরীক্ষার সক্ষমতা জোরদার করতে পুরো অঙ্গরাজ্যের ৫ হাজার ফার্মেসিকে করোনাভাইরাস পরীক্ষার অনুমতি প্রদান করা হবে বলে জানান।

এতে, ঘটনাস্থলে প্রথম উপস্থিত হওয়া কর্মী, স্বাস্থ্য সেবা কর্মী এবং গুরুত্বপূর্ণ কর্মীরা এই পরীক্ষার জন্য যোগ্য হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কুওমো, এই সংকট চলাকালে এবং অন্যান্যদের সাথে মিথস্ক্রিয়ার জন্য পুলিশ সদস্য এবং গণপরিবহনের চালক এই পরীক্ষার আওতাভুক্ত হবেন বলে জানান।

তিনি, এসকল লোকজন সংক্রমিত হলে তাঁরা বিপুল সংখ্যক লোকজনের মাঝে এই ভাইরাস ছড়িয়ে দিতে পারেন বলেও উল্লেখ করেন।

করোনায় বিশ্বব্যাপী মৃতের সংখ্যা ২ লাখ ছাড়ালো

করোনা ভাইরাস কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। প্রতিদিনই লম্বা হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। বিশ্বের ২১০টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দুই লাখের বেশি মানুষ মারা গিয়েছে। শনিবার রাতে জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটির প্রাপ্ত পরিসংখ্যান দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

সমীক্ষায় দেখা গেছে, করোনা ভাইরাসে ২.৮ মিলিয়নেরও বেশি আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে মারাত্মক প্রকোপ সহ্য হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রকে। এ নিয়ে দেশটিতে ৯ লাখ ৪৫ হাজার ২৪৯ জনের শরীরে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে। এ সময় মারা গেছেন ৫৩ হাজার ২৪৩ জন মানুষ।

মৃতের সংখ্যায় আমেরিকার পরেই রয়েছে ইউরোপের দেশ ইতালি। নতুন ৪১৫ জনসহ দেশটিতে মারা গেছেন ২৬ হাজার ৩৮৪ জনের। দেশটিতে নতুন করে শনাক্ত হয়েছে দুই হাজার ৩৫৭ জন।

মৃতের দিক থেকে তৃতীয় স্থানে থাকা স্পেনে অবশ্য ইতালির চেয়েও বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। সেখানে আক্রান্ত হয়েছেন দুই লাখ ২৩ হাজার ৭৫৯ জন। আর মারা গেছেন ২২ হাজার ৯০২ জন। এছাড়া, ফ্রান্সে ২২ হাজার ৬১৪ জন, ব্রিটেনে ২০ হাজার ৩১৯, জার্মানিতে ৫ হাজার ৮০৫ মৃত্যুবরণ করেছেন।